Hi

১০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনের সাথে বাংলাদেশের নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্ব: প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক চীন সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে বেইজিংয়ের সাথে বাংলাদেশের এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

সফরের অন্যতম প্রধান প্রাপ্তি হলো অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আধুনিকায়ন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রকল্পে চীনের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

তবে এই সফর কেবল অর্থনৈতিক লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর আওতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধান একমত পোষণ করেছেন। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের মধ্যস্থতা এবং মিয়ানমারের সাথে আলোচনার গুরুত্ব নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। যদিও ঋণনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে কিছু সতর্কতা রয়েছে, তবুও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন করেছে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করেছে। এখন দেখার বিষয় হলো, স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো কতটা দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সাথে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়। এই সফরের সফল প্রতিফলন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সামনের দিনগুলোতে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করছেন নীতিনির্ধারকরা।

ই জিন ক্যারল মামলা: ট্রাম্পের আপিল আবেদন খারিজ করে দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

চীনের সাথে বাংলাদেশের নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্ব: প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা

আপডেট : ০১:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক চীন সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে বেইজিংয়ের সাথে বাংলাদেশের এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

সফরের অন্যতম প্রধান প্রাপ্তি হলো অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আধুনিকায়ন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রকল্পে চীনের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

তবে এই সফর কেবল অর্থনৈতিক লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর আওতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধান একমত পোষণ করেছেন। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের মধ্যস্থতা এবং মিয়ানমারের সাথে আলোচনার গুরুত্ব নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। যদিও ঋণনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে কিছু সতর্কতা রয়েছে, তবুও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন করেছে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করেছে। এখন দেখার বিষয় হলো, স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো কতটা দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সাথে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়। এই সফরের সফল প্রতিফলন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সামনের দিনগুলোতে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করছেন নীতিনির্ধারকরা।