Hi

০৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাকচালক হোসেনের মৃত্যুতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ট্রাকচালক মো. হোসেন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৫ নভেম্বর তারিখ ধার্য করেছেন। জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন এলাকায় মো. হোসেন নামে এক মালবাহী ট্রাকের চালককে হত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন (অভিযোগ গঠন) করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, মামলায় অভিযুক্ত ৩৪ জনের মধ্যে ২২ জন শুরু থেকেই পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। তবে কারাগার থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ মোট ৯ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। এছাড়া অন্য দুই আসামি জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। মামলার অন্যতম আসামি মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান অন্য একটি মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকায় তাকে এদিন আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ৩৪ জন আসামির মধ্যে শুরু থেকে ২২ জন পলাতক রয়েছে।

অভিযোগ গঠনের সময় উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করেন। এর আগে আসামিপক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী, ফারজানা ইয়াসমিন রাখী, আহসান হাবীব, খায়রুল ইসলাম এবং তরিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গাবতলীতে নিজের ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ট্রাকচালক মো. হোসেন। এই ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর ৩১ আগস্ট নিহতের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান গত বছরের ২৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযুক্তদের তালিকায় শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। এছাড়া আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেল এই মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

শিশু নিপীড়নের প্রতিবাদকারী শাহজালাল রুমির খোঁজ মিলছে না

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ট্রাকচালক হোসেনের মৃত্যুতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু

আপডেট : ০৩:০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ট্রাকচালক মো. হোসেন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৫ নভেম্বর তারিখ ধার্য করেছেন। জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন এলাকায় মো. হোসেন নামে এক মালবাহী ট্রাকের চালককে হত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন (অভিযোগ গঠন) করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, মামলায় অভিযুক্ত ৩৪ জনের মধ্যে ২২ জন শুরু থেকেই পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। তবে কারাগার থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ মোট ৯ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। এছাড়া অন্য দুই আসামি জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। মামলার অন্যতম আসামি মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান অন্য একটি মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকায় তাকে এদিন আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ৩৪ জন আসামির মধ্যে শুরু থেকে ২২ জন পলাতক রয়েছে।

অভিযোগ গঠনের সময় উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করেন। এর আগে আসামিপক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী, ফারজানা ইয়াসমিন রাখী, আহসান হাবীব, খায়রুল ইসলাম এবং তরিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গাবতলীতে নিজের ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ট্রাকচালক মো. হোসেন। এই ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর ৩১ আগস্ট নিহতের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান গত বছরের ২৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযুক্তদের তালিকায় শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। এছাড়া আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেল এই মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।