দীর্ঘ দুই যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফুটবলের বৈশ্বিক মঞ্চে এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ফুটবল দল (ইউএসএমএনটি)। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জয়লাভ করে দলটি বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ড বা শেষ ষোলোতে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। এই জয়টি কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং গত ২৪ বছরে নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে ফুটবল বিশ্বে সমাদৃত হচ্ছে।
ম্যাচটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে অন্যতম উজ্জ্বল পারফর্মার ছিলেন মালিক টিলম্যান। তার ক্ষুরধার বুদ্ধিমত্তা এবং মিডফিল্ডে নিয়ন্ত্রিত ফুটবল দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে এই জয়টি মোটেও সহজ ছিল না। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ফোলারিন বালোগুন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ১০ জনের দলে পরিণত হয়। দলের সেরা একজন খেলোয়াড়কে হারিয়েও মার্কিন ফুটবলাররা যে মানসিক দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছেন, তা ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। একজন খেলোয়াড় কম থাকা সত্ত্বেও রক্ষণভাগ এবং আক্রমণভাগের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় বজায় রেখে তারা বসনিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করেছে।
ম্যাচের শুরুতে ফোলারিন বালোগুন একটি গোল করার সুযোগ তৈরি করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে সেই হতাশাকে পেছনে ফেলে দলবদ্ধ প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। কোচিং স্টাফের কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য—এই দুইয়ের সংমিশ্রণে ইউএসএমএনটি প্রমাণ করেছে যে তারা বিশ্বমঞ্চে যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম।
এই জয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন নকআউট পর্বের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী ম্যাচে তারা কোন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে মূল আলোচনার বিষয় হলো, চাপের মুখেও মার্কিন দলের এই ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা। ২৪ বছর পর নকআউট পর্বের এই সাফল্য আমেরিকান ফুটবলের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সামনে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করলেও, বর্তমান ফর্ম এবং আত্মবিশ্বাস ইউএসএমএনটিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রিপোর্টার নাম: 






















