Hi

০৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝুলন্ত পাথরের অলৌকিক দাবির নেপথ্যের আসল রহস্য উন্মোচন

দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ঝুলন্ত পাথরের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর আগে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) অলৌকিকভাবে পাথর দুটিকে শূন্যে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন, যা আজও একইভাবে ঝুলে আছে। এ ধরনের দাবি ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে প্রচলিত থাকলেও, প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো অলৌকিক মুজিজা নয়, বরং একটি নিখুঁত স্থাপত্য নিদর্শন। এবার সেই কথিত অলৌকিক ঝুলন্ত পাথরের রহস্য বের করেছেন বিজ্ঞানিরা। মহান রাব্বুল আলামিন মাত্র ছয় দিনে এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীতে তাঁর অসীম ক্ষমতার বহু নিদর্শন রয়েছে।

বাস্তবতা হলো, মিসরের কায়রো বিমানবন্দরের প্রবেশপথে স্থাপিত ভাস্কর্যটি মূলত ২০০৮ সালে বিখ্যাত ভাস্কর শাবান আব্বাস নির্মাণ করেছিলেন। দূর থেকে দেখলে পাথর দুটি শূন্যে ভেসে আছে বলে মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে সুকৌশলী প্রকৌশল। ভাস্কর্যটির উপরের অংশ প্রকৃত কোনো পাথর নয়; বরং এটি মাইল্ড স্টিলের পাতলা শিট দিয়ে তৈরি এবং বাইরের দিকে পাথরের রং ও টেক্সচার ব্যবহার করা হয়েছে যাতে তা দেখতে আসল পাথরের মতো মনে হয়।

ভাস্কর্যটির স্থায়িত্ব ও ভারসাম্য রক্ষার জন্য এর ভেতরে লোহার রড ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিচের অংশের ভেতর দিয়ে মাটির গভীরে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত রয়েছে। এই রডই মূলত পাথর সদৃশ অংশগুলোকে ধরে রেখেছে, ফলে বাইরের মানুষের দৃষ্টিতে এটি শূন্যে ঝুলে থাকা একটি অলৌকিক বস্তু হিসেবে ধরা দেয়।

ইসলামের ইতিহাসে মহান আল্লাহ নবী-রাসুলদের বিভিন্ন মুজিজা দান করেছিলেন, যেমন হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠির সাপ হওয়া, সাগরের মাঝে পথ তৈরি হওয়া কিংবা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আঙুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনা। তবে কায়রোর এই ঝুলন্ত পাথর কোনো ঐশ্বরিক নিদর্শন নয়, বরং আধুনিক ভাস্কর্যের একটি বিশেষ কৌশলমাত্র। কোনো বিষয় যাচাই না করে তাকে ধর্মীয় অলৌকিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হলে সমাজে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। এসব নিদর্শন থেকে মানুষ সৃষ্টিকর্তার পরিচয় ও ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারে।

উল্লেখ্য যে, একই সময়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্যে জাপান বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হতে যাচ্ছেন। এছাড়া, লিবিয়া থেকে দেশে ফিরে এসেছেন আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক।

অন্যদিকে, মুসলিম বিশ্ব আগামীতে বিরল কিছু ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে একই বছরে তিনটি ঈদ ও দুটি হজ পালিত হওয়ার সম্ভাবনা। একইসঙ্গে ২০২৭ সালের হজে কারা অংশ নিতে পারবেন না, সেই সংক্রান্ত নির্দেশনাও আলোচিত হচ্ছে। এছাড়াও, বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া অন্যান্য ঘটনার মধ্যে সংসদ সদস্য আজিজের ছেলের বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ ও তাকে আটকের বিষয়টিও উঠে এসেছে। এক বছরেই ৩ ঈদ আর ২ হজ, বিরল নজির দেখবে মুসলিম বিশ্ব।

ধর্মীয় বিষয়ে কোনো অস্পষ্ট তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করা প্রতিটি সচেতন মুমিনের দায়িত্ব। কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে বা অসম্পূর্ণ তথ্য বিশ্বাস করে ভুল পথে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়, বরং বিজ্ঞানের আলোকে প্রতিটি বিষয়ের প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ঝুলন্ত পাথরের অলৌকিক দাবির নেপথ্যের আসল রহস্য উন্মোচন

আপডেট : ০৩:৫৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ঝুলন্ত পাথরের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর আগে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) অলৌকিকভাবে পাথর দুটিকে শূন্যে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন, যা আজও একইভাবে ঝুলে আছে। এ ধরনের দাবি ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে প্রচলিত থাকলেও, প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো অলৌকিক মুজিজা নয়, বরং একটি নিখুঁত স্থাপত্য নিদর্শন। এবার সেই কথিত অলৌকিক ঝুলন্ত পাথরের রহস্য বের করেছেন বিজ্ঞানিরা। মহান রাব্বুল আলামিন মাত্র ছয় দিনে এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীতে তাঁর অসীম ক্ষমতার বহু নিদর্শন রয়েছে।

বাস্তবতা হলো, মিসরের কায়রো বিমানবন্দরের প্রবেশপথে স্থাপিত ভাস্কর্যটি মূলত ২০০৮ সালে বিখ্যাত ভাস্কর শাবান আব্বাস নির্মাণ করেছিলেন। দূর থেকে দেখলে পাথর দুটি শূন্যে ভেসে আছে বলে মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে সুকৌশলী প্রকৌশল। ভাস্কর্যটির উপরের অংশ প্রকৃত কোনো পাথর নয়; বরং এটি মাইল্ড স্টিলের পাতলা শিট দিয়ে তৈরি এবং বাইরের দিকে পাথরের রং ও টেক্সচার ব্যবহার করা হয়েছে যাতে তা দেখতে আসল পাথরের মতো মনে হয়।

ভাস্কর্যটির স্থায়িত্ব ও ভারসাম্য রক্ষার জন্য এর ভেতরে লোহার রড ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিচের অংশের ভেতর দিয়ে মাটির গভীরে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত রয়েছে। এই রডই মূলত পাথর সদৃশ অংশগুলোকে ধরে রেখেছে, ফলে বাইরের মানুষের দৃষ্টিতে এটি শূন্যে ঝুলে থাকা একটি অলৌকিক বস্তু হিসেবে ধরা দেয়।

ইসলামের ইতিহাসে মহান আল্লাহ নবী-রাসুলদের বিভিন্ন মুজিজা দান করেছিলেন, যেমন হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠির সাপ হওয়া, সাগরের মাঝে পথ তৈরি হওয়া কিংবা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আঙুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনা। তবে কায়রোর এই ঝুলন্ত পাথর কোনো ঐশ্বরিক নিদর্শন নয়, বরং আধুনিক ভাস্কর্যের একটি বিশেষ কৌশলমাত্র। কোনো বিষয় যাচাই না করে তাকে ধর্মীয় অলৌকিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হলে সমাজে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। এসব নিদর্শন থেকে মানুষ সৃষ্টিকর্তার পরিচয় ও ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারে।

উল্লেখ্য যে, একই সময়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্যে জাপান বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হতে যাচ্ছেন। এছাড়া, লিবিয়া থেকে দেশে ফিরে এসেছেন আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক।

অন্যদিকে, মুসলিম বিশ্ব আগামীতে বিরল কিছু ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে একই বছরে তিনটি ঈদ ও দুটি হজ পালিত হওয়ার সম্ভাবনা। একইসঙ্গে ২০২৭ সালের হজে কারা অংশ নিতে পারবেন না, সেই সংক্রান্ত নির্দেশনাও আলোচিত হচ্ছে। এছাড়াও, বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া অন্যান্য ঘটনার মধ্যে সংসদ সদস্য আজিজের ছেলের বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ ও তাকে আটকের বিষয়টিও উঠে এসেছে। এক বছরেই ৩ ঈদ আর ২ হজ, বিরল নজির দেখবে মুসলিম বিশ্ব।

ধর্মীয় বিষয়ে কোনো অস্পষ্ট তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করা প্রতিটি সচেতন মুমিনের দায়িত্ব। কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে বা অসম্পূর্ণ তথ্য বিশ্বাস করে ভুল পথে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়, বরং বিজ্ঞানের আলোকে প্রতিটি বিষয়ের প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।