ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারো কোনো হামলা চালালে যুদ্ধের পরিধি আরো বিস্তৃত হবে। বুধবার এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের ধাক্কা খেলেও ওয়াশিংটনের বৈরী নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা ভুল।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মন্তব্য করেছিলেন যে, মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিপক্ষে রায় দিয়েছে। তবে নির্বাচনি ফলাফলের সেই ধাক্কা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা বজায় রয়েছে।
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, সেখানে থাকা একটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। দ্বীপটিতে পাঁচটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে যে, তাদের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ট্রাম্প এর আগে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দিলেও জানিয়েছেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের প্রয়োজন নাও হতে পারে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পরিস্থিতিতে হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
চলমান এই সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে। কাতার জানিয়েছে যে, উভয় পক্ষই বর্তমান প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। এছাড়া সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা এখন নিজেদের প্রধান কূটনৈতিক লক্ষ্য বলে জানিয়েছে চীন। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ কয়েক মাস ধরে প্রায় অচলাবস্থায় রয়েছে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নতুন করে কোনো হামলা চালানো হলে তারা এর কঠোর পাল্টা জবাব দেবে।
রিপোর্টার নাম: 






















