Hi

০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব স্তরের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই নতুন সাইবার আইন

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৩:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ জন দেখেছে

সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে সোমবার ঢাকায় অংশীজনদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় মিলিত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী ও জনবান্ধব আইন প্রণয়ন করা, যার মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সাইবার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে। বিশেষ করে দেশের যুব সমাজকে অনলাইন অপরাধ থেকে রক্ষা করা এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, আইনটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমকে কোনোভাবেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা যাতে অহেতুক হয়রানি বা অন্যায্য ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সেজন্য নতুন প্রস্তাবনায় বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালত থেকে পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া, আপিল মামলার নিষ্পত্তিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে ভুক্তভোগীদের অনির্দিষ্টকাল আইনি অনিশ্চয়তায় ঝুলে থাকতে না হয়।

সুপারিশ ও মতামতের সমন্বয়ের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যৌথ তদারকিতে একটি বিশেষ ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সম্পাদক পরিষদ, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী সাত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটি সভায় বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ রাখা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগে প্রস্তাবটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সর্বসাধারণের মতামত নেওয়া হবে এবং গ্রহণযোগ্য পরামর্শগুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত আলোচনার পর মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য তা পেশ করা হবে। পরিশেষে, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনার মাধ্যমে আইনটি পাস করার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া, আইনটি চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের মতামতের প্রতিফলন ঘটানো হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আইনটি সমৃদ্ধ হবে।

জনপ্রিয়

জাতিসংঘের সভায় ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে বাহুবলীর দৃশ্য, হইচই

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সব স্তরের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই নতুন সাইবার আইন

আপডেট : ০৩:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে সোমবার ঢাকায় অংশীজনদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় মিলিত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী ও জনবান্ধব আইন প্রণয়ন করা, যার মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সাইবার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে। বিশেষ করে দেশের যুব সমাজকে অনলাইন অপরাধ থেকে রক্ষা করা এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, আইনটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমকে কোনোভাবেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা যাতে অহেতুক হয়রানি বা অন্যায্য ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সেজন্য নতুন প্রস্তাবনায় বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালত থেকে পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া, আপিল মামলার নিষ্পত্তিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে ভুক্তভোগীদের অনির্দিষ্টকাল আইনি অনিশ্চয়তায় ঝুলে থাকতে না হয়।

সুপারিশ ও মতামতের সমন্বয়ের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যৌথ তদারকিতে একটি বিশেষ ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সম্পাদক পরিষদ, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী সাত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটি সভায় বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ রাখা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগে প্রস্তাবটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সর্বসাধারণের মতামত নেওয়া হবে এবং গ্রহণযোগ্য পরামর্শগুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত আলোচনার পর মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য তা পেশ করা হবে। পরিশেষে, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনার মাধ্যমে আইনটি পাস করার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া, আইনটি চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের মতামতের প্রতিফলন ঘটানো হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আইনটি সমৃদ্ধ হবে।