Hi

০৯:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ মার্কিন ঘাঁটি

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:৩১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৭ জন দেখেছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরান। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে চালানো ধারাবাহিক এসব হামলায় অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুই ডজনের বেশি ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট চিত্র ও আঞ্চলিক সূত্রের ভিত্তিতে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগস্ট মাস পর্যন্ত চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সামরিক অবকাঠামো ও সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি কয়েক শ কোটি ডলারের আর্থিক লোকসান হয়েছে। ইরান শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ব্যবস্থা ও আগাম সতর্কীকরণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও বাহরাইনের নৌ-সহায়তা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ঘাঁটির রাডার কাঠামো ধ্বংস করার পর উড়োজাহাজ রাখার স্থাপনা, গুদাম ও সেনাদের আবাসনগুলোতে হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে কুয়েতের আলী আল সালেম ও ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, জর্ডান ও কাতারের মার্কিন স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হয়েছে।

কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর ১৫টি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় একটি নজরদারি বিমান ও দুটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কুয়েতে চালানো এক ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটে। মার্কিন প্রশাসন বা সামরিক বাহিনী এসব ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশে বিলম্ব করলেও স্বাধীন বিশ্লেষণে এই বড় আঘাতের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যন্ত কম খরচের ড্রোনের মুখে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এমন ক্ষয়ক্ষতি আধুনিক যুদ্ধের নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তাদের মতে, এই সংঘাত প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতার দিন ফুরিয়ে আসছে।

জনপ্রিয়

বাসের রং বদলালেই ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ মার্কিন ঘাঁটি

আপডেট : ০৮:৩১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরান। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে চালানো ধারাবাহিক এসব হামলায় অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুই ডজনের বেশি ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট চিত্র ও আঞ্চলিক সূত্রের ভিত্তিতে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগস্ট মাস পর্যন্ত চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সামরিক অবকাঠামো ও সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি কয়েক শ কোটি ডলারের আর্থিক লোকসান হয়েছে। ইরান শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ব্যবস্থা ও আগাম সতর্কীকরণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও বাহরাইনের নৌ-সহায়তা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ঘাঁটির রাডার কাঠামো ধ্বংস করার পর উড়োজাহাজ রাখার স্থাপনা, গুদাম ও সেনাদের আবাসনগুলোতে হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে কুয়েতের আলী আল সালেম ও ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, জর্ডান ও কাতারের মার্কিন স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হয়েছে।

কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর ১৫টি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় একটি নজরদারি বিমান ও দুটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কুয়েতে চালানো এক ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটে। মার্কিন প্রশাসন বা সামরিক বাহিনী এসব ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশে বিলম্ব করলেও স্বাধীন বিশ্লেষণে এই বড় আঘাতের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যন্ত কম খরচের ড্রোনের মুখে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এমন ক্ষয়ক্ষতি আধুনিক যুদ্ধের নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তাদের মতে, এই সংঘাত প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতার দিন ফুরিয়ে আসছে।