Hi

০৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাইন্যান্স হ্যাকিং: ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ খোয়া গেল

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলা হয়েছে। হ্যাকাররা প্ল্যাটফর্মটি থেকে ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নিয়েছে, যা এখন পর্যন্ত ডিজিটাল মুদ্রার ইতিহাসে বৃহত্তম চুরির ঘটনা বলে গণ্য হচ্ছে। এই সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিশ্রুতির পরও থামছে না ‘মব’ সহিংসতায় মৃত্যু। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় হ্যাকের ঘটনা। আপস হওয়া কম্পিউটারটি কীভাবে হামলার প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা দল। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এক্সচেঞ্জে রাখা সম্পদের নিরাপত্তা, প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা এবং তারল্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারেন বিনিয়োগকারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস ও চেইন্যালাইসিসের ভাষ্যমতে, এই হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা জড়িত থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর বৃষ্টির বাধা। এক বিবৃতিতে টিআরএম ল্যাবস বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাদের মূল্যায়ন উচ্চ মাত্রায় নিশ্চিত। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জেনেভায় উত্তর কোরিয়ার মিশন ও চীনে দেশটির দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ক্রিপ্টো বাজারের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কয়েনগেকোর হিসাবে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। রয়টার্সকে ক্রিপ্টো বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আর্কহ্যামের প্রধান নির্বাহী মিগুয়েল মোরেল বলেন, তাদের তথ্য-উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো পক্ষ বাইন্যান্স থেকে কয়েকশ কোটি ডলারের সম্পদ চুরি করেছে। দাঁতে কেন ক্যাভিটি হয়, গবেষণায় কী জানা যাচ্ছে।

হামলাকারীরা ১০টি ভিন্ন ভিন্ন ব্লকচেইনে থাকা বাইন্যান্সের ওয়ালেটগুলো লক্ষ্য করে পরিকল্পিত আক্রমণ চালায়।

মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে ডিজিটাল সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে তারা।

টিআরএম ল্যাবস এই ঘটনার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পূর্ববর্তী সাইবার হামলার কৌশল ও ধরনের মিল খুঁজে পেয়েছে, যার মধ্যে ২০২৫ সালে বাইবিটে হওয়া হামলার প্রসঙ্গটি উল্লেখযোগ্য। এফবিআইও সেই হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছিল।

বাইন্যান্স কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার পরপরই বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় চুরি হওয়া সম্পদের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৩৩০ কোটি ডলারের হদিস বা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটি বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে বাইন্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ই হে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির পুরো দায়ভার প্রতিষ্ঠানটির ওপর বর্তাবে বলে জানিয়েছেন। গ্রাহকদের আমানত নিরাপদ আছে উল্লেখ করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লেনদেন সেবা পুনরায় সচল করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে তারা। বাইন্যান্স আরও জানিয়েছে, গ্রাহকদের জমা রাখা অর্থ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বিশ্বজুড়ে বাইন্যান্সের নিবন্ধিত ব্যবহারকারী ৩৩ কোটি ৫০ লাখ। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের হেফাজতে থাকা সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ হাজার ২৮০ কোটি ডলার। বাইন্যান্সের গ্রাহকদের সম্পদ সুরক্ষায় একটি বিশেষ তহবিল রয়েছে। রিপলের স্টেবলকয়েন বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাক ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ জব্দে কাজ করছেন। ‘টাইব্রেকারে গেলে বিশ্বকাপ আমরাই জিততাম’, দিবুকে নিয়ে এনজোর দাবি। বৃহস্পতিবার তৃতীয় পক্ষের একটি সেবা প্রদানকারীর নিরাপত্তা সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছিল প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেট। পরে লেনদেন চালু করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ পুরোপুরি ফেরত দেওয়া হবে।

প্রাথমিক তদন্তে বাইন্যান্সের নিরাপত্তা দল ধারণা করছে, একজন প্রকৌশলীর কম্পিউটার হ্যাক হওয়ার মধ্য দিয়ে হামলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। হ্যাকাররা সেই ল্যাপটপ ব্যবহার করে বাইন্যান্সের সিস্টেমে অনধিকার প্রবেশ করে এবং ডিজিটাল সম্পদ সরিয়ে নেয়। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে তাদের নিরাপত্তা দল বর্তমানে কাজ করছে।

