Hi

০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধান চাষ ছেড়ে ঘাস চাষে ঝুঁকছেন কর্ণফুলীর কৃষকরা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা ধান চাষ এখন নানা কারণে অলাভজনক হয়ে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, জোয়ারের পানি ঢুকে ফসলি জমি নষ্ট হওয়া, সেচ সুবিধার অভাব এবং কৃষিশ্রমিকের চড়া মজুরির কারণে কৃষকরা এখন বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন। এই প্রতিকূলতাকে জয় করতে উপজেলার কৃষকরা ধান ছেড়ে উন্নত জাতের ঘাস চাষ ও সাইলেজ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন। অনেক কৃষক নিজের ডেইরি খামারের গরুর খাবার নিশ্চিত করতে ঘাস চাষ করছেন, আবার কেউ কেউ খামারিদের কাছে জমি ইজারা দিয়ে ধানের তুলনায় তিনগুণ মুনাফা পাচ্ছেন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় দিনদিন অলাভজনক হয়ে উঠছে ঐতিহ্যবাহী ধানচাষ।

শিকলবাহা ইউনিয়নের পূর্ববিল, কালারপোল, বেল্লাপড়াসহ জুলধা এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। এক সময়ের ধানের জমির বদলে সেখানে এখন নেপিয়ার ঘাসের চাষ হচ্ছে। ধান চাষে আগ্রহী না হয়ে অনেক কৃষক এখন বড়উঠান ও চরলক্ষ্যার মতো এলাকায় ঘাস চাষ বাড়িয়ে দিয়েছেন। কৃষকদের ভাষ্যমতে, এক বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ বা ব্রি-২৯ জাতের ধান চাষ করলে বছরে সর্বোচ্চ ২০ মণ ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু চারা, সার ও শ্রমিকের পেছনে যে বিপুল ব্যয় হয়, তাতে অনেক সময় লাভের মুখ দেখা কঠিন। সরেজমিনে শিকলবাহা ইউনিয়নের পূর্ববিল, কালারপোল, বেল্লাপাড়া ব্রিজ এলাকা এবং জুলধা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ মাঠ পরিদর্শনে দেখা যায়, যে খোলা মাঠে একসময় ধানের সোনালি শিষ দেখার কথা, সেখানে এখন সবুজের সমারোহ। শিকলবাহার মতো উপজেলার চরলক্ষ্যা, জুলধা ও বড়উঠানেও ক্রমান্বয়ে ঘাস চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এর বিপরীতে, ঘাস চাষে একবার চারা রোপণ করলে বছরের পাঁচ থেকে ছয়বার কাটার সুযোগ থাকে। এতে প্রথমবার চারা রোপণের পর বাড়তি কোনো খরচ ছাড়াই বারবার ফলন পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমিতে ঘাস চাষে চারা, সার ও শ্রমিক খরচ বাবদ মাত্র ৪ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয় হয়। তবে কৃষকদের মতে, একবার ঘাসের জমি তৈরি করলে পরবর্তীতে সেই জমিতে আবার ধান চাষ করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হক জানান, কর্ণফুলী বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় ‘ডেইরি জোন’ হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই অঞ্চলে কয়েক শতাধিক খামারে বর্তমানে ২৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু রয়েছে। এগুলোর জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশুর উপযোগী কাঁচা ঘাসের চাহিদা রয়েছে, যা ঘাস চাষকে একটি লাভজনক ব্যবসায় রূপ দিয়েছে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামের মতে, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতায় পরিত্যক্ত জমিতে ঘাস চাষ করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। খামারিদের চাহিদার কারণে ঘাস চাষ বাড়লেও চলতি মৌসুমে উপজেলার ১ হাজার ৩৮১ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১১৩ টন। এখানে প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশুর কাঁচা ঘাসের চাহিদা থাকায় এটি এখন একটি লাভজনক ব্যবসা।

৯ নভেম্বর বসছে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ধান চাষ ছেড়ে ঘাস চাষে ঝুঁকছেন কর্ণফুলীর কৃষকরা

আপডেট : ০৮:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা ধান চাষ এখন নানা কারণে অলাভজনক হয়ে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, জোয়ারের পানি ঢুকে ফসলি জমি নষ্ট হওয়া, সেচ সুবিধার অভাব এবং কৃষিশ্রমিকের চড়া মজুরির কারণে কৃষকরা এখন বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন। এই প্রতিকূলতাকে জয় করতে উপজেলার কৃষকরা ধান ছেড়ে উন্নত জাতের ঘাস চাষ ও সাইলেজ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন। অনেক কৃষক নিজের ডেইরি খামারের গরুর খাবার নিশ্চিত করতে ঘাস চাষ করছেন, আবার কেউ কেউ খামারিদের কাছে জমি ইজারা দিয়ে ধানের তুলনায় তিনগুণ মুনাফা পাচ্ছেন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় দিনদিন অলাভজনক হয়ে উঠছে ঐতিহ্যবাহী ধানচাষ।

শিকলবাহা ইউনিয়নের পূর্ববিল, কালারপোল, বেল্লাপড়াসহ জুলধা এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। এক সময়ের ধানের জমির বদলে সেখানে এখন নেপিয়ার ঘাসের চাষ হচ্ছে। ধান চাষে আগ্রহী না হয়ে অনেক কৃষক এখন বড়উঠান ও চরলক্ষ্যার মতো এলাকায় ঘাস চাষ বাড়িয়ে দিয়েছেন। কৃষকদের ভাষ্যমতে, এক বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ বা ব্রি-২৯ জাতের ধান চাষ করলে বছরে সর্বোচ্চ ২০ মণ ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু চারা, সার ও শ্রমিকের পেছনে যে বিপুল ব্যয় হয়, তাতে অনেক সময় লাভের মুখ দেখা কঠিন। সরেজমিনে শিকলবাহা ইউনিয়নের পূর্ববিল, কালারপোল, বেল্লাপাড়া ব্রিজ এলাকা এবং জুলধা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ মাঠ পরিদর্শনে দেখা যায়, যে খোলা মাঠে একসময় ধানের সোনালি শিষ দেখার কথা, সেখানে এখন সবুজের সমারোহ। শিকলবাহার মতো উপজেলার চরলক্ষ্যা, জুলধা ও বড়উঠানেও ক্রমান্বয়ে ঘাস চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এর বিপরীতে, ঘাস চাষে একবার চারা রোপণ করলে বছরের পাঁচ থেকে ছয়বার কাটার সুযোগ থাকে। এতে প্রথমবার চারা রোপণের পর বাড়তি কোনো খরচ ছাড়াই বারবার ফলন পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমিতে ঘাস চাষে চারা, সার ও শ্রমিক খরচ বাবদ মাত্র ৪ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয় হয়। তবে কৃষকদের মতে, একবার ঘাসের জমি তৈরি করলে পরবর্তীতে সেই জমিতে আবার ধান চাষ করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হক জানান, কর্ণফুলী বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় ‘ডেইরি জোন’ হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই অঞ্চলে কয়েক শতাধিক খামারে বর্তমানে ২৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু রয়েছে। এগুলোর জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশুর উপযোগী কাঁচা ঘাসের চাহিদা রয়েছে, যা ঘাস চাষকে একটি লাভজনক ব্যবসায় রূপ দিয়েছে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামের মতে, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতায় পরিত্যক্ত জমিতে ঘাস চাষ করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। খামারিদের চাহিদার কারণে ঘাস চাষ বাড়লেও চলতি মৌসুমে উপজেলার ১ হাজার ৩৮১ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১১৩ টন। এখানে প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশুর কাঁচা ঘাসের চাহিদা থাকায় এটি এখন একটি লাভজনক ব্যবসা।