ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম খুলনায় সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৫ নভেম্বর তিনি খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও বাগেরহাট জেলা সফরে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তার এই আগমনকে ঘিরে খুলনাঞ্চল জুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। নগরীর এই নতুন সাজে যুক্ত হয়েছে উৎসবের আবহ, সৃষ্টি হয়েছে বাঁধভাঙা উল্লাস, আনন্দ ও অভূতপূর্ব উদ্দীপনা। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। পথচারী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকিয়ে রয়েছেন ৫ নভেম্বরের দিকে। নগরীর এমন পরিবর্তন দেখে কেউ কেউ হাস্যরসের ছলে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যদি মাঝে মধ্যে খুলনায় আসতেন, তাহলে নগরী আর কখনো অপরিচ্ছন্ন থাকত না। শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে আগামী ৫ নভেম্বর খুলনায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ’ র দ্বিতীয় আসর।
প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে বর্ণিল সাজে সেজেছে পুরো খুলনা শহর। প্রথাগত তোরণ বা প্লাকার্ডের বদলে নগরীর বিভিন্ন দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। শিববাড়ি মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কদ্বীপগুলো নতুন রঙে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি নগরকে পরিচ্ছন্ন করতে কেসিসি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রতিদিনের চেনা নগরী ধারণ করছে নতুন রূপ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। রূপসার কুদির বটতলা থেকে বাইপাস সড়ক ও শেরে বাংলা রোড হয়ে স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নেবেন লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সার্কিট হাউস মাঠে জনসভা সফল করতেও চলছে দিনরাত প্রস্তুতি। জনসভাস্থলসহ আশপাশের এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করে প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিএনপি নেতার মতে, খেলাধুলার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতি গঠনে সরকার বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি বলেন, খেলাধুলাকে কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। খুলনা – ৫ আসনের সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী আসগর লবি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় সফর দক্ষিণ – পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি খুলনার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সমস্যাগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পাওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে স্থানীয় মানুষের।
সফরসূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন তিনি।
সকাল ১০টায় মোংলা বন্দরে পৌঁছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
বন্দর এলাকার কর্মসূচি শেষে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে হযরত খান জাহান আলী (রঃ)-এর মাজার শরীফের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে সেখানে জিয়ারত করবেন। পরে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে মাজার থেকে সড়কপথে খুলনা শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।
দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে খুলনা সার্কিট হাউজে পৌঁছে কিছু সময় বিরতি নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই প্রতিযোগিতার শুভ সূচনা করবেন।
বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিপ্যাডে উপস্থিত হয়ে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন এবং বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন। এই সফর সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 
























