Hi

০৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগে জোর

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:৪৫:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ জন দেখেছে

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে চার দিনের এক বিশেষ সরকারি সফরে ঢাকা ছাড়ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রাতে টোকিওর উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এই সফরটি বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত হয়েছে। সফরকালে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়নের অর্থায়ন ও বাণিজ্য প্রসারের বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসার। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

সফরসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

সেখানে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পুরো সফরে প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

সফরের প্রথম দিন সোমবার বিকালে জাপানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেয়। কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা জাপান যাবেন।

একই দিনে জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের প্রধান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে তার আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সন্ধ্যায় নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেওয়া নৈশভোজেও তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

শীর্ষ বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় এজেন্ডা

সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির শীর্ষ বৈঠক। আলোচনার মূল এজেন্ডায় থাকবে মেট্রোরেলসহ বাংলাদেশের চলমান বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ঋণের সুদের হার কমানো ও প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিকীকরণ। শীর্ষ বৈঠক শেষে তারা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং এরপর আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন। ওই দিন বিকেলে চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (JERA)-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করার মাধ্যমে তিনি জাপানের জ্বালানি সক্ষমতা প্রত্যক্ষ করবেন। মেট্রোরেল ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে। জাপানের আরও ১৪টি বিশিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।

বাণিজ্য ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনা

সফরের তৃতীয় দিন ২৮ অক্টোবর জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া একই দিনে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশনসহ জাপানের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে নতুন কারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলাপ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিকেলে জেট্রো ভবনে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি জাপানের তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

১২টি খাতে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব

আগামী ২০২৬-৩১ মেয়াদে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ প্যাকেজ প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার পরিবহণ ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থায়, ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার মাতারবাড়ী বন্দর ও সমন্বিত শিল্প জোন গড়ে তুলতে, ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে এবং ১.২৬ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ব্যবহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওষুধশিল্প, ব্লু ইকোনমি ও আইসিটি খাতেও বড় আকারের বিনিয়োগের আশা করছে বাংলাদেশ। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিও উপস্থিত থাকবেন। প্রস্তাবিত প্যাকেজের কিছু উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) উদ্যোগের আওতাভুক্ত। এতে পরিবহণ ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার, জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো। 3, 45, 14, 1, 57, 26, 940.

সফরের সমাপনী ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

সফরের শেষ দিন ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী বুলেট ট্রেনে করে নাগোয়া ভ্রমণ করবেন এবং টয়োটা মোটর করপোরেশনের কারখানা পরিদর্শন করবেন। সেখানে টয়োটা সুসো করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল মিউজিয়াম পরিদর্শনের মাধ্যমে সফর সমাপ্ত করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা রয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাপান সফর করেছিলেন, যা দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক।

  • প্রতিনিধি দল: অর্থমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা সফরে সঙ্গী হচ্ছেন।
  • অবকাঠামো: মেট্রোরেল ও মাতারবাড়ী প্রজেক্টের ঋণের শর্তাবলী পুনর্মূল্যায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
  • অর্থনীতি: ২০২৬-৩১ মেয়াদে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণই মূল লক্ষ্য।
  • শিক্ষা: বাংলাদেশ দূতাবাসে মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
  • পরিদর্শন: টয়োটা মটোমাচি কারখানা ও জেরা এলএনজি টার্মিনাল সফরসূচির অংশ।

ট্রাকচালক হোসেনের মৃত্যুতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগে জোর

আপডেট : ১১:৪৫:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে চার দিনের এক বিশেষ সরকারি সফরে ঢাকা ছাড়ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রাতে টোকিওর উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এই সফরটি বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত হয়েছে। সফরকালে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়নের অর্থায়ন ও বাণিজ্য প্রসারের বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসার। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

সফরসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

সেখানে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পুরো সফরে প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

সফরের প্রথম দিন সোমবার বিকালে জাপানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেয়। কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা জাপান যাবেন।

একই দিনে জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের প্রধান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে তার আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সন্ধ্যায় নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেওয়া নৈশভোজেও তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

শীর্ষ বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় এজেন্ডা

সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির শীর্ষ বৈঠক। আলোচনার মূল এজেন্ডায় থাকবে মেট্রোরেলসহ বাংলাদেশের চলমান বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ঋণের সুদের হার কমানো ও প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিকীকরণ। শীর্ষ বৈঠক শেষে তারা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং এরপর আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন। ওই দিন বিকেলে চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (JERA)-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করার মাধ্যমে তিনি জাপানের জ্বালানি সক্ষমতা প্রত্যক্ষ করবেন। মেট্রোরেল ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে। জাপানের আরও ১৪টি বিশিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।

বাণিজ্য ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনা

সফরের তৃতীয় দিন ২৮ অক্টোবর জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া একই দিনে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশনসহ জাপানের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে নতুন কারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলাপ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিকেলে জেট্রো ভবনে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি জাপানের তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

১২টি খাতে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব

আগামী ২০২৬-৩১ মেয়াদে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ প্যাকেজ প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার পরিবহণ ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থায়, ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার মাতারবাড়ী বন্দর ও সমন্বিত শিল্প জোন গড়ে তুলতে, ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে এবং ১.২৬ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ব্যবহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওষুধশিল্প, ব্লু ইকোনমি ও আইসিটি খাতেও বড় আকারের বিনিয়োগের আশা করছে বাংলাদেশ। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিও উপস্থিত থাকবেন। প্রস্তাবিত প্যাকেজের কিছু উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) উদ্যোগের আওতাভুক্ত। এতে পরিবহণ ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার, জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো। 3, 45, 14, 1, 57, 26, 940.

সফরের সমাপনী ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

সফরের শেষ দিন ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী বুলেট ট্রেনে করে নাগোয়া ভ্রমণ করবেন এবং টয়োটা মোটর করপোরেশনের কারখানা পরিদর্শন করবেন। সেখানে টয়োটা সুসো করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল মিউজিয়াম পরিদর্শনের মাধ্যমে সফর সমাপ্ত করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা রয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাপান সফর করেছিলেন, যা দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক।

  • প্রতিনিধি দল: অর্থমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা সফরে সঙ্গী হচ্ছেন।
  • অবকাঠামো: মেট্রোরেল ও মাতারবাড়ী প্রজেক্টের ঋণের শর্তাবলী পুনর্মূল্যায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
  • অর্থনীতি: ২০২৬-৩১ মেয়াদে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণই মূল লক্ষ্য।
  • শিক্ষা: বাংলাদেশ দূতাবাসে মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
  • পরিদর্শন: টয়োটা মটোমাচি কারখানা ও জেরা এলএনজি টার্মিনাল সফরসূচির অংশ।