Hi

০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে আতিথেয়তা খাতের নতুন দিগন্ত: বিহার নতুন নেতৃত্বের অভিষেক ও বিশ্বমানের পর্যটনের অঙ্গীকার

রাজধানীর বনানীর অভিজাত গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিহা) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির (২০২৬–২০৫৮) জমকালো দায়িত্ব গ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্ঠান। দেশের আতিথেয়তা ও পর্যটন খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনটি হয়ে ওঠে পারস্পরিক ঐক্য, পেশাদারিত্ব এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার এক বিশাল মিলনমেলা। ‘লিডারশিপ, ইউনিটি অ্যান্ড এক্সিলেন্স’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের হোটেল ও পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ওপর বিশেষ জোর দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য সংগঠন পরিদপ্তর, এবং দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিহার নবনির্বাচিত সভাপতি নাসের রহমান, এমপি বলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের আতিথেয়তা শিল্প অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বিকশিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রাখতে এবং বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

নাসের রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র বহুতল হোটেল ভবন নির্মাণ করলেই আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, উন্নত ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, আকর্ষণীয় ও নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বিহা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী সভাপতি খালেদ উর রহমান নবনির্বাচিত কমিটির হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন এবং সংগঠনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্ব শিল্পের নীতিগত সংস্কারে এবং সদস্যদের মাঝে দৃঢ় সমন্বয় সাধনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বর্তমান সরকারের পর্যটনবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সব ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত। বিশ্বে পর্যটন শিল্প এখন একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়; বিশেষ করে আধুনিক হোটেল, রিসোর্ট, মেডিকেল ট্যুরিজম এবং মাইস (মিটিং, ইনসেনটিভ, কনফারেন্স ও এক্সিবিশন) ট্যুরিজমের মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো দ্রুত প্রসার লাভ করছে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সম্ভাবনাময় খাতটিকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) দীর্ঘদিন ধরে দেশের আন্তর্জাতিক ও বিলাসবহুল হোটেল খাতের স্বার্থ সংরক্ষণ, টেকসই পর্যটনের বিকাশ এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে বাংলাদেশকে একটি শীর্ষস্থানীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি কাজ শুরু করেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, নতুন এই নেতৃত্বের হাত ধরে দেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাত এক নতুন প্রতিযোগিতামূলক ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

জনপ্রিয়

তকদির ও মানুষের স্বাধীনতা: ইসলামি দর্শনে ভাগ্য এবং কর্মের সুষম সমন্বয়

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বাংলাদেশে আতিথেয়তা খাতের নতুন দিগন্ত: বিহার নতুন নেতৃত্বের অভিষেক ও বিশ্বমানের পর্যটনের অঙ্গীকার

আপডেট : ০৪:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর বনানীর অভিজাত গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিহা) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির (২০২৬–২০৫৮) জমকালো দায়িত্ব গ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্ঠান। দেশের আতিথেয়তা ও পর্যটন খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনটি হয়ে ওঠে পারস্পরিক ঐক্য, পেশাদারিত্ব এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার এক বিশাল মিলনমেলা। ‘লিডারশিপ, ইউনিটি অ্যান্ড এক্সিলেন্স’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের হোটেল ও পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ওপর বিশেষ জোর দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য সংগঠন পরিদপ্তর, এবং দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিহার নবনির্বাচিত সভাপতি নাসের রহমান, এমপি বলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের আতিথেয়তা শিল্প অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বিকশিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রাখতে এবং বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

নাসের রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র বহুতল হোটেল ভবন নির্মাণ করলেই আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, উন্নত ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, আকর্ষণীয় ও নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বিহা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী সভাপতি খালেদ উর রহমান নবনির্বাচিত কমিটির হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন এবং সংগঠনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্ব শিল্পের নীতিগত সংস্কারে এবং সদস্যদের মাঝে দৃঢ় সমন্বয় সাধনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বর্তমান সরকারের পর্যটনবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সব ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত। বিশ্বে পর্যটন শিল্প এখন একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়; বিশেষ করে আধুনিক হোটেল, রিসোর্ট, মেডিকেল ট্যুরিজম এবং মাইস (মিটিং, ইনসেনটিভ, কনফারেন্স ও এক্সিবিশন) ট্যুরিজমের মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো দ্রুত প্রসার লাভ করছে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সম্ভাবনাময় খাতটিকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) দীর্ঘদিন ধরে দেশের আন্তর্জাতিক ও বিলাসবহুল হোটেল খাতের স্বার্থ সংরক্ষণ, টেকসই পর্যটনের বিকাশ এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে বাংলাদেশকে একটি শীর্ষস্থানীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি কাজ শুরু করেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, নতুন এই নেতৃত্বের হাত ধরে দেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাত এক নতুন প্রতিযোগিতামূলক ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।