Hi

০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাহসিন হত্যায় অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে ইট-বালুর ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসিনকে হত্যার ঘটনায় প্রায় দুই বছর পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। গত ২৯ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম এই অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাজানি হয়। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ব্যবসায়িক আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাহসিনকে হত্যা করা হয়েছে। চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে ইট-বালুর ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসিন (২৭) হত্যার ঘটনায় আটজন সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, সাজ্জাদ ও তার সহযোগীরা অভিন্ন উদ্দেশ্যে এতে অংশ নেন।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি আটজন অংশ নিয়েছিলেন। তারা হলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, মো. হাসান, মোহাম্মদ, মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী, মো. হেলাল, মো. ইলিয়াস হোসেন অপু, মো. বোরহান এবং মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী। বর্তমানে ছোট সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমন কারাগারে আছেন। তবে বড় সাজ্জাদ এই ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। তবে বড় সাজ্জাদ দাবি করেছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁ কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

সরাসরি অংশ নেওয়া আটজনের বাইরে আরও তিনজনকে ঘটনায় সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন মো. এমরান, মো. সাইফুল ইসলাম ও শিহাব উদ্দিন সিদ্দিকী ওরফে রিহান শিহাব। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই তিনজন আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা জানতেন এবং মূল অপরাধীদের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহসহ সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা ও ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা আগে থেকে জানা, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ এবং হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তারা তাহসিনের চায়ের দোকানের দিকে এগিয়ে যান।

২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে চান্দগাঁও থানার অদূরপপাড়া এলাকায় তাহসিনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ওইদিন একটি কালো নোহা গাড়িতে চড়ে হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। চায়ের দোকানে বসা তাহসিনকে লক্ষ্য করে শটগানের গুলি চালানো হয় এবং পরে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা পালিয়ে যায়। চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সম্পৃক্ততার ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। চায়ের দোকানে বসে থাকা তাহসিনকে লক্ষ্য করে তাঁরা গুলি চালান। এরপর তাকে লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ছোড়া হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে চারটি ফায়ার করা কার্তুজ, ১০টি ধাতব পিলেট ও ইনার ওয়াড উদ্ধার করা হয়েছে।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফরেনসিক ব্যালিস্টিক ল্যাবে পরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞ মুহম্মদ শাকেরুল আলম জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত কার্তুজগুলো ১২ বোরের শটগান বা সমজাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছিল। এছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সিসিটিভি ফুটেজ, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কালো নোহা গাড়ি এবং ভুক্তভোগীর রক্তমাখা পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের আলামত, গাড়ির ভিডিও ফুটেজ, ময়নাতদন্ত ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক অপর্ণা দাশ ও মাহরিন ইসলাম তাহসিনের ময়নাতদন্ত করেন।

সিলেট টেস্টে চাপে বাংলাদেশ, ২৬৮ রানে পিছিয়ে থেকে দিন শেষ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

তাহসিন হত্যায় অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

আপডেট : ০৪:১৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে ইট-বালুর ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসিনকে হত্যার ঘটনায় প্রায় দুই বছর পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। গত ২৯ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম এই অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাজানি হয়। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ব্যবসায়িক আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাহসিনকে হত্যা করা হয়েছে। চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে ইট-বালুর ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসিন (২৭) হত্যার ঘটনায় আটজন সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, সাজ্জাদ ও তার সহযোগীরা অভিন্ন উদ্দেশ্যে এতে অংশ নেন।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি আটজন অংশ নিয়েছিলেন। তারা হলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, মো. হাসান, মোহাম্মদ, মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী, মো. হেলাল, মো. ইলিয়াস হোসেন অপু, মো. বোরহান এবং মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী। বর্তমানে ছোট সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমন কারাগারে আছেন। তবে বড় সাজ্জাদ এই ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। তবে বড় সাজ্জাদ দাবি করেছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁ কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

সরাসরি অংশ নেওয়া আটজনের বাইরে আরও তিনজনকে ঘটনায় সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন মো. এমরান, মো. সাইফুল ইসলাম ও শিহাব উদ্দিন সিদ্দিকী ওরফে রিহান শিহাব। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই তিনজন আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা জানতেন এবং মূল অপরাধীদের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহসহ সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা ও ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা আগে থেকে জানা, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ এবং হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তারা তাহসিনের চায়ের দোকানের দিকে এগিয়ে যান।

২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে চান্দগাঁও থানার অদূরপপাড়া এলাকায় তাহসিনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ওইদিন একটি কালো নোহা গাড়িতে চড়ে হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। চায়ের দোকানে বসা তাহসিনকে লক্ষ্য করে শটগানের গুলি চালানো হয় এবং পরে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা পালিয়ে যায়। চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সম্পৃক্ততার ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। চায়ের দোকানে বসে থাকা তাহসিনকে লক্ষ্য করে তাঁরা গুলি চালান। এরপর তাকে লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ছোড়া হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে চারটি ফায়ার করা কার্তুজ, ১০টি ধাতব পিলেট ও ইনার ওয়াড উদ্ধার করা হয়েছে।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফরেনসিক ব্যালিস্টিক ল্যাবে পরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞ মুহম্মদ শাকেরুল আলম জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত কার্তুজগুলো ১২ বোরের শটগান বা সমজাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছিল। এছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সিসিটিভি ফুটেজ, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কালো নোহা গাড়ি এবং ভুক্তভোগীর রক্তমাখা পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের আলামত, গাড়ির ভিডিও ফুটেজ, ময়নাতদন্ত ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক অপর্ণা দাশ ও মাহরিন ইসলাম তাহসিনের ময়নাতদন্ত করেন।