দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ ও সহিংসতার পেছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে সৃষ্ট তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের মনে যে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে, তা আড়াল করতেই ছাত্রদল ও যুবদলকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনার পর পুরানা পল্টনে অবস্থিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ছাত্রশিবির সভাপতি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্রদলের তথাকথিত সন্ত্রাসী সক্ষমতা প্রমাণের এই অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের জন্যই বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে।
সংবাদ সম্মেলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ঘটিত সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে নূরুল ইসলাম জানান, জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের বিশাল অঙ্কের উন্নয়নমূলক কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই কাজ সেনাবাহিনীর হাতে থাকলে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অবৈধ কমিশন বাটোয়ারার সুযোগ থাকে না। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কাজ হলে হরিলুটের সুযোগ থাকে জেনেই ছাত্রদলের একটি পক্ষ সেনাবাহিনীর কাছে কাজ হস্তান্তরের তীব্র বিরোধিতা করে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এই হামলায় জকসু নেতাসহ অন্তত কুড়িজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পরিস্থিতির এখানেই শেষ নয় উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পর কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দ্বিতীয় দফায় ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে হামলা চালায়। সেখানে চিকিৎসাধীন সাধারণ রোগীদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। পাশাপাশি, ঢাকা কলেজে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আহতদের সম্মাননা জানানোর প্রস্তুতি অনুষ্ঠান বানচাল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার আবাসিক হলে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে হামলা চালানোর তীব্র নিন্দা জানান ছাত্রশিবির সভাপতি।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নূরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো উসকানি ছাড়াই ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ছাত্রনেতাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। শাহবাগ থানায় সংঘটিত ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে থানার ভেতর হামলার মধ্য দিয়ে এই অস্থিতিশীলতার সূচনা হয়েছে। অথচ প্রশাসনের রহস্যময় নীরবতা অপরাধীদের দিন দিন আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে। সরকারের উচ্চ মহল থেকেই এসব কর্মকাণ্ডে ইন্ধন জোগানো হচ্ছে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
ক্ষমতার মসনদের নড়বড়ে অবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ক্ষমতার চেয়ার অত্যন্ত পিচ্ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃত্রিমভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে বেশি দিন টিকে থাকা যাবে না। বর্তমান সরকারের পতন ত্বরান্বিত করতে যুবদল ও ছাত্রদলের নীতিহীন কার্যক্রমই যথেষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, এসব অনভিপ্রেত হামলা ও সহিংসতার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে একটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার সকাল ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত একটি বিশাল ছাত্র-গণজমায়েত কর্মসূচি পালিত হবে। তবে সাংবাদিকরা কোনো আইনি পদক্ষেপ বা মামলা করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে নূরুল ইসলাম জানান, অতীতে এ ধরনের ঘটনার মামলা করে কোনো প্রতিকার বা ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি বিধায় তারা এবার মামলার পথে যাননি। তবে তিনি অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ, দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান এবং ছাত্র অধিকার সম্পাদক ও জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতেই এই হামলার প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটের সামনে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
রিপোর্টার নাম: 























