Hi

০৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের প্রাক্কালে হয়রানির শিকার অভিনেতা কমল পাটেকর, মধ্যরাতে বাড়িতে পুলিশ

জনপ্রিয় অভিনেতা কমল পাটেকর সম্প্রতি এক ভয়াবহ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যা দেশের বিনোদন অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত রোববার গভীর রাতে কোনো পূর্ব ঘোষণা বা বৈধ ওয়ারেন্ট ছাড়াই একদল পুলিশ তার বাসভবনে উপস্থিত হয়। মধ্যরাতে পুলিশের এই আকস্মিক উপস্থিতিতে অভিনেতা ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হন। তল্লাশির নামে পরিচালিত এই অভিযানের পর জানা যায়, জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত একটি রাজনৈতিক মামলার এজাহারে হঠাৎ করেই তার নাম যুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে কমল পাটেকর জানান, তিনি দীর্ঘ অভিনয় জীবনে কখনোই কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার ভাষ্যমতে, তিনি সবসময়ই শুটিং এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) কেন্দ্রিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জুলাই মাসের ঘটনার সঙ্গে যদি তিনি কোনোভাবে জড়িত থাকতেন, তবে এত দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনের ঠিক দুদিন আগে কেন তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো? অভিনেতার দাবি, আসন্ন শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদে প্রার্থী হওয়ায় একটি মহল তাকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে এবং ব্যক্তিগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এই গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতির নোংরামির শিকার। আমি কোনোদিন কোনো দলের হয়ে কাজ করিনি। এই মিথ্যা মামলা ও হয়রানির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দুই হাজারের বেশি সিনেমায় অভিনয় করা এই প্রবীণ শিল্পী সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার আশায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তার এই আকস্মিক হয়রানির ঘটনায় সহকর্মী ও বিনোদন জগতের তারকারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়।

উল্লেখ্য, কমল পাটেকর দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আসন্ন নির্বাচনে আরমান-মুক্তি পরিষদ থেকে প্রার্থী হওয়া এই অভিনেতা বরাবরই শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষার পক্ষে সোচ্চার। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে এমন হয়রানির শিকার হওয়াকে তিনি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার শুভানুধ্যায়ীরা। বর্তমানে বিষয়টি বিনোদন পাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয়

৭ কোটি ৩৬ লাখ নাগরিকের হাতে স্মার্ট এনআইডি: নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নির্বাচনের প্রাক্কালে হয়রানির শিকার অভিনেতা কমল পাটেকর, মধ্যরাতে বাড়িতে পুলিশ

আপডেট : ১২:০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

জনপ্রিয় অভিনেতা কমল পাটেকর সম্প্রতি এক ভয়াবহ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যা দেশের বিনোদন অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত রোববার গভীর রাতে কোনো পূর্ব ঘোষণা বা বৈধ ওয়ারেন্ট ছাড়াই একদল পুলিশ তার বাসভবনে উপস্থিত হয়। মধ্যরাতে পুলিশের এই আকস্মিক উপস্থিতিতে অভিনেতা ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হন। তল্লাশির নামে পরিচালিত এই অভিযানের পর জানা যায়, জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত একটি রাজনৈতিক মামলার এজাহারে হঠাৎ করেই তার নাম যুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে কমল পাটেকর জানান, তিনি দীর্ঘ অভিনয় জীবনে কখনোই কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার ভাষ্যমতে, তিনি সবসময়ই শুটিং এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) কেন্দ্রিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জুলাই মাসের ঘটনার সঙ্গে যদি তিনি কোনোভাবে জড়িত থাকতেন, তবে এত দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনের ঠিক দুদিন আগে কেন তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো? অভিনেতার দাবি, আসন্ন শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদে প্রার্থী হওয়ায় একটি মহল তাকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে এবং ব্যক্তিগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এই গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতির নোংরামির শিকার। আমি কোনোদিন কোনো দলের হয়ে কাজ করিনি। এই মিথ্যা মামলা ও হয়রানির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দুই হাজারের বেশি সিনেমায় অভিনয় করা এই প্রবীণ শিল্পী সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার আশায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তার এই আকস্মিক হয়রানির ঘটনায় সহকর্মী ও বিনোদন জগতের তারকারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়।

উল্লেখ্য, কমল পাটেকর দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আসন্ন নির্বাচনে আরমান-মুক্তি পরিষদ থেকে প্রার্থী হওয়া এই অভিনেতা বরাবরই শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষার পক্ষে সোচ্চার। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে এমন হয়রানির শিকার হওয়াকে তিনি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার শুভানুধ্যায়ীরা। বর্তমানে বিষয়টি বিনোদন পাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।