বিমানবাহিনীর চাকরিচ্যুত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার এখনো কোনো মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে এ বিষয়ে মামলা হোক বা না হোক, সরকারের নিজস্ব আইন অনুযায়ী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। শুক্রবার দুপুরে তিনি জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পরিবারের কিছু সময়ের প্রয়োজন এবং তারা মূলত সুষ্ঠু তদন্তের ওপর জোর দিচ্ছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমরা পারিবারিকভাবে এখনো কোনো ধরনের মামলা করার সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে আমরা চাই, থানায় গিয়ে দুই কলম কী লিখলাম বা না লিখলাম, সেটির ওপর সরকার গুরুত্ব না দিয়ে নিজস্ব আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক।’। এ সময় তারা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি আসলেই তাহসিফের কি না, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ।
এই ঘটনায় তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পিবিআই প্রধান জানিয়েছেন, দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে, যা এখন যাচাই-বাছাই করে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের গ্যারেজে তাহসিফ ও দীপ একসঙ্গে ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের ফোনের সূত্র ধরেই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। পরে দীপ জানিয়েছিলেন, মোটরসাইকেলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তারা ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে একসঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন। দীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। পরে দুটি পৃথক মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান। মোটরসাইকেল মেরামতের পর তারা বাসায় ফিরে একসঙ্গে খাবার খান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।
হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে পরবর্তীতে মরদেহটি তাহসিফের বলে শনাক্ত করা হয়। পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে, উত্তরখান থানার ওসি মো. হাবিব জানিয়েছেন, তাহসিফের পরিবারকে থানায় এসে মামলা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। তারা থানায় উপস্থিত হলে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম গণমাধ্যমের কাছে আক্ষেপ করে বলেন, তার ছেলে একজন সুনাগরিক ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছিলেন। মামলা না করলেও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বাহিনী যেন ঘটনার গুরুত্ব বুঝে প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করে।
মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে পরিবার এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। তাহসিফের বাবা আগেই ছেলের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারো কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার নাম: 




















