ফেনী জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর জেলায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৫৫ জন হ্রাস পেয়েছে। যদিও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য কঠোর প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে, তবুও ঝরে পড়ার এই ক্রমবর্ধমান হার স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ফেনীতে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ জন, যা ২০২৪ সালে সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ হাজার ১৭৯ জনে পৌঁছালেও, ২০২৫ সালে তা কমে ১২ হাজার ৪৮৭ জনে নেমে এসেছে।
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি অনীহা, কারিগরি শিক্ষার দিকে ঝুঁকে পড়া, বিদেশ গমনের প্রবণতা এবং সামাজিক কুসংস্কারের মতো বিষয়গুলো এই ঝরে পড়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছে। ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এনামুল হক জানিয়েছেন, দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীই পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়ছে। বিশেষ করে নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া এবং মেয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ের অভিশাপ তাদের শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে দিচ্ছে। এছাড়া অর্থনৈতিক সংকট ও শিশুশ্রমের মতো বিষয়গুলোও অনেক পরিবারকে বাধ্য করছে সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে।
আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এই পরীক্ষায় ফেনীর ২১টি কেন্দ্রে মোট ১১ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে এইচএসসিতে ৮ হাজার ৬৫৭ জন, আলিমে ১ হাজার ৬১৮ জন এবং ভোকেশনালে ৭৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানিয়েছেন, পরীক্ষা চলাকালীন ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জেলার সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে এবং কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। এছাড়া ফটোকপির দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফি উল্লাহ জানিয়েছেন, পরীক্ষা নকলমুক্ত রাখতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও, ঝরে পড়ার এই ধারা রোধ করতে হলে কেবল প্রশাসনিক কড়াকড়ি যথেষ্ট নয়। বরং পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বাল্যবিয়ে রোধ এবং কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টার নাম: 



















