Hi

১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের কারাগারে ফ্লোটিলার কর্মীরাদের মিলছে না খাবার

  • ডেস্ক সংবাদ
  • আপডেট : ১০:১১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ১২৫ জন দেখেছে

গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার শত শত কর্মীকে ইসরায়েল আটক করে কারাগারে রেখেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কারাগারে তাদের খাবার ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না।

গত শুক্রবার এই বহরের নৌযানগুলো সমুদ্র থেকে আটক করে প্রথমে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের বিভিন্ন কারাগারে রাখা হয়েছে।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইতালির চার নাগরিককে ইতোমধ্যেই তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অন্যান্য দেশের কর্মীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনও চলমান। ফ্লোটিলার আটকদের মধ্যে সুইডেনের জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থানবার্গসহ মোট ৪৭০ জন রয়েছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কারাগারে তাদের খাবার ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না।

ফ্লোটিলা থেকে অংশ নেওয়া ৪২টি নৌযান ইসরায়েলি নৌবাহিনী আটক করেছে। নৌযানগুলো গাজার বাসিন্দাদের জন্য মানবিক সহায়তা, স্বেচ্ছাসেবক এবং ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।

এদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে, আটক ১৩৭ কর্মীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ধরে ইসরায়েল থেকে তুরস্কে পাঠানো হয়েছে। হারেৎজ সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত কর্মীদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জর্ডান, কুয়েত, লিবিয়া, আলজেরিয়া, মৌরিতানিয়া, মালয়েশিয়া, বাহরাইন, মরক্কো, সুইজারল্যান্ড, তিউনিসিয়া এবং তুরস্কের নাগরিকরা।

ফিলিস্তিনিদের জন্য আইনি কেন্দ্র আদালাহ জানিয়েছে, আটক কর্মীদের সঙ্গে কেটজিওট কারাগারে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দক্ষিণ নেগেভ মরুভূমির কারাগারে রাখা হয়েছে। আদালাহর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন আটককালে খাবার পাননি এবং ওষুধও সরবরাহ করা হয়নি। অনেকেই নিরাপদ পানীয় পানির অভাবের কথা জানিয়েছেন।

ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার বহরের চার নাগরিককে দ্রুত নির্বাসনের আহ্বান জানায়। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শুরু থেকেই বহরের কার্যক্রমকে সমালোচনা করে আসছিলেন। এক বিবৃতিতে তিনি বহরকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য কোনো উপকারে আসবে না।

ইতালির চারজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই ইসরায়েলে অবস্থিত দূতাবাসের সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা ক্লান্ত হলেও সুস্থ আছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলছেন, ‘নির্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। যে কর্মীরা দ্রুত স্বাক্ষর করবেন, তাদেরই আগে ফেরত পাঠানো হবে। ফ্লোটিলা আটক হওয়ার খবর প্রকাশের পরই বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়। ইতালিতেও মেলোনি সরকারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন।

জনপ্রিয়

ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে এল ১০০ টন কাঁচা মরিচ: দু-এক দিনেই দাম কমার আশা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইসরায়েলের কারাগারে ফ্লোটিলার কর্মীরাদের মিলছে না খাবার

আপডেট : ১০:১১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার শত শত কর্মীকে ইসরায়েল আটক করে কারাগারে রেখেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কারাগারে তাদের খাবার ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না।

গত শুক্রবার এই বহরের নৌযানগুলো সমুদ্র থেকে আটক করে প্রথমে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের বিভিন্ন কারাগারে রাখা হয়েছে।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইতালির চার নাগরিককে ইতোমধ্যেই তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অন্যান্য দেশের কর্মীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনও চলমান। ফ্লোটিলার আটকদের মধ্যে সুইডেনের জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থানবার্গসহ মোট ৪৭০ জন রয়েছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কারাগারে তাদের খাবার ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না।

ফ্লোটিলা থেকে অংশ নেওয়া ৪২টি নৌযান ইসরায়েলি নৌবাহিনী আটক করেছে। নৌযানগুলো গাজার বাসিন্দাদের জন্য মানবিক সহায়তা, স্বেচ্ছাসেবক এবং ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।

এদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে, আটক ১৩৭ কর্মীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ধরে ইসরায়েল থেকে তুরস্কে পাঠানো হয়েছে। হারেৎজ সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত কর্মীদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জর্ডান, কুয়েত, লিবিয়া, আলজেরিয়া, মৌরিতানিয়া, মালয়েশিয়া, বাহরাইন, মরক্কো, সুইজারল্যান্ড, তিউনিসিয়া এবং তুরস্কের নাগরিকরা।

ফিলিস্তিনিদের জন্য আইনি কেন্দ্র আদালাহ জানিয়েছে, আটক কর্মীদের সঙ্গে কেটজিওট কারাগারে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দক্ষিণ নেগেভ মরুভূমির কারাগারে রাখা হয়েছে। আদালাহর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন আটককালে খাবার পাননি এবং ওষুধও সরবরাহ করা হয়নি। অনেকেই নিরাপদ পানীয় পানির অভাবের কথা জানিয়েছেন।

ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার বহরের চার নাগরিককে দ্রুত নির্বাসনের আহ্বান জানায়। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শুরু থেকেই বহরের কার্যক্রমকে সমালোচনা করে আসছিলেন। এক বিবৃতিতে তিনি বহরকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য কোনো উপকারে আসবে না।

ইতালির চারজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই ইসরায়েলে অবস্থিত দূতাবাসের সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা ক্লান্ত হলেও সুস্থ আছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলছেন, ‘নির্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। যে কর্মীরা দ্রুত স্বাক্ষর করবেন, তাদেরই আগে ফেরত পাঠানো হবে। ফ্লোটিলা আটক হওয়ার খবর প্রকাশের পরই বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়। ইতালিতেও মেলোনি সরকারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন।