Hi

০২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাজিল দলে তারুণ্যের জোয়ার: আনচেলত্তির ২৬ জনে নতুন মুখ ৫

ব্রাজিল ফুটবলে নতুন প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দল সাজিয়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে ভবিষ্যতের দিকে নজর রেখে তিনি ২৬ সদস্যের একটি দল ঘোষণা করেছেন, যেখানে অভিজ্ঞ তারকার পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। নতুন এই তালিকায় প্রথমবারের মতো জায়গা পেয়েছেন পাঁচজন উদীয়মান খেলোয়াড়। এছাড়া ২৩ বছরের কম বয়সী ফুটবলারের সংখ্যা ১৫ জন। আর ২৩ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড় রয়েছেন ১৫ জন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আনচেলত্তি নভেম্বরের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের জন্য তার এই স্কোয়াড ঘোষণা করেন। জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এন্দ্রিক, বার্সেলোনার রাফিনিয়া, চেলসির এস্তেভাও এবং ম্যানচেস্টার সিটির অ্যালানের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাদের ওপর আস্থা রেখেছেন তিনি। একইসঙ্গে দলে সুযোগ পেয়েছেন আন্দ্রে লুইজ, জোনাথন জেসুস, মারলন গোমেস ও আলিসন সান্তানারা। ক্রুজেইরোর রক্ষণভাগের খেলোয়াড় জোনাথন জেসুসও পেয়েছেন নিজের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ।

আনচেলত্তির ঘোষিত ২৬ সদস্যের এই দলে গোলরক্ষক হিসেবে আছেন বেন্তো (আল-নাসর), লুকাস পেরি (তোরিনো) ও পেদ্রো মরিস্কো (কোরিতিবা)। এখন সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার দায়িত্ব আনচেলত্তির।

রক্ষণভাগে রয়েছেন আর্থুর দিয়াস, কার্লোস অগুস্তো, দগলাস সান্তোস, গাব্রিয়েল মাগালিয়াইস, জাইর কুনিয়া, জোনাথন জেসুস, ভান্দেরসন, ভিতর রেইস ও ওয়েসলি। মাঝমাঠে জায়গা পেয়েছেন আন্দ্রে লুইজ, আন্দ্রে সান্তোস, ব্রুনো গিমারায়েস, দানিলো সান্তোস, গাব্রিয়েল বন্তেম্পো, জোয়াও গোমেস ও মারলন গোমেস। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস ও এন্দ্রিকের সাথে আছেন আলিসন সান্তানা, অ্যালান, এস্তেভাও, রাফিনিয়া ও রায়ান।

আগামী ১৪ নভেম্বর জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রীতি সিরিজের যাত্রা শুরু করবে ব্রাজিল। এর তিন দিন পর, ১৭ নভেম্বর, সিঙ্গাপুরের মাঠে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই দুটি ম্যাচ দিয়েই মূলত ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক সূচি শেষ করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। এই ম্যাচগুলো নতুনদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন কোচ। এই দল ঘোষণায় তাই দুটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ছে—একদিকে প্রতিষ্ঠিত তারকাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা, অন্যদিকে আগামী দিনের জন্য নতুন খেলোয়াড়দের যাচাই করা। তিন দিন পর, ১৭ নভেম্বর, তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক সিঙ্গাপুর। এ সিদ্ধান্তের ফলে কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগের ক্লাব ফ্লামেঙ্গো এবং পালমেইরাসের কোনো খেলোয়াড়কে এবারের দলে রাখা হয়নি। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) প্রতিযোগিতার ভারসাম্য এবং ক্লাবগুলোর স্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণত ঘরোয়া ক্লাব থেকে খেলোয়াড় নেওয়ার একটি নীতি থাকলেও, এবারের বিরল পরিস্থিতিতে আনচেলত্তি নতুনদের যাচাই করার বাড়তি সুযোগ পাচ্ছেন। তারুণ্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য: ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে নতুন প্রজন্মের উত্থান সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফ্লামেঙ্গো-পালমেইরাসের কেউ নেই কেন?: এবারের দল ঘোষণায় আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে শিরোপার লড়াইয়ে থাকা ফ্লামেঙ্গো ও পালমেইরাস থেকে কোনো খেলোয়াড়কে রাখা হয়নি। দল নির্বাচনে ব্রাজিলের ঘরোয়া ক্লাব থেকে সাধারণভাবে একজন করে খেলোয়াড় নেওয়ার নীতিও অনুসরণ করা হয়েছে।

জাতীয় দলে প্রথমবার ডাক পাওয়া আন্দ্রে লুইজ, জোনাথন জেসুস, অ্যালান, মারলন গোমেস ও আলিসন সান্তানার জন্য এটি ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ঘরোয়া ফুটবলে নিজেদের প্রমাণ করা এই তরুণদের সামনে এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চের চাপ সামলানোর পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গতি ও প্রতিপক্ষের কৌশল বুঝে নেওয়ার সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে তাদের জন্য জাতীয় দলের দরজা স্থায়ীভাবে খুলবে কি না। করিন্থিয়ান্সের আন্দ্রে লুইজের অন্তর্ভুক্তি ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলের প্রতিভা খোঁজার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়া অবশ্যই বড় অর্জন। পেলে থেকে রোনালদো নাজারিও, রোনালদিনিয়ো থেকে নেইমার—প্রতিটি যুগে নতুন তারকারা নিজেদের যোগ্যতায় জাতীয় দলের নেতৃত্বে উঠে এসেছেন।

তাত্ত্বিকভাবে শুধু তরুণ ফুটবলারদের দলে নিলেই শক্তিশালী দল গঠন করা যায় না। আনচেলত্তি প্রতিষ্ঠিত তারকাদের অভিজ্ঞতার সাথে উদীয়মানদের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ার চেষ্টা করছেন। মাঠে এদের সঠিক ব্যবহার এবং নিয়মিত খেলার সুযোগ দেওয়াটাই এখন কোচের বড় চ্যালেঞ্জ। আক্রমণভাগে রাফিনিয়া বা ভিনিসিয়ুসের মতো অভিজ্ঞদের উপস্থিতি তরুণদের জন্য শিক্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করবে। তাঁদের নিয়মিত খেলার সুযোগ, সঠিক পজিশনে ব্যবহার এবং অভিজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তোলাও জরুরি। এখানে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব দেখলে চলবে না।

বাংলাদেশে ব্রাজিলের অগনিত সমর্থক রয়েছেন। এই সমর্থকদের কাছে বিশ্বকাপ যেমন আবেগের কেন্দ্রবিন্দু, তেমনি জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও সমান গুরুত্ব পায়। এবারের দল ঘোষণার মাধ্যমে ব্রাজিল শুধু বর্তমানের জয় নিয়ে ভাবছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তরুণদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভ্যস্ত করে তুলছে।

জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি তাই শুধুই ফলাফল বিচারের বিষয় নয়। এই ম্যাচগুলোতে নতুনদের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞদের সঙ্গে তাদের বোঝাপড়া কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই সবার নজর থাকবে। আজকের এই তরুণরাই ভবিষ্যতের সেলেসাওদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশিক্ষক আনচেলত্তির লক্ষ্য স্পষ্ট—ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক দল তৈরি করা। মাঠে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং দলগত সংহতিই প্রমাণ করবে এই নতুন প্রজন্ম কতটা দূর পর্যন্ত যেতে পারবে। সমর্থকদের জন্য এটি যেমন নতুন মুখ দেখার রোমাঞ্চ, তেমনি দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

বাইন্যান্স হ্যাকিং: ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ খোয়া গেল

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ব্রাজিল দলে তারুণ্যের জোয়ার: আনচেলত্তির ২৬ জনে নতুন মুখ ৫

আপডেট : ০১:৩৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাজিল ফুটবলে নতুন প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দল সাজিয়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে ভবিষ্যতের দিকে নজর রেখে তিনি ২৬ সদস্যের একটি দল ঘোষণা করেছেন, যেখানে অভিজ্ঞ তারকার পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। নতুন এই তালিকায় প্রথমবারের মতো জায়গা পেয়েছেন পাঁচজন উদীয়মান খেলোয়াড়। এছাড়া ২৩ বছরের কম বয়সী ফুটবলারের সংখ্যা ১৫ জন। আর ২৩ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড় রয়েছেন ১৫ জন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আনচেলত্তি নভেম্বরের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের জন্য তার এই স্কোয়াড ঘোষণা করেন। জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এন্দ্রিক, বার্সেলোনার রাফিনিয়া, চেলসির এস্তেভাও এবং ম্যানচেস্টার সিটির অ্যালানের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাদের ওপর আস্থা রেখেছেন তিনি। একইসঙ্গে দলে সুযোগ পেয়েছেন আন্দ্রে লুইজ, জোনাথন জেসুস, মারলন গোমেস ও আলিসন সান্তানারা। ক্রুজেইরোর রক্ষণভাগের খেলোয়াড় জোনাথন জেসুসও পেয়েছেন নিজের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ।

আনচেলত্তির ঘোষিত ২৬ সদস্যের এই দলে গোলরক্ষক হিসেবে আছেন বেন্তো (আল-নাসর), লুকাস পেরি (তোরিনো) ও পেদ্রো মরিস্কো (কোরিতিবা)। এখন সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার দায়িত্ব আনচেলত্তির।

রক্ষণভাগে রয়েছেন আর্থুর দিয়াস, কার্লোস অগুস্তো, দগলাস সান্তোস, গাব্রিয়েল মাগালিয়াইস, জাইর কুনিয়া, জোনাথন জেসুস, ভান্দেরসন, ভিতর রেইস ও ওয়েসলি। মাঝমাঠে জায়গা পেয়েছেন আন্দ্রে লুইজ, আন্দ্রে সান্তোস, ব্রুনো গিমারায়েস, দানিলো সান্তোস, গাব্রিয়েল বন্তেম্পো, জোয়াও গোমেস ও মারলন গোমেস। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস ও এন্দ্রিকের সাথে আছেন আলিসন সান্তানা, অ্যালান, এস্তেভাও, রাফিনিয়া ও রায়ান।