এই সাইবার হামলার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব ক্রিপ্টো বাজারে। শুক্রবার এশিয়ার বাজারে ক্রিপ্টোকারেন্সির দামে ব্যাপক পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিটকয়েনের দর ৩ শতাংশের বেশি কমে ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্ন ৭৬ হাজার ৩৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইথারের দামও একই হারে কমে দুই মাসের সর্বনিম্ন ২ হাজার ১৭৮ ডলারে নেমে আসে। এছাড়া বাইন্যান্সের নিজস্ব টোকেন বিএনবির দাম ২৪ ঘণ্টায় ৫ শতাংশ কমে ৭০৯ ডলার ৭০ সেন্টে পৌঁছায়।

চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে বিভিন্ন পক্ষ তৎপরতা চালাচ্ছে। টেথার কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৫৭ কোটি ডলার সমমূল্যের সম্পদ জব্দ করেছে, আর সার্কেল জব্দ করেছে ৮০ কোটি ডলারের বেশি। এছাড়া বিটগোর সহায়তায় ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যানশিয়াল তাদের টোকেন এবং রিপল কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। ই হে জানান, এ পর্যন্ত মোট ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের স্টেবলকয়েন ও ওয়ার্ল্ড লিবার্টির ২০ লাখ ডলার মূল্যের টোকেন জব্দ হয়েছে।

এদিকে, বাইন্যান্সের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্স ডট ইউএস জানিয়েছে, তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। একই কথা জানিয়েছে কয়েনবেস। তবে হংকংভিত্তিক হ্যাশকি গ্রুপের গবেষক টিম সান সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি গ্রহণের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বার্নার্দো ব্রিটেস জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের কারণে বর্তমান সাইবার ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। হ্যাকাররা এখন এআই ব্যবহার করে সিস্টেমের দুর্বলতা মুহূর্তের মধ্যে খুঁজে বের করতে পারছে, ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ত্রুটি সংশোধনের আগেই হামলার শিকার হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছর প্রায় ১৫০টি পৃথক হামলায় মোট ২৯০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়েছিল। সম্প্রতি সেপ্টেম্বর মাসে বিটগেট এক্সচেঞ্জ থেকেও প্রায় ৩৫ কোটি ডলার চুরির ঘটনা ঘটেছিল। বাইন্যান্সের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে এই বড় ধরনের হ্যাকিং ক্রিপ্টো জগতের নিরাপত্তার ভিত্তিকেই নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। এলডিসি থেকে উত্তরণ: আরও তিন বছর সময় পেল বাংলাদেশ।

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্তের দাবি জানালেন বাবা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বাইন্যান্স হ্যাকিং: ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ খোয়া গেল

আপডেট : ০২:২৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলা হয়েছে। হ্যাকাররা প্ল্যাটফর্মটি থেকে ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নিয়েছে, যা এখন পর্যন্ত ডিজিটাল মুদ্রার ইতিহাসে বৃহত্তম চুরির ঘটনা বলে গণ্য হচ্ছে। এই সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিশ্রুতির পরও থামছে না ‘মব’ সহিংসতায় মৃত্যু। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় হ্যাকের ঘটনা। আপস হওয়া কম্পিউটারটি কীভাবে হামলার প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা দল। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এক্সচেঞ্জে রাখা সম্পদের নিরাপত্তা, প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা এবং তারল্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারেন বিনিয়োগকারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস ও চেইন্যালাইসিসের ভাষ্যমতে, এই হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা জড়িত থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর বৃষ্টির বাধা। এক বিবৃতিতে টিআরএম ল্যাবস বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাদের মূল্যায়ন উচ্চ মাত্রায় নিশ্চিত। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জেনেভায় উত্তর কোরিয়ার মিশন ও চীনে দেশটির দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ক্রিপ্টো বাজারের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কয়েনগেকোর হিসাবে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। রয়টার্সকে ক্রিপ্টো বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আর্কহ্যামের প্রধান নির্বাহী মিগুয়েল মোরেল বলেন, তাদের তথ্য-উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো পক্ষ বাইন্যান্স থেকে কয়েকশ কোটি ডলারের সম্পদ চুরি করেছে। দাঁতে কেন ক্যাভিটি হয়, গবেষণায় কী জানা যাচ্ছে।

হামলাকারীরা ১০টি ভিন্ন ভিন্ন ব্লকচেইনে থাকা বাইন্যান্সের ওয়ালেটগুলো লক্ষ্য করে পরিকল্পিত আক্রমণ চালায়।

মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে ডিজিটাল সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে তারা।

টিআরএম ল্যাবস এই ঘটনার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পূর্ববর্তী সাইবার হামলার কৌশল ও ধরনের মিল খুঁজে পেয়েছে, যার মধ্যে ২০২৫ সালে বাইবিটে হওয়া হামলার প্রসঙ্গটি উল্লেখযোগ্য। এফবিআইও সেই হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছিল।

