Hi

০২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষক-কর্মকর্তারা ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০১:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ জন দেখেছে

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজকে মুক্ত করার এক দফা দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। গত রোববার বেলা ১১টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এতে ভবনের অভ্যন্তরে অধ্যক্ষ, ১৪ জন শিক্ষক এবং ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

তালাবদ্ধ প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা ‘এক দুই তিন চার, কারিগরি আমায় ছাড়’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’ এবং ‘কারিগরির দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবি পুরোপুরো না মানা পর্যন্ত এই তালা খোলা হবে না এবং শিক্ষকদের অবরুদ্ধ থাকতে হবে।

অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান জানান, টানা ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে তারা বাইরের খাবার আনিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে এনে গ্রহণ করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁদের বেশির ভাগই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করা সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বর্তমানে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, পুরকৌশল এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল—এই তিন বিভাগে পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা রয়ে গেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনিক ও একাডেমিক—উভয় কার্যক্রমই পুরোপুরি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিতে হবে।

এদিকে আন্দোলন চলাকালীন গত রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়। অন্যদিকে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীরা এই রদবদল প্রত্যাখ্যান করেছেন। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, তাদের মূল লক্ষ্য কারিগরি অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে পুরোপুরি মুক্তি। আন্দোলন চলাকালে মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তরের জারি করা কোনো আদেশ বা বদলি তারা মেনে নেবেন না এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট, বন্ধ পাঁচ রুটের বাস

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষক-কর্মকর্তারা ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ

আপডেট : ০১:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজকে মুক্ত করার এক দফা দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। গত রোববার বেলা ১১টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এতে ভবনের অভ্যন্তরে অধ্যক্ষ, ১৪ জন শিক্ষক এবং ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

তালাবদ্ধ প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা ‘এক দুই তিন চার, কারিগরি আমায় ছাড়’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’ এবং ‘কারিগরির দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবি পুরোপুরো না মানা পর্যন্ত এই তালা খোলা হবে না এবং শিক্ষকদের অবরুদ্ধ থাকতে হবে।

অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান জানান, টানা ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে তারা বাইরের খাবার আনিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে এনে গ্রহণ করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁদের বেশির ভাগই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করা সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বর্তমানে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, পুরকৌশল এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল—এই তিন বিভাগে পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা রয়ে গেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনিক ও একাডেমিক—উভয় কার্যক্রমই পুরোপুরি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিতে হবে।

এদিকে আন্দোলন চলাকালীন গত রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়। অন্যদিকে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীরা এই রদবদল প্রত্যাখ্যান করেছেন। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, তাদের মূল লক্ষ্য কারিগরি অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে পুরোপুরি মুক্তি। আন্দোলন চলাকালে মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তরের জারি করা কোনো আদেশ বা বদলি তারা মেনে নেবেন না এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও অবরোধ অব্যাহত থাকবে।