Hi

০৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট বাধ্যতামূলক: গ্রাহকের ওপর খরচের বোঝা

মোটরসাইকেল চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্যামেরায় অপরাধী শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে এখন থেকে মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বরপ্লেট রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক ফলোআপ সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বাস্তবায়নের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ)। মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিআরটিএ। বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তিতে স্কুটার ও অন্যান্য মোটরসাইকেলের সামনের নম্বর প্লেটের জন্য আলাদা মাপ ঠিক করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে এবং মফস্‌সলে বিপুল সংখ্যায় মোটরসাইকেল চলাচল করে। জাল নম্বরপ্লেট ব্যবহার এবং একাধিক গাড়িতে একই নম্বর ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ হবে। ঈদে টোলঘরে যানজটের শঙ্কা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার কম।

বিআরটিএ কর্তৃক জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্কুটারের ক্ষেত্রে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার হতে হবে ২০০ মিলিমিটার দৈর্ঘ্য ও ১০০ মিলিমিটার প্রস্থ।

অন্যদিকে অন্যান্য মোটরসাইকেলের জন্য এটি ২৮৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্য ও ৫০ মিলিমিটার প্রস্থের হতে হবে।

প্লেটগুলো অবশ্যই স্টেইনলেস স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের হতে হবে, যেখানে সাদা পটভূমিতে কালো বাংলা হরফে সংখ্যা ও অক্ষর লিখতে হবে।

প্রতিটির উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার এবং কোনো ধরনের নকশা বা সজ্জা এতে ব্যবহার করা যাবে না।

এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও মোটরসাইকেল মালিকরা। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, আরএফআইডি ট্যাগ থাকা সত্ত্বেও কেন তা কার্যকর করা গেল না, তার উত্তর না খুঁজে এআই ক্যামেরার নামে নতুন কেনাকাটার প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি খরচ বাড়বে, তেমনি গ্রাহকের ওপরও আর্থিক চাপ তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন যে, ঘন কুয়াশা, বৃষ্টি, কাদা বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো পরিস্থিতিতে এআই ক্যামেরা নম্বরপ্লেট শনাক্ত করতে ব্যর্থ হতে পারে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে নম্বরপ্লেট পড়া যাবে না। বিআরটিএ এই ব্যবস্থা চালুর সময় বলেছিল, এর মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতিতে যানবাহন শনাক্ত করা যাবে। চুরি হওয়া গাড়ি উদ্ধার: চুরি বা ছিনতাই হওয়া গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত যানবাহন শনাক্ত করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি সহজ করা। আরএফআইডি থাকলে গাড়ির নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি কমানো যাবে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রমকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা। তবে এসব সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিআরটিএ। মোটরযানে ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহারের ব্যবস্থা চালু হয় ২০১২ সালে। কোনো কারণে নম্বরপ্লেট বা আরএফআইডি ভেঙে গেলে বা ধ্বংস হলে বিআরটিএতে আবেদন করে পূর্ণ দাম দিয়ে নতুন আরেকটি সংযোজন করতে হয়। পুরো পৃথিবীতে আরএফআইডি ট্যাগে সব কিছু শনাক্ত করা হয়।

বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ ৫০ হাজার, যার মধ্যে ৫১ লাখই মোটরসাইকেল। রাজধানী ঢাকাতেই মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার। বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলের পেছনের একটি নম্বরপ্লেটের জন্য মালিকদের ২ হাজার ২৬০ টাকা দিতে হয়। এখন সামনে নম্বরপ্লেট লাগানোর বাধ্যবাধকতা যুক্ত হওয়ায় ৫১ লাখ মোটরসাইকেল মালিকের ওপর বাড়তি ১ হাজার ১৫২ কোটি টাকার বেশি খরচের বোঝা চাপতে পারে। মাউন্টিং বা ফিটিংসের খরচ হিসাব করলে এই পরিমাণ আরও বাড়বে। বর্তমানে প্রতিটি যানবাহনে ডিজিটাল নম্বরপ্লেটের সঙ্গে গ্রাহক আরএফআইডি ট্যাগ কিনে নিচ্ছেন। রাজধানী ঢাকায় নিবন্ধিত যানবাহন ২৪ লাখের বেশি। এর আগে যানবাহনের মালিকেরা বাজার থেকে নিজেদের পছন্দমতো নম্বরপ্লেট তৈরি করে লাগাতেন। নিবন্ধনের সময় মালিককে সেটির জন্য নির্ধারিত টাকা দিতে হয়।

