Hi

১২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় মনোরেল চালুর পরিকল্পনা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:২০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২ জন দেখেছে

ঢাকায় মনোরেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। মূলত মেট্রোরেল যাত্রীদের যাতায়াতের শেষ ধাপের সংযোগ বা ফিডার সার্ভিস হিসেবে মনোরেলকে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি করিডরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সাথে বুয়েটের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত হতে যাওয়া এই সমীক্ষার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হবে ঢাকার মনোরেল পথের ভবিষ্যৎ।

সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা বা আরএসটিপি অনুযায়ী, আগে প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল করিডরের প্রস্তাব ছিল। করিডরগুলো হলো—বিমানবন্দর থেকে বসুন্ধরা (পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে), মধ্য বাড্ডা থেকে ভুলতা, রামপুরা থেকে ডেমরা, মোহাম্মদপুর থেকে পোস্তগোলা এবং বিমানবন্দর থেকে সাভার (উত্তরা সেন্টার হয়ে)। প্রস্তাবিত করিডরগুলো হলো—পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা (২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার), মধ্য বাড্ডা-ভুলতা (১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার), রামপুরা-ডেমরা (১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার), মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা (১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) ও উ। প্রস্তাবিত করিডরগুলো হলো—পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা (২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার), মধ্য বাড্ডা-ভুলতা (১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার), রামপুরা-ডেমরা (১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার), মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা (১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) ও উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার (১৭।

তবে ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান জানিয়েছেন, কেবল আগের পাঁচটি রুট নয়, বুয়েটের পরামর্শ অনুযায়ী এখন মোট ১৪টি রুট যাচাই করা হচ্ছে। পুরো সমীক্ষাটি শেষ করতে ছয় মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তিন মাসের মধ্যেই একটি উপযুক্ত করিডর বাছাইয়ের লক্ষ্য রয়েছে তাদের। তিনি জানান, প্রাথমিক বিবেচনায় পাঁচটি রুট রাখা হয়েছিল।

ডিটিসিএর লক্ষ্য হলো, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত একটি মনোরেল রুট চালু করা। এই সরকারি সমীক্ষায় রুটের বিন্যাস, স্টেশন ও ডিপোর অবস্থান, যাত্রী চাহিদা, কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে।

যেসব ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাস্তা সরু এবং ভারী অবকাঠামো নির্মাণের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে মনোরেল কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা-ই মূলত খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সাথে এর সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ।

উল্লেখ্য যে, ঢাকায় মনোরেল সেবা চালু করা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। মূলত অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিচালন ব্যয় এবং যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা যাচাইয়ের ওপরই এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

সম্প্রতি দেশে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েরও খবর আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ারবাসের ১০ বিমান কেনার সরকারি পরিকল্পনা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ ওষুধে শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা এবং বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার বিষয়টি। বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০ বিমান কিনছে সরকার।

এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে চট্টগ্রামের মানুষকে নিয়ে দেওয়া মাওলানা আতাউলের মন্তব্য, রাড্ডা এমসিএইচ ভাঙচুরের তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের মার্কিন ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মতো ঘটনাগুলোও জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ঢাকায় মনোরেল চালুর পরিকল্পনা

আপডেট : ১০:২০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকায় মনোরেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। মূলত মেট্রোরেল যাত্রীদের যাতায়াতের শেষ ধাপের সংযোগ বা ফিডার সার্ভিস হিসেবে মনোরেলকে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি করিডরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সাথে বুয়েটের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত হতে যাওয়া এই সমীক্ষার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হবে ঢাকার মনোরেল পথের ভবিষ্যৎ।

সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা বা আরএসটিপি অনুযায়ী, আগে প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল করিডরের প্রস্তাব ছিল। করিডরগুলো হলো—বিমানবন্দর থেকে বসুন্ধরা (পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে), মধ্য বাড্ডা থেকে ভুলতা, রামপুরা থেকে ডেমরা, মোহাম্মদপুর থেকে পোস্তগোলা এবং বিমানবন্দর থেকে সাভার (উত্তরা সেন্টার হয়ে)। প্রস্তাবিত করিডরগুলো হলো—পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা (২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার), মধ্য বাড্ডা-ভুলতা (১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার), রামপুরা-ডেমরা (১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার), মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা (১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) ও উ। প্রস্তাবিত করিডরগুলো হলো—পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা (২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার), মধ্য বাড্ডা-ভুলতা (১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার), রামপুরা-ডেমরা (১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার), মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা (১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) ও উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার (১৭।

তবে ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান জানিয়েছেন, কেবল আগের পাঁচটি রুট নয়, বুয়েটের পরামর্শ অনুযায়ী এখন মোট ১৪টি রুট যাচাই করা হচ্ছে। পুরো সমীক্ষাটি শেষ করতে ছয় মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তিন মাসের মধ্যেই একটি উপযুক্ত করিডর বাছাইয়ের লক্ষ্য রয়েছে তাদের। তিনি জানান, প্রাথমিক বিবেচনায় পাঁচটি রুট রাখা হয়েছিল।

ডিটিসিএর লক্ষ্য হলো, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত একটি মনোরেল রুট চালু করা। এই সরকারি সমীক্ষায় রুটের বিন্যাস, স্টেশন ও ডিপোর অবস্থান, যাত্রী চাহিদা, কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে।

যেসব ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাস্তা সরু এবং ভারী অবকাঠামো নির্মাণের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে মনোরেল কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা-ই মূলত খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সাথে এর সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ।

উল্লেখ্য যে, ঢাকায় মনোরেল সেবা চালু করা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। মূলত অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিচালন ব্যয় এবং যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা যাচাইয়ের ওপরই এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

সম্প্রতি দেশে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েরও খবর আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ারবাসের ১০ বিমান কেনার সরকারি পরিকল্পনা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ ওষুধে শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা এবং বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার বিষয়টি। বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০ বিমান কিনছে সরকার।

এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে চট্টগ্রামের মানুষকে নিয়ে দেওয়া মাওলানা আতাউলের মন্তব্য, রাড্ডা এমসিএইচ ভাঙচুরের তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের মার্কিন ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মতো ঘটনাগুলোও জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।