Hi

১২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালীর উত্তাল জলসীমায় অস্থিরতা ও অনিশ্চিত জীবন: বন্দর আব্বাসের এক টুকরো চিত্র

বিশ্ব ভূ-রাজনীতির অন্যতম সংবেদনশীল পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ সরাসরি গিয়ে লেগেছে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনে। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইরানের বন্দর আব্বাস শহরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার করুণ ও অনিশ্চিত চিত্র। একদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ, অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনার আতঙ্ক—সব মিলিয়ে এই বন্দর নগরীর বাসিন্দারা এক অদ্ভুত অস্থিরতার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

বন্দর আব্বাসের সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে দিগন্তের দিকে তাকালে এখন আর কেবল বাণিজ্যের ব্যস্ততা চোখে পড়ে না, বরং দেখা মেলে যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত। স্থানীয় জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সমুদ্রের বুক চিরে মাছ ধরার যে স্বাভাবিক ছন্দ ছিল, তা এখন অনেকাংশেই বিঘ্নিত। বিশেষ করে হাঙর শিকারি জেলেদের জন্য এই জলসীমা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ইরানের নজরদারি এবং পাল্টা পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতির ফলে সাধারণ মৎস্যজীবীদের পেশাগত নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন জাহাজ আটকের ঘটনা সাধারণ ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শহরটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি সমুদ্রকেন্দ্রিক। কিন্তু গত কয়েক মাসে ইরান-ইসরায়েল ও মার্কিন সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে বন্দর আব্বাসের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য এবং আমদানিনির্ভর পণ্যের সংকট তাদের জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। যদিও আপাতদৃষ্টিতে শহরটিতে এক ধরণের ‘অস্থির প্রশান্তি’ বিরাজ করছে, কিন্তু এই নীরবতার পেছনে রয়েছে চরম আতঙ্ক। যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ভয় স্থানীয়দের চিন্তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হওয়ায় এখানে সামান্য উত্তেজনাও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ইরানের অর্থনীতিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং আঞ্চলিক সামরিক উত্তাপের ফলে বন্দর আব্বাসের মানুষ এখন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত। বিবিসির প্রতিবেদনে এটি স্পষ্ট যে, ভূ-রাজনীতির মারপ্যাঁচে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ও জীবিকা কীভাবে পিষ্ট হচ্ছে, তার এক জলন্ত উদাহরণ এই বন্দর নগরী। আপাতদৃষ্টিতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে জমাট বাঁধা এই অনিশ্চয়তা যে কোনো সময় বড় ধরনের সংকটের পূর্বাভাস হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।

জনপ্রিয়

জুলাই-আগস্টে বন্যার উচ্চঝুঁকি: ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় সতর্কবার্তা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হরমুজ প্রণালীর উত্তাল জলসীমায় অস্থিরতা ও অনিশ্চিত জীবন: বন্দর আব্বাসের এক টুকরো চিত্র

আপডেট : ১১:০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব ভূ-রাজনীতির অন্যতম সংবেদনশীল পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ সরাসরি গিয়ে লেগেছে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনে। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইরানের বন্দর আব্বাস শহরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার করুণ ও অনিশ্চিত চিত্র। একদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ, অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনার আতঙ্ক—সব মিলিয়ে এই বন্দর নগরীর বাসিন্দারা এক অদ্ভুত অস্থিরতার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

বন্দর আব্বাসের সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে দিগন্তের দিকে তাকালে এখন আর কেবল বাণিজ্যের ব্যস্ততা চোখে পড়ে না, বরং দেখা মেলে যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত। স্থানীয় জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সমুদ্রের বুক চিরে মাছ ধরার যে স্বাভাবিক ছন্দ ছিল, তা এখন অনেকাংশেই বিঘ্নিত। বিশেষ করে হাঙর শিকারি জেলেদের জন্য এই জলসীমা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ইরানের নজরদারি এবং পাল্টা পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতির ফলে সাধারণ মৎস্যজীবীদের পেশাগত নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন জাহাজ আটকের ঘটনা সাধারণ ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শহরটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি সমুদ্রকেন্দ্রিক। কিন্তু গত কয়েক মাসে ইরান-ইসরায়েল ও মার্কিন সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে বন্দর আব্বাসের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য এবং আমদানিনির্ভর পণ্যের সংকট তাদের জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। যদিও আপাতদৃষ্টিতে শহরটিতে এক ধরণের ‘অস্থির প্রশান্তি’ বিরাজ করছে, কিন্তু এই নীরবতার পেছনে রয়েছে চরম আতঙ্ক। যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ভয় স্থানীয়দের চিন্তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হওয়ায় এখানে সামান্য উত্তেজনাও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ইরানের অর্থনীতিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং আঞ্চলিক সামরিক উত্তাপের ফলে বন্দর আব্বাসের মানুষ এখন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত। বিবিসির প্রতিবেদনে এটি স্পষ্ট যে, ভূ-রাজনীতির মারপ্যাঁচে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ও জীবিকা কীভাবে পিষ্ট হচ্ছে, তার এক জলন্ত উদাহরণ এই বন্দর নগরী। আপাতদৃষ্টিতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে জমাট বাঁধা এই অনিশ্চয়তা যে কোনো সময় বড় ধরনের সংকটের পূর্বাভাস হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।