Hi

১২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা: নিহত অন্তত ২১

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে গত কয়েক দশকের অন্যতম ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, মস্কোর এই ব্যাপক সামরিক অভিযানে অন্তত ২১ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আকস্মিক এই হামলায় পুরো শহর কেঁপে ওঠে এবং আবাসিক ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

কিয়েভের মেয়র ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোনগুলো শহরের জনবহুল এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু হামলার তীব্রতায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। হামলার পরপরই পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

কিয়েভ ছাড়াও ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে রাশিয়ার এই সামরিক অভিযান বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে কেন্দ্র করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা দেশটির শীতকালীন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার এই আগ্রাসন কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ধ্বংস করার একটি অপপ্রয়াস।

এদিকে, বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের যে ক্ষতি হয়েছে, তার বদলা নিতেই মস্কো এই সর্বাত্মক হামলার কৌশল বেছে নিয়েছে। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে উভয় পক্ষই এখন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। একদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে রাশিয়া কিয়েভের মতো সুরক্ষিত শহরে আকাশপথে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, বেসামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এটি সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।

জনপ্রিয়

কাতারের আবু সামরা সীমান্তে মাদক পাচারের বড় চালান আটক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা: নিহত অন্তত ২১

আপডেট : ০৫:৪৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে গত কয়েক দশকের অন্যতম ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, মস্কোর এই ব্যাপক সামরিক অভিযানে অন্তত ২১ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আকস্মিক এই হামলায় পুরো শহর কেঁপে ওঠে এবং আবাসিক ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

কিয়েভের মেয়র ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোনগুলো শহরের জনবহুল এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু হামলার তীব্রতায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। হামলার পরপরই পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

কিয়েভ ছাড়াও ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে রাশিয়ার এই সামরিক অভিযান বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে কেন্দ্র করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা দেশটির শীতকালীন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার এই আগ্রাসন কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ধ্বংস করার একটি অপপ্রয়াস।

এদিকে, বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের যে ক্ষতি হয়েছে, তার বদলা নিতেই মস্কো এই সর্বাত্মক হামলার কৌশল বেছে নিয়েছে। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে উভয় পক্ষই এখন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। একদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে রাশিয়া কিয়েভের মতো সুরক্ষিত শহরে আকাশপথে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, বেসামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এটি সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।