বর্তমান সময়ের বিশ্বফুটবলের অন্যতম প্রাণশক্তি আর্লিং হলান্ড। মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত যেন তার গোল করার নেশায় মত্ত। নরওয়ের এই স্ট্রাইকার চলতি বিশ্বকাপে তার অসাধারণ ফর্ম অব্যাহত রেখেছেন। সর্বশেষ ম্যাচে আইভরিকোস্টের বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে করা তার জয়সূচক গোলটি নরওয়েকে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পৌঁছে দিয়েছে। টানা তিন ম্যাচে পাঁচটি গোল করে হলান্ড এখন গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির মতো তারকাদের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
হলান্ডের পরিসংখ্যান যেন রূপকথার মতো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫৩ ম্যাচে ৬০ গোল করা চাট্টিখানি কথা নয়। গড়ে প্রতি ৭২ মিনিটে একটি করে গোল করে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। যদিও ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাকে বড় টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে, কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে তার আবির্ভাব যেন ফুটবল বিশ্বে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। মলদোভা, রোমানিয়া বা জিব্রাল্টারের মতো দলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি শক্তিশালী ইতালির বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বড় মঞ্চে বড় পারফরম্যান্স করতে তিনি প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, হলান্ডের বর্তমান গোল করার হার যদি অব্যাহত থাকে, তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ডও হুমকির মুখে পড়তে পারে। রোনালদো পর্তুগালের হয়ে ২৩১ ম্যাচে ১৪৫ গোল করেছেন, যেখানে হলান্ড মাত্র ৫৩ ম্যাচে ৬০ গোল করে ফেলেছেন। গাণিতিক হিসেবে দেখা যায়, হলান্ড যদি এভাবেই গোল করতে থাকেন, তবে ১২৮তম ম্যাচেই তিনি রোনালদোকে স্পর্শ করতে পারেন। যদি ২০৪০ সাল পর্যন্ত তিনি ফিট থাকেন এবং নরওয়ের হয়ে নিয়মিত খেলেন, তবে তার গোল সংখ্যা ২৬০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
হলান্ডের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও গোল করার সহজাত প্রবৃত্তি। তিনি কেবল একজন ফিনিশার নন, বরং দলের প্রয়োজনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার কারিগর। নরওয়ের ফুটবলের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে হলান্ড এখন দুর্বার। প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে গুঁড়িয়ে দিয়ে তিনি যেভাবে এগিয়ে চলেছেন, তাতে ফুটবলপ্রেমীরা এখন কেবল তার গোল দেখার অপেক্ষাতেই থাকেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে হলান্ডের এই জয়যাত্রা কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।
রিপোর্টার নাম: 
























