Hi

০৯:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ী নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায়: ডিজিএফআই সদস্যসহ ৬ জন কারাগারে

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৭:৫৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ জন দেখেছে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও অপহরণের মামলায় ডিজিএফআই এবং আনসার সদস্যসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাসেল ইসলাম অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. মিজানুর রহমান আদালতের এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরিত আসামিগণ

  • ডিজিএফআই সদর দপ্তরের সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯)
  • ডিজিএফআই-এর ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১)
  • আনসার সদস্য সোহেল রানা (৩২)
  • বেসরকারি সংস্থা ‘লগ এরিয়া সিকিউরিটি কোম্পানি’র নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী (২৬)
  • নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান (২২)
  • লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জিয়াউল ইসলাম (৩৫)

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মো. শরিফ পেশায় মোটরসাইকেল কেনাবেচার একজন ব্যবসায়ী। রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় বাস করার সূত্রে প্রতিবেশী আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শনিবার রাতে সোহেলের কথামতো মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে শরিফ মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনে যান। সেখানকার একটি আবাসিক ভবনের ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে সোহেল তাঁকে নিয়ে যান এবং কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে বের হয়ে সরে পড়েন।

এর পরপরই সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স করপোরাল মো. নুরুজ্জামান, নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী এবং সোনিয়া নামের এক নারী ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। তারা শরিফকে বন্দি করে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আত্মরক্ষার্থে শরিফ মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে সাথে রাখা ৭০ হাজার টাকা তাঁদের হাতে তুলে দেন। তবে আসামিরা এতে ক্ষান্ত না হয়ে শরিফকে মারাত্মকভাবে মারধর করে গুরুতর জখম করে এবং পুনরায় ১০ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকে। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।

অপহরণের কৌশল ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার

মারধরের শিকার হয়ে শরিফ স্বজনদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা চালান। পরবর্তী সময়ে শনিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে অভিযুক্তরা তাঁকে বাসা থেকে নিচে নামিয়ে একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স গাড়িতে তোলে। গাড়িটিতে মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। তাঁরা শরিফকে নিয়ে শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা চা পানের জন্য গাড়ি থেকে নামলে শরিফ টহল পুলিশের গাড়ি দেখতে পান। এ সময় তিনি দ্রুত সুযোগ বুঝে গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নেমে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে পুরো ঘটনা বিস্তারিত জানান।

ব্যবসায়ী শরিফের তাৎক্ষণিক অভিযোগের ভিত্তিতে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ অভিযানে নেমে সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান, মুকুল গাজী, মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলামকে আটক করে। এ সময় জিয়াউলের চালিত টয়োটা গাড়িটিও জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে তাদের মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের এসআই রাসেল ইসলামের হেফাজতে সোপর্দ করা হয়। একই ঘটনায় অভিযুক্ত আনসার সদস্য সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় শরিফ বাদী হয়ে অভিযুক্ত আটজনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, মারধর ও অপহরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ী নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায়: ডিজিএফআই সদস্যসহ ৬ জন কারাগারে

আপডেট : ০৭:৫৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও অপহরণের মামলায় ডিজিএফআই এবং আনসার সদস্যসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাসেল ইসলাম অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. মিজানুর রহমান আদালতের এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরিত আসামিগণ

  • ডিজিএফআই সদর দপ্তরের সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯)
  • ডিজিএফআই-এর ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১)
  • আনসার সদস্য সোহেল রানা (৩২)
  • বেসরকারি সংস্থা ‘লগ এরিয়া সিকিউরিটি কোম্পানি’র নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী (২৬)
  • নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান (২২)
  • লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জিয়াউল ইসলাম (৩৫)

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মো. শরিফ পেশায় মোটরসাইকেল কেনাবেচার একজন ব্যবসায়ী। রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় বাস করার সূত্রে প্রতিবেশী আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শনিবার রাতে সোহেলের কথামতো মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে শরিফ মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনে যান। সেখানকার একটি আবাসিক ভবনের ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে সোহেল তাঁকে নিয়ে যান এবং কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে বের হয়ে সরে পড়েন।

এর পরপরই সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স করপোরাল মো. নুরুজ্জামান, নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী এবং সোনিয়া নামের এক নারী ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। তারা শরিফকে বন্দি করে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আত্মরক্ষার্থে শরিফ মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে সাথে রাখা ৭০ হাজার টাকা তাঁদের হাতে তুলে দেন। তবে আসামিরা এতে ক্ষান্ত না হয়ে শরিফকে মারাত্মকভাবে মারধর করে গুরুতর জখম করে এবং পুনরায় ১০ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকে। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।

অপহরণের কৌশল ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার

মারধরের শিকার হয়ে শরিফ স্বজনদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা চালান। পরবর্তী সময়ে শনিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে অভিযুক্তরা তাঁকে বাসা থেকে নিচে নামিয়ে একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স গাড়িতে তোলে। গাড়িটিতে মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। তাঁরা শরিফকে নিয়ে শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা চা পানের জন্য গাড়ি থেকে নামলে শরিফ টহল পুলিশের গাড়ি দেখতে পান। এ সময় তিনি দ্রুত সুযোগ বুঝে গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নেমে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে পুরো ঘটনা বিস্তারিত জানান।

ব্যবসায়ী শরিফের তাৎক্ষণিক অভিযোগের ভিত্তিতে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ অভিযানে নেমে সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান, মুকুল গাজী, মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলামকে আটক করে। এ সময় জিয়াউলের চালিত টয়োটা গাড়িটিও জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে তাদের মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের এসআই রাসেল ইসলামের হেফাজতে সোপর্দ করা হয়। একই ঘটনায় অভিযুক্ত আনসার সদস্য সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় শরিফ বাদী হয়ে অভিযুক্ত আটজনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, মারধর ও অপহরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।