ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুই বছর বয়সী শিশু ক্লাইবার মোরানকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৪৪ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শিশুটির বেঁচে ফেরার ঘটনাকে স্থানীয়রা ‘অলৌকিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। এই উদ্ধার অভিযানটি কেবল একটি শিশুর জীবন বাঁচানোর গল্প নয়, বরং দুর্যোগের ভয়াবহতায় দিশেহারা মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। উদ্ধারকর্মীরা যখন তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনেন, তখন তার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। দীর্ঘ সময় পানিশূন্যতা এবং খাদ্যের অভাবে সে অনেকটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। তবে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে সে এখন ধীরে ধীরে সেরে উঠছে।
শিশুটির এই বেঁচে ফেরার খবরে আবেগাপ্লুত তার পরিবার। ক্লাইবারের খালা বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, শিশুটির মা-বাবা এই ভয়াবহ দুর্যোগে নিখোঁজ রয়েছেন, যার ফলে সে এখন অনেকটা অভিভাবকহীন। তবে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, ক্লাইবারকে তিনি নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখবেন এবং তাকে মায়ের মমতা দিয়ে বড় করবেন। এই কঠিন সময়ে পরিবারের এমন সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনমনে গভীর সহমর্মিতার সৃষ্টি করেছে। উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় এই উদ্ধার অভিযানটি সফল হয়, যা বিপর্যয়ের মুখে মানুষের ঐক্যবদ্ধ শক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। উদ্ধারকাজ এখনো চলমান রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ক্লাইবারের এই অলৌকিক বেঁচে ফেরা ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও এক টুকরো স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই উদ্ধার অভিযানের প্রশংসা করেছে এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুটির শারীরিক উন্নতির পাশাপাশি তার মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
রিপোর্টার নাম: 






















