Hi

১২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:২৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ জন দেখেছে

আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জনবান্ধব জলবায়ু নীতি: কপ-৩১ এ বাংলাদেশের অবস্থান’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির এক দশক পার হতে চললেও কেবল অঙ্গীকার করলেই হবে না, বরং বাস্তবায়নের বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরসনে কাজ করা ৩৩টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ুবিষয়ক অবস্থানপত্রের মূল দাবি ও সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী। এ বিপর্যয় মোকাবিলায় অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা আনয়ন অপরিহার্য। বিশেষ করে, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে না দিয়ে জলবায়ু তহবিল অনুদানভিত্তিক হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে এই নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি ‘জুট প্যাভিলিয়ন’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের প্রসার ঘটাতে এবং প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। সংলাপে সমাপনী বক্তব্যে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ফারাহ্ কবির ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের দাবিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর আলোকপাত করেন। এছাড়া ন্যাচার কনজার্ভেশন ম্যানেজমেন্টের (ন্যাকম) নির্বাহী পরিচালক ড. এস. এম. মঞ্জুরুল হান্নান খান তার স্বাগত বক্তব্যে জলবায়ু সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা পুনরায় উল্লেখ করেন।

সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোভ্যান চালকের মৃত্যু

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান

আপডেট : ১০:২৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জনবান্ধব জলবায়ু নীতি: কপ-৩১ এ বাংলাদেশের অবস্থান’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির এক দশক পার হতে চললেও কেবল অঙ্গীকার করলেই হবে না, বরং বাস্তবায়নের বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরসনে কাজ করা ৩৩টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ুবিষয়ক অবস্থানপত্রের মূল দাবি ও সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী। এ বিপর্যয় মোকাবিলায় অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা আনয়ন অপরিহার্য। বিশেষ করে, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে না দিয়ে জলবায়ু তহবিল অনুদানভিত্তিক হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে এই নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি ‘জুট প্যাভিলিয়ন’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের প্রসার ঘটাতে এবং প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। সংলাপে সমাপনী বক্তব্যে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ফারাহ্ কবির ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের দাবিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর আলোকপাত করেন। এছাড়া ন্যাচার কনজার্ভেশন ম্যানেজমেন্টের (ন্যাকম) নির্বাহী পরিচালক ড. এস. এম. মঞ্জুরুল হান্নান খান তার স্বাগত বক্তব্যে জলবায়ু সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা পুনরায় উল্লেখ করেন।