Hi

০১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য বরদাশত করা হবে না: ডা. শফিকুর রহমান

নেত্রকোণা সফরকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার নেত্রকোণা সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি অভিযোগ করেন যে, অতীতে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে উন্নয়ন বরাদ্দে একচেটিয়া সুবিধা ভোগ করেছেন, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নেত্রকোণা জেলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, এই জনপদ প্রাকৃতিক সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। জেলার সাদামাটির পাহাড় এবং সিলিকা বালুর মতো মূল্যবান সম্পদ থাকা সত্ত্বেও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে জেলাটি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবকেই তিনি এই পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় এবং বহিরাগত বিনিয়োগকারীদের এই জেলায় শিল্প স্থাপনের আহ্বান জানান, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল হয়।

জেলা জামায়াতের আমির ছাদেক আহমদ হারিছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুশাসন ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন এবং নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জহিরুল ইসলাম।

মতবিনিময় সভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান নেত্রকোণা জেলা পাবলিক হলে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর ষাণ্মাসিক রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে।

জনপ্রিয়

ন্যায়বিচারের বাতিঘর: সোনিয়া সোতোমেয়রের অদম্য জীবন ও মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ইতিহাস গড়ার গল্প

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য বরদাশত করা হবে না: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট : ১২:৪৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোণা সফরকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার নেত্রকোণা সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি অভিযোগ করেন যে, অতীতে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে উন্নয়ন বরাদ্দে একচেটিয়া সুবিধা ভোগ করেছেন, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নেত্রকোণা জেলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, এই জনপদ প্রাকৃতিক সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। জেলার সাদামাটির পাহাড় এবং সিলিকা বালুর মতো মূল্যবান সম্পদ থাকা সত্ত্বেও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে জেলাটি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবকেই তিনি এই পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় এবং বহিরাগত বিনিয়োগকারীদের এই জেলায় শিল্প স্থাপনের আহ্বান জানান, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল হয়।

জেলা জামায়াতের আমির ছাদেক আহমদ হারিছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুশাসন ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন এবং নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জহিরুল ইসলাম।

মতবিনিময় সভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান নেত্রকোণা জেলা পাবলিক হলে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর ষাণ্মাসিক রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে।