বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত আলাপচারিতা থেকে শুরু করে ব্যাংকিং লেনদেন—সবকিছুই এখন ফোনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে নিয়মিত কিছু সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নিলে এমন বিপদ থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তবে ফোন চুরি বা হারিয়ে যাওয়ার আগেই সেটিংস পরিবর্তনসহ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ধরুন, আপনার ফোনটি এইমাত্র চুরি হয়েছে। এখন অন্য কোনো ফোন বা কম্পিউটার থেকে অ্যাপল বা গুগল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে হবে।
১. ‘ফাইন্ড মাই’ বা ‘ফাইন্ড হাব’ সক্রিয় রাখা: আইফোনের ‘ফাইন্ড মাই’ কিংবা অ্যান্ড্রয়েডের ‘ফাইন্ড হাব’ সুবিধাটি ফোনের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এসব সেবার মাধ্যমে হারানো ফোনের বর্তমান অবস্থান জানা যায়। প্রয়োজনে দূর থেকে ফোন লক করা কিংবা জরুরি তথ্য মুছে ফেলাও সম্ভব। তাই এখনই আপনার ফোনের সেটিংসে গিয়ে এই ফিচারগুলো চালু আছে কি না, তা যাচাই করে নিন। শুধু ব্যাকআপের অপশন চালু আছে কি না, তা দেখলেই হবে না।
২. শক্তিশালী পাসকোড ব্যবহার: ফেস আইডি বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় অনেকেই পাসকোডকে অবহেলা করেন, যা ঠিক নয়। জন্মতারিখ, ১২৩৪৫৬ বা ০০০০০০-এর মতো সহজ পিন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। জনসমক্ষে ফোন ব্যবহারের সময় পিন দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ তা দেখে না ফেলে। আইফোন ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য ‘স্টোলেন ডিভাইস প্রটেকশন’ মোডটি চালু রাখতে পারেন।
৩. লক স্ক্রিনে গোপনীয়তা বজায় রাখা: ফোন লক থাকা অবস্থায় যেন কোনো স্পর্শকাতর নোটিফিকেশন দেখা না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ওটিপি, কার্ডের লেনদেন বা পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের কোড যাতে লক স্ক্রিনেই ভেসে না ওঠে, তা নোটিফিকেশন সেটিংস থেকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
৪. গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপগুলো সুরক্ষিত করা: ব্যাংকিং, ই-মেইল, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ও অথেনটিকেটর অ্যাপগুলো সাধারণ অ্যাপ থেকে আলাদা। ফোনে অ্যাপ লক বা প্রাইভেট স্পেস সুবিধা থাকলে এগুলোকে বাড়তি সুরক্ষা দিয়ে রাখুন। বিশেষ করে আর্থিক লেনদেনের অ্যাপগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা স্তর বাড়ানো প্রয়োজন। ব্যাংকিং ও এমএফএস অ্যাপগুলোয় সাধারণত আলাদা নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে।
৫. সিম কার্ডের সুরক্ষা: ওটিপি পাওয়ার জন্য ফোন নম্বর অত্যন্ত জরুরি। তাই ফোন হারিয়ে গেলে দ্রুত মোবাইল অপারেটরকে জানিয়ে সিম বন্ধ করার বা নতুন সিম নেওয়ার প্রক্রিয়াটি আগে থেকেই জেনে রাখা উচিত। সিমের পিন কোড সেট করে রাখা যেতে পারে, তবে এক্ষেত্রে পিইউকে কোডের ব্যবহার সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা প্রয়োজন।
৬. নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা: ফোনের হার্ডওয়্যার কেনা গেলেও তথ্য হারিয়ে গেলে তা উদ্ধার করা কঠিন। তাই স্বয়ংক্রিয় ক্লাউড ব্যাকআপ সক্রিয় রাখুন এবং নিয়মিত চেক করুন যেন ছবি, পরিচিতির নম্বর ও নথিপত্র সঠিকভাবে ব্যাকআপ হচ্ছে।
৭. অফলাইন রিকভারি কোড সংরক্ষণ: ফোন হারানোর পর অন্য কোনো ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজন হতে পারে রিকভারি কোড। এই কোডগুলো ফোনের ভেতরে না রেখে নিরাপদ কোনো কাগজে লিখে বা আলাদা জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখুন।
৮. আইএমইআই (IMEI) নম্বর রাখা: প্রতিটি ফোনের আইএমইআই নম্বর আলাদা। ফোন কেনার সময় দেওয়া বক্স বা চালানে এটি পাওয়া যায়। ফোন হারানোর পর আইএমইআই খুঁজে বের করার বিড়ম্বনা এড়াতে এটি আগে থেকেই আলাদা কোথাও লিখে রাখুন। অথচ ফোনের নিরাপত্তায় এটি অন্যতম প্রধান সুরক্ষাব্যবস্থা।
৯. আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রক্ষা: কোন আর্থিক অ্যাপ ফোনে রয়েছে তার একটি তালিকা রাখুন। ফোন খোয়া গেলে তৎক্ষণাৎ ব্যাংক বা এমএফএস (MFS) সেবাদাতাদের সাথে যোগাযোগ করে অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করার নিয়মাবলী জানা থাকা জরুরি। কোনোভাবেই ফোনের নোটস অ্যাপে কার্ডের তথ্য বা পাসওয়ার্ড লিখে রাখবেন না, কারণ ফোন চুরি হলে তা অন্যের হাতে পড়তে পারে। কারণ, বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের লিংক অনেক সময় ই–মেইলেই আসে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ড বা পুনরুদ্ধারের তথ্য যদি শুধু চুরি যাওয়া ফোনেই থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
রিপোর্টার নাম: 






















