Hi

১২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা। শনিবার রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ও সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব। তবে এই গৌরব সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদের আত্মনিয়োগ করতে হবে। অভিভাবক হিসেবে সরকারের লক্ষ্য তারুণ্যের সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, যতবার দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে বা গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ দিনে দেশপ্রেমিক জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র কখনোই থেমে থাকেনি।

১৯৭৫ সালের সেই দিনটিকে দেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই বছরের ২ নভেম্বর মধ্যরাতে স্বাধীনতার ঘোষক তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়েছিল। সিপাহী জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। যারা দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবে তাদের পরাজয় ঘটে। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি যেভাবে রণাঙ্গনে লড়াই করেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই চক্রান্তের পথ ধরেই ২রা নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দী করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, যারা জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, যে অপশক্তি দেশের শৌর্য বীর্য সাহস এবং সম্মানের প্রতীক সশস্ত্রবাহিনীর গৌরবকে ভুলুন্ঠিত করতে। 1975, 7. দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও প্রায় একইভাবে সিপাহী জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিলো। যতবার বাংলাদেশ ৭ নভেম্বরের পথরেখা বিচ্যুত হয়েছে, ততবার দেশ এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, পরাজিত অপশক্তি কখনো তাদের ষড়যন্ত্র থামায়নি। তারা মহাজোটের নামে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল এবং পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছিল। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনরায় সেই পরাজিত শক্তির পরাজয় ঘটেছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের লড়াই ছিল তা রক্ষার।

তারেক রহমান আরও বলেন, যে দেশের তারুণ্য জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত, সেই দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হয়। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৭৫-এর ৭ নভেম্বর, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪-এর ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ক্ষেত্রে তরুণরা প্রমাণ করেছে তারা দেশের স্বার্থের প্রশ্নে আপোষহীন। ভবিষ্যতে কেউ যাতে জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই হবে এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে সিপাহী জনতার সেই বিপ্লবের চেতনাকে মনে-প্রাণে ধারণ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ কারণেই দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী, গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহী জনতার বিপ্লব, ৯০ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২৪ এর ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় আমাদের তারুণ্য প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনোই আপোষ করেনি।

নিউজিল্যান্ড নির্বাচন: হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এগিয়ে ন্যাশনাল পার্টি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১২:৩১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা। শনিবার রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ও সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব। তবে এই গৌরব সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদের আত্মনিয়োগ করতে হবে। অভিভাবক হিসেবে সরকারের লক্ষ্য তারুণ্যের সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, যতবার দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে বা গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ দিনে দেশপ্রেমিক জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র কখনোই থেমে থাকেনি।

১৯৭৫ সালের সেই দিনটিকে দেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই বছরের ২ নভেম্বর মধ্যরাতে স্বাধীনতার ঘোষক তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়েছিল। সিপাহী জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। যারা দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবে তাদের পরাজয় ঘটে। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি যেভাবে রণাঙ্গনে লড়াই করেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই চক্রান্তের পথ ধরেই ২রা নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দী করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, যারা জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, যে অপশক্তি দেশের শৌর্য বীর্য সাহস এবং সম্মানের প্রতীক সশস্ত্রবাহিনীর গৌরবকে ভুলুন্ঠিত করতে। 1975, 7. দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও প্রায় একইভাবে সিপাহী জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিলো। যতবার বাংলাদেশ ৭ নভেম্বরের পথরেখা বিচ্যুত হয়েছে, ততবার দেশ এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, পরাজিত অপশক্তি কখনো তাদের ষড়যন্ত্র থামায়নি। তারা মহাজোটের নামে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল এবং পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছিল। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনরায় সেই পরাজিত শক্তির পরাজয় ঘটেছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের লড়াই ছিল তা রক্ষার।

তারেক রহমান আরও বলেন, যে দেশের তারুণ্য জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত, সেই দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হয়। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৭৫-এর ৭ নভেম্বর, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪-এর ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ক্ষেত্রে তরুণরা প্রমাণ করেছে তারা দেশের স্বার্থের প্রশ্নে আপোষহীন। ভবিষ্যতে কেউ যাতে জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই হবে এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে সিপাহী জনতার সেই বিপ্লবের চেতনাকে মনে-প্রাণে ধারণ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ কারণেই দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী, গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহী জনতার বিপ্লব, ৯০ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২৪ এর ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় আমাদের তারুণ্য প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনোই আপোষ করেনি।