Hi

০৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নড়াইলে প্রকৌশলীর বাড়িতে সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়: ৯০ লাখ টাকার মালামাল লুট

নড়াইল শহরের ভাদুলিডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত প্রকৌশলী মানিক বিশ্বাসের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

আজ রোববার ভোররাতে মুখোশধারী ছয় থেকে সাতজনের একটি দল বাড়ির উত্তর পাশের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ডাকাতেরা তাঁদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৯০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। মানিক বিশ্বাস নড়াইল পৌরসভার প্রয়াত সুধীর কুমার বিশ্বাসের ছেলে। ঢাকায় কর্মরত থাকলেও তাঁর বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমর কুমার বিশ্বাস ওই বাড়িতে বসবাস করেন। সম্প্রতি পারিবারিক অনুষ্ঠান ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্বজন ও আত্মীয়রা বাড়িতে সমবেত হয়েছিলেন, ফলে প্রচুর স্বর্ণালংকার বাড়িতে ছিল। অনুষ্ঠানের কারণে তাঁদের সবার কাছেই অনেক স্বর্ণালংকার ছিল বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। সমর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘তিন-চারজন লোক আমার রুমে এসে ডাকিছে।

ডাকাতির বিবরণ ও ভয়ভীতি

ভুক্তভোগী সমর কুমার বিশ্বাস বলেন, রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কয়েকজনের একটি দল তাঁর কক্ষে প্রবেশ করে। ডাকাতেরা গামছা দিয়ে তাঁর হাত বেঁধে ফেলে এবং আলমারির চাবি চেয়ে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে। মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার পর তারা পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এ সময় সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে বলে, ‘চিৎকার করবেন না, চিৎকার করলে বোম মেরে বাড়ি উড়িয়ে দেব।’ পরিবারের সদস্যরা জানান, এই সুযোগে তারা বাড়ির সদস্যদের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ প্রায় এক লাখ টাকা ও একটি ক্যামেরা লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি আলমারি দেখায় দিয়ে বললাম, ‘আনুমানিক ১০-২০ হাজার টাকা আছে।

পুলিশের তদন্ত ও মন্তব্য

  • ঘটনার খবর পেয়ে আজ সকালে নড়াইল সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
  • থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার জানিয়েছেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।
  • পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারসহ অপরাধীদের গ্রেপ্তারের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

পুরো এলাকায় এই ঘটনার পর আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং দ্রুত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকেই আটক করতে পারেনি, তবে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার ক্লু উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ডাকাতদের হুমকির মুখে পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে নড়াইল সদর থানা পুলিশ। অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য বিশেষ টিম কাজ করছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

পিএসসির নতুন সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন অধ্যাপক শামীমা সুলতানা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নড়াইলে প্রকৌশলীর বাড়িতে সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়: ৯০ লাখ টাকার মালামাল লুট

আপডেট : ০৫:৫৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

নড়াইল শহরের ভাদুলিডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত প্রকৌশলী মানিক বিশ্বাসের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

আজ রোববার ভোররাতে মুখোশধারী ছয় থেকে সাতজনের একটি দল বাড়ির উত্তর পাশের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ডাকাতেরা তাঁদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৯০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। মানিক বিশ্বাস নড়াইল পৌরসভার প্রয়াত সুধীর কুমার বিশ্বাসের ছেলে। ঢাকায় কর্মরত থাকলেও তাঁর বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমর কুমার বিশ্বাস ওই বাড়িতে বসবাস করেন। সম্প্রতি পারিবারিক অনুষ্ঠান ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্বজন ও আত্মীয়রা বাড়িতে সমবেত হয়েছিলেন, ফলে প্রচুর স্বর্ণালংকার বাড়িতে ছিল। অনুষ্ঠানের কারণে তাঁদের সবার কাছেই অনেক স্বর্ণালংকার ছিল বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। সমর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘তিন-চারজন লোক আমার রুমে এসে ডাকিছে।

ডাকাতির বিবরণ ও ভয়ভীতি

ভুক্তভোগী সমর কুমার বিশ্বাস বলেন, রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কয়েকজনের একটি দল তাঁর কক্ষে প্রবেশ করে। ডাকাতেরা গামছা দিয়ে তাঁর হাত বেঁধে ফেলে এবং আলমারির চাবি চেয়ে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে। মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার পর তারা পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এ সময় সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে বলে, ‘চিৎকার করবেন না, চিৎকার করলে বোম মেরে বাড়ি উড়িয়ে দেব।’ পরিবারের সদস্যরা জানান, এই সুযোগে তারা বাড়ির সদস্যদের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ প্রায় এক লাখ টাকা ও একটি ক্যামেরা লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি আলমারি দেখায় দিয়ে বললাম, ‘আনুমানিক ১০-২০ হাজার টাকা আছে।

পুলিশের তদন্ত ও মন্তব্য

  • ঘটনার খবর পেয়ে আজ সকালে নড়াইল সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
  • থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার জানিয়েছেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।
  • পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারসহ অপরাধীদের গ্রেপ্তারের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

পুরো এলাকায় এই ঘটনার পর আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং দ্রুত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকেই আটক করতে পারেনি, তবে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার ক্লু উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ডাকাতদের হুমকির মুখে পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে নড়াইল সদর থানা পুলিশ। অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য বিশেষ টিম কাজ করছে বলে জানা গেছে।