Hi

০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাফ জয়ে ফেভারিট বাংলাদেশ, আশাবাদী প্রাক্তন ফুটবলাররা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৭:৪৫:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

প্রায় ১৪ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবারও দেশের মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। ২০০৩ সালে একবারই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। এরপর টানা ৯টি আসরে অংশ নিলেও শিরোপা জেতার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। তবে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও সুকির মতো প্রবাসী মেধাবী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তিতে দলে নতুন জোয়ার এসেছে, যা বাংলাদেশের শিরোপা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাফের ১৫তম আসরে স্বাগতিক দলকেই ট্রফির দাবিদার হিসেবে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ, সুকি, ইতোফুসা, ফাহামিদুল ইসলামদের মতো অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান প্রবাসী খেলোয়াড়রা দলে যোগ দেওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবল শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ।

এবারের সাফ আসরে অংশ নিচ্ছে মোট ছয়টি দল। এর আগের আসর ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে আটটি দল অংশ নিয়েছিল। সেবার কুয়েত ও লেবানন আমন্ত্রিত দল হিসেবে খেললেও এবার ছয়টি দলের লড়াইয়ে থাকছে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। শক্তিশালী নেপাল ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে। এছাড়া ভারত তাদের মূল জাতীয় দলের পরিবর্তে অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠাচ্ছে। অভিজ্ঞতায় ভারসাম্যপূর্ণ এবং প্রবাসী খেলোয়াড় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বর্তমান দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে খেলছে না শক্তিশালী নেপাল। ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় সাফে নাম লেখাতে পারেনি দলটি। অবশ্য শ্রীলঙ্কা দলেও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের আধিক্য রয়েছে। শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের বেশ কিছু খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন ও ইংল্যান্ডের ক্লাবের হয়ে খেলে থাকেন। তাদের একাদশে ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই থাকেন বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়। প্রবাসী খেলোয়াড়ে ঠাসা শ্রীলঙ্কা দলটি পারফরম্যান্সেও দুর্দান্ত। তাদেরও বেশ কিছু খেলোয়াড় ইউরোপের লিগে খেলেন নিয়মিত।

দলগত শক্তি ও সামর্থ্য বিবেচনায় বাংলাদেশকেই টুর্নামেন্টের ফেভারিট হিসেবে দেখছেন সাবেক গোলরক্ষক ও আটবার সাফ খেলা বিপ্লব ভট্টাচার্য। তার মতে, ঘরের মাঠে খেলা এবং ভারতের মূল দলের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ। তবে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো দলগুলো ভালো চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বলেও তিনি মত দেন। বিপ্লব বলেন, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই, তবে ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে ফাইনালে খেলা বাংলাদেশের প্রত্যাশিত লক্ষ্য হওয়া উচিত। অভিজ্ঞতা, শক্তি, সামর্থ্য—সব দিক বিচার-বিশ্লেষণ করলে এই ছয়টি দলের মধ্যে বাংলাদেশই ফেভারিট। বিপ্লব বলেন, ‘অনেক কারণেই এবার আমরা সবার চেয়ে এগিয়ে। আলফাজ বলেন, ‘অন্যদের চেয়ে আমরা অবশ্যই এগিয়ে আছি। এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে, সেটি হবে খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। হামজাদের অন্তর্ভুক্তিতে আমাদের যে বর্তমান দল, আমরা ফাইনাল খেলা ডিজার্ভ করি।’।

সাফজয়ী দলের সদস্য আলফাজ আহমেদও শিরোপা জয়ের বিষয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি জানান, বিশ্বমানের প্রবাসী ফুটবলাররা দলে আসায় বাংলাদেশের শক্তির জায়গা বেড়েছে। আলফাজ বলেন, এখন পুরো নির্ভরতা কোচের কৌশলের ওপর। একাদশ সাজানো থেকে শুরু করে রণকৌশল নির্ধারণে থমাস ডুলিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। শিরোপা জেতা ছাড়া অন্য কোনো ফলাফল ব্যর্থতা হিসেবেই বিবেচিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আলফাজ বলেন, ‘কীভাবে খেললে শিরোপা জেতা যাবে, সেই টার্গেট করতে হবে কোচকেই।

তবে আক্রমণভাগের দুর্বলতা এখনো বড় দুশ্চিন্তার কারণ বলে মনে করেন আলফাজ। নাম্বার নাইন পজিশন নিয়ে কোচের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাব পূরণ করতে হবে। এদিকে, সম্প্রতি আসিয়ান কাপে দলের পারফরম্যান্স মোটেও আশানুরূপ ছিল না। সেখানে তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে বিপ্লব ভট্টাচার্যের বিশ্বাস, সাফে খেলোয়াড়দের মানসিক সাপোর্ট ও যথাযথ উৎসাহ দেওয়া হলে গোলরক্ষকসহ পুরো দল তাদের সেরাটা দিয়ে এই ব্যর্থতা মুছে ফেলতে পারবে।

জনপ্রিয়

প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই সাফ অভিযান: টমাস ডুলির কৌশল নিয়ে সংশয়

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সাফ জয়ে ফেভারিট বাংলাদেশ, আশাবাদী প্রাক্তন ফুটবলাররা

আপডেট : ০৭:৪৫:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

প্রায় ১৪ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবারও দেশের মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। ২০০৩ সালে একবারই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। এরপর টানা ৯টি আসরে অংশ নিলেও শিরোপা জেতার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। তবে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও সুকির মতো প্রবাসী মেধাবী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তিতে দলে নতুন জোয়ার এসেছে, যা বাংলাদেশের শিরোপা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাফের ১৫তম আসরে স্বাগতিক দলকেই ট্রফির দাবিদার হিসেবে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ, সুকি, ইতোফুসা, ফাহামিদুল ইসলামদের মতো অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান প্রবাসী খেলোয়াড়রা দলে যোগ দেওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবল শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ।

এবারের সাফ আসরে অংশ নিচ্ছে মোট ছয়টি দল। এর আগের আসর ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে আটটি দল অংশ নিয়েছিল। সেবার কুয়েত ও লেবানন আমন্ত্রিত দল হিসেবে খেললেও এবার ছয়টি দলের লড়াইয়ে থাকছে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। শক্তিশালী নেপাল ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে। এছাড়া ভারত তাদের মূল জাতীয় দলের পরিবর্তে অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠাচ্ছে। অভিজ্ঞতায় ভারসাম্যপূর্ণ এবং প্রবাসী খেলোয়াড় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বর্তমান দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে খেলছে না শক্তিশালী নেপাল। ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় সাফে নাম লেখাতে পারেনি দলটি। অবশ্য শ্রীলঙ্কা দলেও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের আধিক্য রয়েছে। শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের বেশ কিছু খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন ও ইংল্যান্ডের ক্লাবের হয়ে খেলে থাকেন। তাদের একাদশে ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই থাকেন বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়। প্রবাসী খেলোয়াড়ে ঠাসা শ্রীলঙ্কা দলটি পারফরম্যান্সেও দুর্দান্ত। তাদেরও বেশ কিছু খেলোয়াড় ইউরোপের লিগে খেলেন নিয়মিত।

দলগত শক্তি ও সামর্থ্য বিবেচনায় বাংলাদেশকেই টুর্নামেন্টের ফেভারিট হিসেবে দেখছেন সাবেক গোলরক্ষক ও আটবার সাফ খেলা বিপ্লব ভট্টাচার্য। তার মতে, ঘরের মাঠে খেলা এবং ভারতের মূল দলের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ। তবে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো দলগুলো ভালো চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বলেও তিনি মত দেন। বিপ্লব বলেন, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই, তবে ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে ফাইনালে খেলা বাংলাদেশের প্রত্যাশিত লক্ষ্য হওয়া উচিত। অভিজ্ঞতা, শক্তি, সামর্থ্য—সব দিক বিচার-বিশ্লেষণ করলে এই ছয়টি দলের মধ্যে বাংলাদেশই ফেভারিট। বিপ্লব বলেন, ‘অনেক কারণেই এবার আমরা সবার চেয়ে এগিয়ে। আলফাজ বলেন, ‘অন্যদের চেয়ে আমরা অবশ্যই এগিয়ে আছি। এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে, সেটি হবে খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। হামজাদের অন্তর্ভুক্তিতে আমাদের যে বর্তমান দল, আমরা ফাইনাল খেলা ডিজার্ভ করি।’।

সাফজয়ী দলের সদস্য আলফাজ আহমেদও শিরোপা জয়ের বিষয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি জানান, বিশ্বমানের প্রবাসী ফুটবলাররা দলে আসায় বাংলাদেশের শক্তির জায়গা বেড়েছে। আলফাজ বলেন, এখন পুরো নির্ভরতা কোচের কৌশলের ওপর। একাদশ সাজানো থেকে শুরু করে রণকৌশল নির্ধারণে থমাস ডুলিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। শিরোপা জেতা ছাড়া অন্য কোনো ফলাফল ব্যর্থতা হিসেবেই বিবেচিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আলফাজ বলেন, ‘কীভাবে খেললে শিরোপা জেতা যাবে, সেই টার্গেট করতে হবে কোচকেই।

তবে আক্রমণভাগের দুর্বলতা এখনো বড় দুশ্চিন্তার কারণ বলে মনে করেন আলফাজ। নাম্বার নাইন পজিশন নিয়ে কোচের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাব পূরণ করতে হবে। এদিকে, সম্প্রতি আসিয়ান কাপে দলের পারফরম্যান্স মোটেও আশানুরূপ ছিল না। সেখানে তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে বিপ্লব ভট্টাচার্যের বিশ্বাস, সাফে খেলোয়াড়দের মানসিক সাপোর্ট ও যথাযথ উৎসাহ দেওয়া হলে গোলরক্ষকসহ পুরো দল তাদের সেরাটা দিয়ে এই ব্যর্থতা মুছে ফেলতে পারবে।