এর আগে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬(১০) ধারায় মোটরসাইকেলকে সামনে নম্বরপ্লেট প্রদর্শন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। সরকারি কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এখন সেই বিধিমালায় পরিবর্তন এনেছে। বিআরটিএ জানায়, গত ১৩ আগস্ট গঠিত সাত সদস্যের কমিটি সংসদ ভবন সংলগ্ন লেক রোডে দুই দফায় নমুনা নম্বরপ্লেট লাগিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে। সেখানে শুধু শনাক্তকরণ নয়, মোটরসাইকেলের নিরাপত্তা, স্টিয়ারিং সক্ষমতা ও হেডলাইটের দৃশ্যমানতার মতো বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হয়েছে।

তবে বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

বর্তমানে মালিকরা নিজ দায়িত্বে নম্বরপ্লেট লাগালেও ভবিষ্যতে বিআরটিএ এটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অনেক মোটরসাইকেল মালিক এই নির্দেশের প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও মিম শেয়ার করছেন। কেউ কেউ সামনে নম্বরপ্লেট লাগানোর জায়গা না থাকায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে প্রতিবাদের ভাষা ফুটিয়ে তুলছেন। চালকদের মতে, যেখানে এআই ক্যামেরা নেই, সেখানে এমন নির্দেশনা শুধুমাত্র হয়রানির কারণ হতে পারে এবং আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মোটরসাইকেলের সৌন্দর্য নষ্ট করবে। মোটরসাইকেল মালিক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইআই ক্যামেরা দিয়ে অপরাধ শনাক্তের লক্ষ্যের কথা বলা হলেও রাজধানী ঢাকারও বেশির জায়গায় এ ধরনের ক্যামেরা নেই। ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায়েও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল।

ট্রাকচালক হোসেনের মৃত্যুতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট বাধ্যতামূলক: গ্রাহকের ওপর খরচের বোঝা

আপডেট : ১২:০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মোটরসাইকেল চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্যামেরায় অপরাধী শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে এখন থেকে মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বরপ্লেট রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক ফলোআপ সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বাস্তবায়নের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ)। মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিআরটিএ। বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তিতে স্কুটার ও অন্যান্য মোটরসাইকেলের সামনের নম্বর প্লেটের জন্য আলাদা মাপ ঠিক করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে এবং মফস্‌সলে বিপুল সংখ্যায় মোটরসাইকেল চলাচল করে। জাল নম্বরপ্লেট ব্যবহার এবং একাধিক গাড়িতে একই নম্বর ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ হবে। ঈদে টোলঘরে যানজটের শঙ্কা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার কম।

বিআরটিএ কর্তৃক জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্কুটারের ক্ষেত্রে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার হতে হবে ২০০ মিলিমিটার দৈর্ঘ্য ও ১০০ মিলিমিটার প্রস্থ।

অন্যদিকে অন্যান্য মোটরসাইকেলের জন্য এটি ২৮৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্য ও ৫০ মিলিমিটার প্রস্থের হতে হবে।

প্লেটগুলো অবশ্যই স্টেইনলেস স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের হতে হবে, যেখানে সাদা পটভূমিতে কালো বাংলা হরফে সংখ্যা ও অক্ষর লিখতে হবে।

প্রতিটির উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার এবং কোনো ধরনের নকশা বা সজ্জা এতে ব্যবহার করা যাবে না।

এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও মোটরসাইকেল মালিকরা। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, আরএফআইডি ট্যাগ থাকা সত্ত্বেও কেন তা কার্যকর করা গেল না, তার উত্তর না খুঁজে এআই ক্যামেরার নামে নতুন কেনাকাটার প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি খরচ বাড়বে, তেমনি গ্রাহকের ওপরও আর্থিক চাপ তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন যে, ঘন কুয়াশা, বৃষ্টি, কাদা বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো পরিস্থিতিতে এআই ক্যামেরা নম্বরপ্লেট শনাক্ত করতে ব্যর্থ হতে পারে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে নম্বরপ্লেট পড়া যাবে না। বিআরটিএ এই ব্যবস্থা চালুর সময় বলেছিল, এর মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতিতে যানবাহন শনাক্ত করা যাবে। চুরি হওয়া গাড়ি উদ্ধার: চুরি বা ছিনতাই হওয়া গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত যানবাহন শনাক্ত করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি সহজ করা। আরএফআইডি থাকলে গাড়ির নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি কমানো যাবে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রমকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা। তবে এসব সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিআরটিএ। মোটরযানে ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহারের ব্যবস্থা চালু হয় ২০১২ সালে। কোনো কারণে নম্বরপ্লেট বা আরএফআইডি ভেঙে গেলে বা ধ্বংস হলে বিআরটিএতে আবেদন করে পূর্ণ দাম দিয়ে নতুন আরেকটি সংযোজন করতে হয়। পুরো পৃথিবীতে আরএফআইডি ট্যাগে সব কিছু শনাক্ত করা হয়।

বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ ৫০ হাজার, যার মধ্যে ৫১ লাখই মোটরসাইকেল। রাজধানী ঢাকাতেই মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার। বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলের পেছনের একটি নম্বরপ্লেটের জন্য মালিকদের ২ হাজার ২৬০ টাকা দিতে হয়। এখন সামনে নম্বরপ্লেট লাগানোর বাধ্যবাধকতা যুক্ত হওয়ায় ৫১ লাখ মোটরসাইকেল মালিকের ওপর বাড়তি ১ হাজার ১৫২ কোটি টাকার বেশি খরচের বোঝা চাপতে পারে। মাউন্টিং বা ফিটিংসের খরচ হিসাব করলে এই পরিমাণ আরও বাড়বে। বর্তমানে প্রতিটি যানবাহনে ডিজিটাল নম্বরপ্লেটের সঙ্গে গ্রাহক আরএফআইডি ট্যাগ কিনে নিচ্ছেন। রাজধানী ঢাকায় নিবন্ধিত যানবাহন ২৪ লাখের বেশি। এর আগে যানবাহনের মালিকেরা বাজার থেকে নিজেদের পছন্দমতো নম্বরপ্লেট তৈরি করে লাগাতেন। নিবন্ধনের সময় মালিককে সেটির জন্য নির্ধারিত টাকা দিতে হয়।

এর আগে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬(১০) ধারায় মোটরসাইকেলকে সামনে নম্বরপ্লেট প্রদর্শন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। সরকারি কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এখন সেই বিধিমালায় পরিবর্তন এনেছে। বিআরটিএ জানায়, গত ১৩ আগস্ট গঠিত সাত সদস্যের কমিটি সংসদ ভবন সংলগ্ন লেক রোডে দুই দফায় নমুনা নম্বরপ্লেট লাগিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে। সেখানে শুধু শনাক্তকরণ নয়, মোটরসাইকেলের নিরাপত্তা, স্টিয়ারিং সক্ষমতা ও হেডলাইটের দৃশ্যমানতার মতো বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হয়েছে।

তবে বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

বর্তমানে মালিকরা নিজ দায়িত্বে নম্বরপ্লেট লাগালেও ভবিষ্যতে বিআরটিএ এটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অনেক মোটরসাইকেল মালিক এই নির্দেশের প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও মিম শেয়ার করছেন। কেউ কেউ সামনে নম্বরপ্লেট লাগানোর জায়গা না থাকায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে প্রতিবাদের ভাষা ফুটিয়ে তুলছেন। চালকদের মতে, যেখানে এআই ক্যামেরা নেই, সেখানে এমন নির্দেশনা শুধুমাত্র হয়রানির কারণ হতে পারে এবং আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মোটরসাইকেলের সৌন্দর্য নষ্ট করবে। মোটরসাইকেল মালিক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইআই ক্যামেরা দিয়ে অপরাধ শনাক্তের লক্ষ্যের কথা বলা হলেও রাজধানী ঢাকারও বেশির জায়গায় এ ধরনের ক্যামেরা নেই। ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায়েও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল।