যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক যুগান্তকারী রায়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের (Birthright Citizenship) সাংবিধানিক অধিকার বহাল রেখেছে। এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এই আইনটি অপরিবর্তিত থাকছে, যা মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মূল ভিত্তি। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং কংগ্রেসকে এই আইন পরিবর্তনের জন্য নতুন করে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব প্রদানের এই প্রথা বাতিলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে আসছেন।
আদালতের এই রায় অভিবাসন নীতি নিয়ে বিভক্ত মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা, বিশেষ করে স্টিফেন মিলার, আদালতের এই রায়কে একটি ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা দাবি করছেন, বর্তমান ব্যবস্থাটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এটি অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। ট্রাম্প এখন কংগ্রেসের মাধ্যমে এমন একটি বিল পাসের পরিকল্পনা করছেন যা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান ধারাকে সীমিত বা বাতিল করতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংশোধন বা আইনগতভাবে এই অধিকার বাতিল করা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া, কারণ এটি সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘদিনের আইনি ব্যাখ্যার সাথে সাংঘর্ষিক।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া যেকোনো শিশু জন্মগতভাবেই নাগরিকত্বের অধিকারী। এটি মার্কিন আইনি কাঠামো ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম স্তম্ভ। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এই রায় সেই অধিকারকে পুনরায় নিশ্চিত করল। ট্রাম্পের এই নতুন উদ্যোগ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন আইন নিয়ে বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেছে। একদিকে যখন রক্ষণশীলরা কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, অন্যদিকে উদারপন্থীরা একে সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন। আগামী দিনে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরে এই বিষয় নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।
রিপোর্টার নাম: 






