আগামী ১৪ নভেম্বর জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রীতি সিরিজের যাত্রা শুরু করবে ব্রাজিল। এর তিন দিন পর, ১৭ নভেম্বর, সিঙ্গাপুরের মাঠে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই দুটি ম্যাচ দিয়েই মূলত ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক সূচি শেষ করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। এই ম্যাচগুলো নতুনদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন কোচ। এই দল ঘোষণায় তাই দুটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ছে—একদিকে প্রতিষ্ঠিত তারকাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা, অন্যদিকে আগামী দিনের জন্য নতুন খেলোয়াড়দের যাচাই করা। তিন দিন পর, ১৭ নভেম্বর, তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক সিঙ্গাপুর। এ সিদ্ধান্তের ফলে কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগের ক্লাব ফ্লামেঙ্গো এবং পালমেইরাসের কোনো খেলোয়াড়কে এবারের দলে রাখা হয়নি। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) প্রতিযোগিতার ভারসাম্য এবং ক্লাবগুলোর স্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণত ঘরোয়া ক্লাব থেকে খেলোয়াড় নেওয়ার একটি নীতি থাকলেও, এবারের বিরল পরিস্থিতিতে আনচেলত্তি নতুনদের যাচাই করার বাড়তি সুযোগ পাচ্ছেন। তারুণ্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য: ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে নতুন প্রজন্মের উত্থান সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফ্লামেঙ্গো-পালমেইরাসের কেউ নেই কেন?: এবারের দল ঘোষণায় আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে শিরোপার লড়াইয়ে থাকা ফ্লামেঙ্গো ও পালমেইরাস থেকে কোনো খেলোয়াড়কে রাখা হয়নি। দল নির্বাচনে ব্রাজিলের ঘরোয়া ক্লাব থেকে সাধারণভাবে একজন করে খেলোয়াড় নেওয়ার নীতিও অনুসরণ করা হয়েছে।

জাতীয় দলে প্রথমবার ডাক পাওয়া আন্দ্রে লুইজ, জোনাথন জেসুস, অ্যালান, মারলন গোমেস ও আলিসন সান্তানার জন্য এটি ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ঘরোয়া ফুটবলে নিজেদের প্রমাণ করা এই তরুণদের সামনে এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চের চাপ সামলানোর পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গতি ও প্রতিপক্ষের কৌশল বুঝে নেওয়ার সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে তাদের জন্য জাতীয় দলের দরজা স্থায়ীভাবে খুলবে কি না। করিন্থিয়ান্সের আন্দ্রে লুইজের অন্তর্ভুক্তি ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলের প্রতিভা খোঁজার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়া অবশ্যই বড় অর্জন। পেলে থেকে রোনালদো নাজারিও, রোনালদিনিয়ো থেকে নেইমার—প্রতিটি যুগে নতুন তারকারা নিজেদের যোগ্যতায় জাতীয় দলের নেতৃত্বে উঠে এসেছেন।

তাত্ত্বিকভাবে শুধু তরুণ ফুটবলারদের দলে নিলেই শক্তিশালী দল গঠন করা যায় না। আনচেলত্তি প্রতিষ্ঠিত তারকাদের অভিজ্ঞতার সাথে উদীয়মানদের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ার চেষ্টা করছেন। মাঠে এদের সঠিক ব্যবহার এবং নিয়মিত খেলার সুযোগ দেওয়াটাই এখন কোচের বড় চ্যালেঞ্জ। আক্রমণভাগে রাফিনিয়া বা ভিনিসিয়ুসের মতো অভিজ্ঞদের উপস্থিতি তরুণদের জন্য শিক্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করবে। তাঁদের নিয়মিত খেলার সুযোগ, সঠিক পজিশনে ব্যবহার এবং অভিজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তোলাও জরুরি। এখানে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব দেখলে চলবে না।

বাংলাদেশে ব্রাজিলের অগনিত সমর্থক রয়েছেন। এই সমর্থকদের কাছে বিশ্বকাপ যেমন আবেগের কেন্দ্রবিন্দু, তেমনি জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও সমান গুরুত্ব পায়। এবারের দল ঘোষণার মাধ্যমে ব্রাজিল শুধু বর্তমানের জয় নিয়ে ভাবছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তরুণদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভ্যস্ত করে তুলছে।

জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি তাই শুধুই ফলাফল বিচারের বিষয় নয়। এই ম্যাচগুলোতে নতুনদের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞদের সঙ্গে তাদের বোঝাপড়া কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই সবার নজর থাকবে। আজকের এই তরুণরাই ভবিষ্যতের সেলেসাওদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশিক্ষক আনচেলত্তির লক্ষ্য স্পষ্ট—ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক দল তৈরি করা। মাঠে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং দলগত সংহতিই প্রমাণ করবে এই নতুন প্রজন্ম কতটা দূর পর্যন্ত যেতে পারবে। সমর্থকদের জন্য এটি যেমন নতুন মুখ দেখার রোমাঞ্চ, তেমনি দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।