Hi

০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের কারামুক্তিতে বাধা নেই, আপিল বিভাগের ‘নো অর্ডার’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থির সময়ে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের কারামুক্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁর জামিন স্থগিতের আবেদন খারিজ করে ‘নো অর্ডার’ প্রদান করেছেন। বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চেম্বার আদালত এই আদেশ দেন, যার ফলে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল থাকল।

আইনি সূত্র অনুযায়ী, গত ২৩ মে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় খোবাইব নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলায় তাঁর নাম এজাহারে না থাকলেও পরবর্তী তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে অধস্তন আদালতে জামিন না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং গত ৩০ জুন হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করলে আজ চেম্বার আদালত তা নাকচ করে দেন।

সাবেক প্রধান বিচারপতির আইনজীবী মোতাহার হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মোট আটটি মামলায় খায়রুল হককে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি মামলায় তিনি আগেই জামিন পেয়েছিলেন, যা আপিল বিভাগ কর্তৃক বহাল রয়েছে। আজকের আদেশের ফলে সর্বশেষ যাত্রাবাড়ী থানার মামলাটিতেও তাঁর জামিন নিশ্চিত হলো। এর ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা অবশিষ্ট রইল না।

উল্লেখ্য যে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ২০১১ সালের মে মাসে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল, যা তৎকালীন রাজনীতি ও বিচারিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত আলোচিত ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। গত বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে দায়ের করা একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এখন তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।

জনপ্রিয়

পুরান ঢাকার চকবাজারে প্লাস্টিক কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের কারামুক্তিতে বাধা নেই, আপিল বিভাগের ‘নো অর্ডার’

আপডেট : ০৫:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থির সময়ে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের কারামুক্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁর জামিন স্থগিতের আবেদন খারিজ করে ‘নো অর্ডার’ প্রদান করেছেন। বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চেম্বার আদালত এই আদেশ দেন, যার ফলে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল থাকল।

আইনি সূত্র অনুযায়ী, গত ২৩ মে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় খোবাইব নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলায় তাঁর নাম এজাহারে না থাকলেও পরবর্তী তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে অধস্তন আদালতে জামিন না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং গত ৩০ জুন হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করলে আজ চেম্বার আদালত তা নাকচ করে দেন।

সাবেক প্রধান বিচারপতির আইনজীবী মোতাহার হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মোট আটটি মামলায় খায়রুল হককে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি মামলায় তিনি আগেই জামিন পেয়েছিলেন, যা আপিল বিভাগ কর্তৃক বহাল রয়েছে। আজকের আদেশের ফলে সর্বশেষ যাত্রাবাড়ী থানার মামলাটিতেও তাঁর জামিন নিশ্চিত হলো। এর ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা অবশিষ্ট রইল না।

উল্লেখ্য যে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ২০১১ সালের মে মাসে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল, যা তৎকালীন রাজনীতি ও বিচারিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত আলোচিত ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। গত বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে দায়ের করা একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এখন তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।