বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে হেরে আকস্মিক বিদায় ঘটেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। ফুটবলপ্রেমীদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা আর সেলেসাওদের ঐতিহাসিক অর্জনের বিচারে এই পরাজয়কে বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবেই গণ্য করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। মাঠের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়ের পর ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠলেও কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে না ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। ইতালিয়ান এই অভিজ্ঞ মাস্টারমাইন্ডের অধীনেই ২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপকে লক্ষ্য রেখে নতুনভাবে দল পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ব্রাজিল ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিশ্বকাপের ক্লান্তি ও ছুটি কাটিয়ে সম্প্রতি রিও ডি জেনিরোতে পা রেখেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিমানবন্দরে নামার পর থেকেই কাজে নেমে পড়েছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল এই কৌশলী। ইতোমধ্যে তিনি সিবিএফের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাতীয় দল বিভাগের শীর্ষ দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন ও নীতিনির্ধারণী বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। ব্রাজিলের ফুটবল কাঠামোকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো এবং সাম্প্রতিক ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে দলকে আবার জয়ের সারণীতে ফেরানোই এই মুহূর্তে তাদের মূল অগ্রাধিকার। সামনেই বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক উইন্ডো থাকায় নতুন খেলোয়াড়দের পরখ করে নেয়ার প্রক্রিয়া দ্রুতই শুরু হতে যাচ্ছে।
স্প্যানিশ ক্রীড়া বিষয়ক জনপ্রিয় দৈনিক ‘এএস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেলেসাওদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন আনচেলত্তি। তিনি জানান, উদীয়মান ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে এক নতুন সেলেসাও তৈরির কাজ শুরু করবেন তারা। তবে এর অর্থ এই নয় যে সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে খেলা অভিজ্ঞ তারকাদের একবারে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। আনচেলত্তির ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার সামর্থ্য ও ফিটনেস যাদের রয়েছে, সেসব প্রবীণ খেলোয়াড়দের জন্য জাতীয় দলের দরজা সর্বদা উন্মুক্ত থাকবে। অভিজ্ঞতা ও উদীয়মান প্রতিভার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
এই মেগা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় দলের সাথে বয়সভিত্তিক অ্যাকাডেমিগুলোর কাজের মেলবন্ধন আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ব্রাজিলের জাতীয় দল বিভাগের সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়তানো নতুন এই সফর প্রসঙ্গে বলেন, দেশীয় ফুটবলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। সামনে ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বের মতো বড় বড় প্রতিযোগিতা রয়েছে। প্রতিটি টুর্নামেন্টে যেন ব্রাজিল ফুটবল দল নিজেদের সেরা ফর্মে উপস্থাপন করতে পারে, সেভাবেই দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি সাজানো হচ্ছে। তরুণদের সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ দেওয়াই এই মুহূর্তে ভবিষ্যৎ সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি।
ঘোষিত আন্তর্জাতিক সূচি অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর আগামী নভেম্বর মাসে আরও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে তাদের। এছাড়া আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০৩০ বিশ্বকাপের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের কঠিন বাছাইপর্ব। প্রীতি ম্যাচের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক সফরের ক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলোর দিকেও নজর দিচ্ছে সিবিএফ। ভারতের ঐতিহ্যবাহী শহর কলকাতায় প্রীতি ম্যাচ খেলার আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখছে তারা। সব মিলিয়ে নরওয়ের কাছে হারের ধাক্কা সামলে নতুন উদ্যমে আবার বিশ্ব ফুটবলের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কার্লো আনচেলত্তির সেলেসাওরা।
রিপোর্টার নাম: 


