বাইন্যান্স কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার পরপরই বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় চুরি হওয়া সম্পদের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৩৩০ কোটি ডলারের হদিস বা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটি বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে বাইন্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ই হে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির পুরো দায়ভার প্রতিষ্ঠানটির ওপর বর্তাবে বলে জানিয়েছেন। গ্রাহকদের আমানত নিরাপদ আছে উল্লেখ করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লেনদেন সেবা পুনরায় সচল করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে তারা। বাইন্যান্স আরও জানিয়েছে, গ্রাহকদের জমা রাখা অর্থ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বিশ্বজুড়ে বাইন্যান্সের নিবন্ধিত ব্যবহারকারী ৩৩ কোটি ৫০ লাখ। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের হেফাজতে থাকা সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ হাজার ২৮০ কোটি ডলার। বাইন্যান্সের গ্রাহকদের সম্পদ সুরক্ষায় একটি বিশেষ তহবিল রয়েছে। রিপলের স্টেবলকয়েন বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাক ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ জব্দে কাজ করছেন। ‘টাইব্রেকারে গেলে বিশ্বকাপ আমরাই জিততাম’, দিবুকে নিয়ে এনজোর দাবি। বৃহস্পতিবার তৃতীয় পক্ষের একটি সেবা প্রদানকারীর নিরাপত্তা সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছিল প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেট। পরে লেনদেন চালু করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ পুরোপুরি ফেরত দেওয়া হবে।

প্রাথমিক তদন্তে বাইন্যান্সের নিরাপত্তা দল ধারণা করছে, একজন প্রকৌশলীর কম্পিউটার হ্যাক হওয়ার মধ্য দিয়ে হামলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। হ্যাকাররা সেই ল্যাপটপ ব্যবহার করে বাইন্যান্সের সিস্টেমে অনধিকার প্রবেশ করে এবং ডিজিটাল সম্পদ সরিয়ে নেয়। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে তাদের নিরাপত্তা দল বর্তমানে কাজ করছে।

এই সাইবার হামলার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব ক্রিপ্টো বাজারে। শুক্রবার এশিয়ার বাজারে ক্রিপ্টোকারেন্সির দামে ব্যাপক পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিটকয়েনের দর ৩ শতাংশের বেশি কমে ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্ন ৭৬ হাজার ৩৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইথারের দামও একই হারে কমে দুই মাসের সর্বনিম্ন ২ হাজার ১৭৮ ডলারে নেমে আসে। এছাড়া বাইন্যান্সের নিজস্ব টোকেন বিএনবির দাম ২৪ ঘণ্টায় ৫ শতাংশ কমে ৭০৯ ডলার ৭০ সেন্টে পৌঁছায়।

চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে বিভিন্ন পক্ষ তৎপরতা চালাচ্ছে। টেথার কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৫৭ কোটি ডলার সমমূল্যের সম্পদ জব্দ করেছে, আর সার্কেল জব্দ করেছে ৮০ কোটি ডলারের বেশি। এছাড়া বিটগোর সহায়তায় ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যানশিয়াল তাদের টোকেন এবং রিপল কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। ই হে জানান, এ পর্যন্ত মোট ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের স্টেবলকয়েন ও ওয়ার্ল্ড লিবার্টির ২০ লাখ ডলার মূল্যের টোকেন জব্দ হয়েছে।

এদিকে, বাইন্যান্সের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্স ডট ইউএস জানিয়েছে, তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। একই কথা জানিয়েছে কয়েনবেস। তবে হংকংভিত্তিক হ্যাশকি গ্রুপের গবেষক টিম সান সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি গ্রহণের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বার্নার্দো ব্রিটেস জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের কারণে বর্তমান সাইবার ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। হ্যাকাররা এখন এআই ব্যবহার করে সিস্টেমের দুর্বলতা মুহূর্তের মধ্যে খুঁজে বের করতে পারছে, ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ত্রুটি সংশোধনের আগেই হামলার শিকার হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছর প্রায় ১৫০টি পৃথক হামলায় মোট ২৯০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়েছিল। সম্প্রতি সেপ্টেম্বর মাসে বিটগেট এক্সচেঞ্জ থেকেও প্রায় ৩৫ কোটি ডলার চুরির ঘটনা ঘটেছিল। বাইন্যান্সের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে এই বড় ধরনের হ্যাকিং ক্রিপ্টো জগতের নিরাপত্তার ভিত্তিকেই নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। এলডিসি থেকে উত্তরণ: আরও তিন বছর সময় পেল বাংলাদেশ।