Hi

১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিবার পরিচালিত ক্রিপ্টো ব্যবসায় আয়ের উৎস নিয়ে ট্রাম্পের দাবি, তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্থিক লেনদেন ও আয়ের উৎস বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। সম্প্রতি ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণীতে তার পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত ব্যবসায় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আয়ের তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ উপার্জনের বিষয়ে নিজের অজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন খোদ ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তার পরিবারের এই ক্রিপ্টো ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না এবং এটি তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়নি।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই ২.২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আয়ের বড় একটি অংশ এসেছে রিয়েল এস্টেট, বিলাসবহুল ঘড়ি এবং গিটার বিক্রির মতো খাত থেকে। যদিও ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে অর্জিত মুনাফা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন বা প্রভাবশালীদের তালিকায় থাকা অবস্থায় এমন বিশাল অঙ্কের মুনাফা অর্জন নৈতিকতার জায়গা থেকে কতটা স্বচ্ছ, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে, তার পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্কট বেসেন্ট এই আয়ের বিষয়টিকে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন অর্থনীতি বর্তমানে যে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কাটিয়ে উঠতে এই ধরনের বিনিয়োগ ও মুনাফা সহায়ক হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই ‘অজ্ঞতা’র দাবির বিপরীতে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ সংশয় প্রকাশ করেছেন। রিপাবলিকান সমর্থক বা মাগা (MAGA) বেস এই ইস্যুতে এখন পর্যন্ত খুব একটা সরব হয়নি, যা রাজনীতির বিশ্লেষকদের কাছে বেশ কৌতূহলের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের এই বিশাল আয় কেবল ক্রিপ্টোকারেন্সি কেন্দ্রিক নয়, বরং তার বহুমুখী ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের প্রতিফলন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদের মর্যাদা ও ব্যবসায়িক মুনাফার মধ্যে রেখা টেনে দেওয়াটা যে কতটা কঠিন, তা এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল। ট্রাম্পের পরিবারের এই আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে আগামীতে আরও আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, অন্যদিকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎস নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয়

স্ত্রীকে কিডনি দিতে প্রস্তুত স্বামী, অর্থাভাবে থমকে আছে জীবন বাঁচানোর লড়াই

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পরিবার পরিচালিত ক্রিপ্টো ব্যবসায় আয়ের উৎস নিয়ে ট্রাম্পের দাবি, তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক

আপডেট : ০৯:৪৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্থিক লেনদেন ও আয়ের উৎস বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। সম্প্রতি ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণীতে তার পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত ব্যবসায় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আয়ের তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ উপার্জনের বিষয়ে নিজের অজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন খোদ ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তার পরিবারের এই ক্রিপ্টো ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না এবং এটি তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়নি।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই ২.২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আয়ের বড় একটি অংশ এসেছে রিয়েল এস্টেট, বিলাসবহুল ঘড়ি এবং গিটার বিক্রির মতো খাত থেকে। যদিও ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে অর্জিত মুনাফা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন বা প্রভাবশালীদের তালিকায় থাকা অবস্থায় এমন বিশাল অঙ্কের মুনাফা অর্জন নৈতিকতার জায়গা থেকে কতটা স্বচ্ছ, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে, তার পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্কট বেসেন্ট এই আয়ের বিষয়টিকে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন অর্থনীতি বর্তমানে যে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কাটিয়ে উঠতে এই ধরনের বিনিয়োগ ও মুনাফা সহায়ক হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই ‘অজ্ঞতা’র দাবির বিপরীতে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ সংশয় প্রকাশ করেছেন। রিপাবলিকান সমর্থক বা মাগা (MAGA) বেস এই ইস্যুতে এখন পর্যন্ত খুব একটা সরব হয়নি, যা রাজনীতির বিশ্লেষকদের কাছে বেশ কৌতূহলের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের এই বিশাল আয় কেবল ক্রিপ্টোকারেন্সি কেন্দ্রিক নয়, বরং তার বহুমুখী ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের প্রতিফলন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদের মর্যাদা ও ব্যবসায়িক মুনাফার মধ্যে রেখা টেনে দেওয়াটা যে কতটা কঠিন, তা এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল। ট্রাম্পের পরিবারের এই আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে আগামীতে আরও আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, অন্যদিকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎস নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।