Hi

১২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ

রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের একজন সদস্যকে মেট্রোরেলে স্থায়ী চাকরি দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী এনামুল হক নবীন। নোটিশটি পাঠানো হয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সিনিয়র সচিব এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে।

আইনজীবী এনামুল হক নবীন জানান, “নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নিহত কালামের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং পরিবারের একজন সদস্যকে মেট্রোরেলে স্থায়ী চাকরি দিতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের পশ্চিম পাশে ৪৩৩ নম্বর পিলার থেকে দুটি বিয়ারিং প্যাড পড়ে। এর মধ্যে একটি পথচারী আবুল কালাম আজাদের মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতের বয়স ছিল ৩৫ বছর। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা কালাম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং ছোট ভাই রয়েছেন, যিনি কালামের অর্থায়নে পড়াশোনা করতেন।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়, মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনার চরম গাফিলতি ও ত্রুটিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে উল্লেখ করা হয়, “মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ তাদের স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেনি। ত্রুটি ও ঝুঁকি জেনেও জননিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করেছে। এর ফলেই আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু হয়েছে।

আইনি নোটিশে সরকারি সহায়তা হিসেবে ঘোষিত পাঁচ লাখ টাকাকে ‘খুবই সামান্য, বাস্তবতা বিবর্জিত এবং অবমাননাকর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং চাকরির দাবি জানানো হয়।

এদিকে একই ঘটনায় মঙ্গলবার হাইকোর্টে ক্ষতিপূরণ ও তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেছেন দুই আইনজীবী তানভীর আহমেদ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা নগদ সহায়তা এবং পরিবারের একজনকে চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি দুর্ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের কথাও জানায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

জনপ্রিয়

নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থানে ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা বড় সংকটে

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ

আপডেট : ১২:১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের একজন সদস্যকে মেট্রোরেলে স্থায়ী চাকরি দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী এনামুল হক নবীন। নোটিশটি পাঠানো হয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সিনিয়র সচিব এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে।

আইনজীবী এনামুল হক নবীন জানান, “নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নিহত কালামের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং পরিবারের একজন সদস্যকে মেট্রোরেলে স্থায়ী চাকরি দিতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের পশ্চিম পাশে ৪৩৩ নম্বর পিলার থেকে দুটি বিয়ারিং প্যাড পড়ে। এর মধ্যে একটি পথচারী আবুল কালাম আজাদের মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতের বয়স ছিল ৩৫ বছর। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা কালাম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং ছোট ভাই রয়েছেন, যিনি কালামের অর্থায়নে পড়াশোনা করতেন।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়, মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনার চরম গাফিলতি ও ত্রুটিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে উল্লেখ করা হয়, “মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ তাদের স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেনি। ত্রুটি ও ঝুঁকি জেনেও জননিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করেছে। এর ফলেই আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু হয়েছে।

আইনি নোটিশে সরকারি সহায়তা হিসেবে ঘোষিত পাঁচ লাখ টাকাকে ‘খুবই সামান্য, বাস্তবতা বিবর্জিত এবং অবমাননাকর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং চাকরির দাবি জানানো হয়।

এদিকে একই ঘটনায় মঙ্গলবার হাইকোর্টে ক্ষতিপূরণ ও তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেছেন দুই আইনজীবী তানভীর আহমেদ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা নগদ সহায়তা এবং পরিবারের একজনকে চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি দুর্ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের কথাও জানায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।