Hi

১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে ১৯০ শিশুকে শ্রমমুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো হলো: সরকারি তথ্য

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় ১৯০ জন শিশুকে বিভিন্ন খাতের কারখানা ও প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রমমুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে শুধু ময়মনসিংহ জেলা থেকেই ১৩৩ জন শিশুশ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক আহমাদ মাসুদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের চলমান প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে আহমাদ মাসুদ জানান, যে শিশুরা শ্রমের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের অধিকাংশই এসেছে দরিদ্র পরিবার থেকে। আর্থিক অসচ্ছলতা এবং পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণের অক্ষমতাই শিশুদের শ্রমে ঠেলে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। গতকাল সোমবার ‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বিগত বছরের শিশুশ্রম নিরসনে গৃহীত দাপ্তরিক কার্যক্রমগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন, যা এই সমস্যা সমাধানে একটি সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আইসিটি ল্যাবে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই ধরনের সভাগুলো শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং প্রতিরোধের কৌশল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ প্রশস্ত করে।

সভায় আহমাদ মাসুদ সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিশুশ্রমে জড়িত শিশুদের জন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা অপরিহার্য। তিনি পরামর্শ দেন যে, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় এসব শিশুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে। একইসাথে, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তিনি সতর্ক করে দেন যে, যদি পর্যাপ্ত সহায়তা না দেওয়া হয়, তবে শিশুরা আবারও কোনো না কোনোভাবে শ্রমে নিযুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে, যা পূর্বের সকল প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে।

উপমহাপরিদর্শক আরও উল্লেখ করেন যে, শিশুশ্রমিকদের পরিবারকে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি, যাতে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শিশুদের আর কাজ করতে না হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শিশুদের আবারও শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরিয়ে এনে শিক্ষার মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষা শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার এবং সুস্থ ও উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একমাত্র পথ, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ সরকার শিশুশ্রম নিরসনে বদ্ধপরিকর এবং ২০২৫ সালের মধ্যে দেশকে সব ধরনের শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকার, বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। ময়মনসিংহ বিভাগের এই সাফল্য সরকারের সামগ্রিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ এবং এটি অন্যান্য অঞ্চলেও অনুপ্রেরণা যোগাবে।

আলোচনা সভার আগে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে এই শোভাযাত্রাটি নগরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান এই শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমগুলো শিশুশ্রমের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে এবং সমাজের মধ্যে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে।

জনপ্রিয়

সাতকানিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মীকে এলোপাতাড়ি গুলি: সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ, একজন আটক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

ময়মনসিংহে ১৯০ শিশুকে শ্রমমুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো হলো: সরকারি তথ্য

আপডেট : ০২:০০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় ১৯০ জন শিশুকে বিভিন্ন খাতের কারখানা ও প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রমমুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে শুধু ময়মনসিংহ জেলা থেকেই ১৩৩ জন শিশুশ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক আহমাদ মাসুদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের চলমান প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে আহমাদ মাসুদ জানান, যে শিশুরা শ্রমের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের অধিকাংশই এসেছে দরিদ্র পরিবার থেকে। আর্থিক অসচ্ছলতা এবং পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণের অক্ষমতাই শিশুদের শ্রমে ঠেলে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। গতকাল সোমবার ‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বিগত বছরের শিশুশ্রম নিরসনে গৃহীত দাপ্তরিক কার্যক্রমগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন, যা এই সমস্যা সমাধানে একটি সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আইসিটি ল্যাবে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই ধরনের সভাগুলো শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং প্রতিরোধের কৌশল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ প্রশস্ত করে।

সভায় আহমাদ মাসুদ সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিশুশ্রমে জড়িত শিশুদের জন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা অপরিহার্য। তিনি পরামর্শ দেন যে, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় এসব শিশুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে। একইসাথে, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তিনি সতর্ক করে দেন যে, যদি পর্যাপ্ত সহায়তা না দেওয়া হয়, তবে শিশুরা আবারও কোনো না কোনোভাবে শ্রমে নিযুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে, যা পূর্বের সকল প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে।

উপমহাপরিদর্শক আরও উল্লেখ করেন যে, শিশুশ্রমিকদের পরিবারকে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি, যাতে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শিশুদের আর কাজ করতে না হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শিশুদের আবারও শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরিয়ে এনে শিক্ষার মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষা শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার এবং সুস্থ ও উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একমাত্র পথ, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ সরকার শিশুশ্রম নিরসনে বদ্ধপরিকর এবং ২০২৫ সালের মধ্যে দেশকে সব ধরনের শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকার, বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। ময়মনসিংহ বিভাগের এই সাফল্য সরকারের সামগ্রিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ এবং এটি অন্যান্য অঞ্চলেও অনুপ্রেরণা যোগাবে।

আলোচনা সভার আগে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে এই শোভাযাত্রাটি নগরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান এই শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমগুলো শিশুশ্রমের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে এবং সমাজের মধ্যে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে।