হযরত মুসা (আঃ) এক যাত্রাপথে দেখলেন, অত্যন্ত দরিদ্র এক ব্যক্তি লজ্জা নিবারণের জন্য বালুর নিচে শরীর ডুবিয়ে বসে আছে। পরনে কোনো বস্ত্র না থাকায় সে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছিল। লোকটির করুণ দশা দেখে মুসা (আঃ)-এর অন্তরে দয়ার উদ্রেক হয়। লোকটি তাঁকে দেখে আর্তনাদ করে আবেদন জানায়, “হে আল্লাহর নবী, আমার জন্য দোয়া করুন যেন আল্লাহ আমাকে সামান্য রিজিক দান করেন, কারণ অভাবের তাড়নায় আমি আর বাঁচতে পারছি না।” এরপর মুসা (আঃ) তার সচ্ছলতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং চলে যান। পরবর্তীতে আল্লাহর দরবারে সেই দোয়া কবুল হয়।
কিছুদিন পর মুসা (আঃ) সেই পথ দিয়ে ফেরার সময় সেখানে বিশাল জনসমাগম দেখতে পান। কৌতুহলী হয়ে তিনি ঘটনার কারণ জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানায়, কিছুদিন আগে যে ভিক্ষুক বালির নিচে পড়ে থাকত, সম্পদ লাভের পর সে মদপানে আসক্ত হয়ে পড়ে। মদ্যপ অবস্থায় ঝগড়া করতে গিয়ে সে একজনকে হত্যা করে ফেলেছে। এখন তার বিরুদ্ধে ‘কিসাস’ বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করে মুসা (আঃ) আল্লাহর প্রজ্ঞার স্বীকারোক্তি দেন এবং নিজের করা আবদারের জন্য আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এই ঘটনাপ্রবাহের আলোকে আল্লামা শেখ সাদী (রহ.) কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবধর্মী উপমা ও প্রবাদ বর্ণনা করেছেন
- বেচারা বিড়ালের ডানা থাকলে সে দুনিয়া থেকে চড়ুই পাখির বংশ শেষ করে দিত। অর্থাৎ, দুর্বলরা শক্তি পেলে অনেক সময় অত্যাচারী হয়ে ওঠে।
- প্লাটো (আফলাতুন) বলেছেন, “পিঁপড়ার পাখা না থাকাই ভালো; কারণ পাখা গজালে সে উড়ে বেড়াবে এবং নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনবে।”
- পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, যদি আল্লাহ তাঁর সব বান্দাকে অঢেল রিজিক দিতেন, তবে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত (সূরা-শুরা: ২৭)।
- বাবার কাছে মধু থাকা সত্ত্বেও তিনি জ্বরে আক্রান্ত সন্তানকে তা খেতে দেন না, কারণ তিনি জানেন মিষ্টি হওয়া সত্ত্বেও জ্বরের রোগীর জন্য মধু ক্ষতিকর হতে পারে।
সারসংক্ষেপ হলো, যিনি তোমাকে ধনী করেননি, তিনি তোমার ভালো-মন্দ তোমার চেয়েও অধিক জানেন। মানুষের স্বভাব এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে আল্লামা শেখ সাদীর এই অনুধাবন আজও সমসাময়িক বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়।
রিপোর্টার নাম: 

























