Hi

০১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই-আগস্টে বন্যার উচ্চঝুঁকি: ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় সতর্কবার্তা

চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। উজানে ভারী বৃষ্টিপাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে নদীগুলোর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এসেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঐতিহাসিকভাবে এই দুই মাসে বাংলাদেশে বন্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা—এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে পানির উচ্চপ্রবাহ দেখা দেওয়াটা সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। ২০০৪ সালের জুলাইয়ের শেষভাগে এমন যুগপৎ প্রবাহের ফলে সৃষ্ট বন্যায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এছাড়া ২০২২ এবং ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক বন্যাগুলো উজানে অতিবৃষ্টির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চরম আবহাওয়ার কারণে নদী অববাহিকাগুলোতে পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা জনজীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

বর্তমানে এফএফডব্লিউসি অভ্যন্তরীণ নদীগুলোর জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগে পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হলেও উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষেত্রে তা তিনদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানি আগামী কয়েক দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেলেও তা আপাতত বিপৎসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য লঘুচাপের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের তারাপুর, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিসহ বেশ কিছু পয়েন্টে নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদী তীরবর্তী জেলা প্রশাসনগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

জুমার দুই খুতবার মাঝে খতিব কেন বসেন? ইসলামি বিধান ও তাৎপর্য

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জুলাই-আগস্টে বন্যার উচ্চঝুঁকি: ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় সতর্কবার্তা

আপডেট : ১১:৪৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। উজানে ভারী বৃষ্টিপাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে নদীগুলোর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এসেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঐতিহাসিকভাবে এই দুই মাসে বাংলাদেশে বন্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা—এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে পানির উচ্চপ্রবাহ দেখা দেওয়াটা সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। ২০০৪ সালের জুলাইয়ের শেষভাগে এমন যুগপৎ প্রবাহের ফলে সৃষ্ট বন্যায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এছাড়া ২০২২ এবং ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক বন্যাগুলো উজানে অতিবৃষ্টির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চরম আবহাওয়ার কারণে নদী অববাহিকাগুলোতে পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা জনজীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

বর্তমানে এফএফডব্লিউসি অভ্যন্তরীণ নদীগুলোর জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগে পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হলেও উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষেত্রে তা তিনদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানি আগামী কয়েক দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেলেও তা আপাতত বিপৎসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য লঘুচাপের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের তারাপুর, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিসহ বেশ কিছু পয়েন্টে নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদী তীরবর্তী জেলা প্রশাসনগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।