Hi

০৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বার্লিনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে থাকছেন না ড. ইউনূস

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে শুরু হয়েছে তিন দিনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন। এই আয়োজনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তার অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার খবর নিশ্চিত করেছেন আয়োজকরা। সম্মেলনের যোগাযোগ ও প্রেস পরিচালক আনা স্টর্মার জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ড. ইউনূস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জোবাইদা রহমান। ডা. জোবাইদা পেশাগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দেশে জনস্বাস্থ্য সংস্কার ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তার কাজের জন্য এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। জার্মানির রাজধানী বার্লিনে তিন দিনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন শুরু হয়েছে আজ ১১ রোববার। বাংলাদেশ থেকে এই দুই অতিথির রোববার ও সোমবার দুটি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা উদোক্তারা জানিয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতবিনিময় ও সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত এ সম্মেলন প্রতি বছর আয়োজিত হয়।

রোববার থেকে শুরু হওয়া এবারের ‘ওয়াল্ড হেলথ সামিট ২০২৬’-এর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সংকট থেকে স্থিতিস্থাপকতা: স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভাবন।’ মঙ্গলবার পর্যন্ত চলমান এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নীতিনির্ধারক, চিকিৎসা বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ নিয়ে আলোচনা করছেন। বিজ্ঞান ও রাজনীতির সমন্বয়ে জনস্বাস্থ্যের সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করাই এই প্ল্যাটফর্মের অন্যতম লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে বার্লিনের শারিতে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রথম এই সম্মেলনের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

ড. ইউনূসের সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক পিটিশন ও বিক্ষোভের একটি বড় প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্মেলনের তিন সপ্তাহ আগে ইউরোপের পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংগঠন—সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ ইন জার্মানি, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স—যৌথভাবে একটি পিটিশন জমা দিয়েছিল। এতে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. ইউনূসের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। আয়োজকদের কাছে তাদের দাবি ছিল, তিনি যদি সম্মেলনে উপস্থিত থাকেন, তবে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য সংকট ও টিকাদান কার্যক্রমের ব্যর্থতা নিয়ে যেন প্রকাশ্যে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়। আক্রান্তদের ৭৯ শতাংশের বয়স ছিল পাঁচ বছরের নিচে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৩ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাবকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। ইউরোপীয় সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও জবাবদিহিতার দায় ড. ইউনূস এড়াতে পারেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৩ এপ্রিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী এবং ২ হাজার ৯৭৩টি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। একই সময়ে ১৬৬টি সন্দেহভাজন এবং ৩০টি নিশ্চিত হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। পিটিশনকারীদের বক্তব্য, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, টিকার প্রাপ্যতা ও সরবরাহ, সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে যে প্রশ্নগুলো বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সেগুলোর স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা প্রয়োজন।

ড. ইউনূসের অংশগ্রহণকে ঘিরে কেবল পিটিশন নয়, বরং কঠোর প্রতিবাদ কর্মসূচিও গড়ে ওঠে। জার্মান আওয়ামী লীগ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা সম্মেলন স্থলের বাইরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, যার জন্য বার্লিন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৪০০ জনের অংশগ্রহণের অনুমতিও নেওয়া হয়। শনিবার পুলিশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক মিজানুর হক খানকে জানানো হয় যে ড. ইউনূস সম্মেলনে থাকছেন না। মূলত বিভিন্ন মহলের চাপ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণেই তিনি এই আয়োজন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা ও সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা তুরস্কের

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বার্লিনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে থাকছেন না ড. ইউনূস

আপডেট : ০৬:৩২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে শুরু হয়েছে তিন দিনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন। এই আয়োজনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তার অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার খবর নিশ্চিত করেছেন আয়োজকরা। সম্মেলনের যোগাযোগ ও প্রেস পরিচালক আনা স্টর্মার জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ড. ইউনূস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জোবাইদা রহমান। ডা. জোবাইদা পেশাগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দেশে জনস্বাস্থ্য সংস্কার ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তার কাজের জন্য এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। জার্মানির রাজধানী বার্লিনে তিন দিনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন শুরু হয়েছে আজ ১১ রোববার। বাংলাদেশ থেকে এই দুই অতিথির রোববার ও সোমবার দুটি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা উদোক্তারা জানিয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতবিনিময় ও সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত এ সম্মেলন প্রতি বছর আয়োজিত হয়।

রোববার থেকে শুরু হওয়া এবারের ‘ওয়াল্ড হেলথ সামিট ২০২৬’-এর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সংকট থেকে স্থিতিস্থাপকতা: স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভাবন।’ মঙ্গলবার পর্যন্ত চলমান এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নীতিনির্ধারক, চিকিৎসা বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ নিয়ে আলোচনা করছেন। বিজ্ঞান ও রাজনীতির সমন্বয়ে জনস্বাস্থ্যের সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করাই এই প্ল্যাটফর্মের অন্যতম লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে বার্লিনের শারিতে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রথম এই সম্মেলনের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

ড. ইউনূসের সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক পিটিশন ও বিক্ষোভের একটি বড় প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্মেলনের তিন সপ্তাহ আগে ইউরোপের পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংগঠন—সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ ইন জার্মানি, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স—যৌথভাবে একটি পিটিশন জমা দিয়েছিল। এতে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. ইউনূসের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। আয়োজকদের কাছে তাদের দাবি ছিল, তিনি যদি সম্মেলনে উপস্থিত থাকেন, তবে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য সংকট ও টিকাদান কার্যক্রমের ব্যর্থতা নিয়ে যেন প্রকাশ্যে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়। আক্রান্তদের ৭৯ শতাংশের বয়স ছিল পাঁচ বছরের নিচে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৩ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাবকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। ইউরোপীয় সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও জবাবদিহিতার দায় ড. ইউনূস এড়াতে পারেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৩ এপ্রিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী এবং ২ হাজার ৯৭৩টি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। একই সময়ে ১৬৬টি সন্দেহভাজন এবং ৩০টি নিশ্চিত হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। পিটিশনকারীদের বক্তব্য, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, টিকার প্রাপ্যতা ও সরবরাহ, সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে যে প্রশ্নগুলো বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সেগুলোর স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা প্রয়োজন।

ড. ইউনূসের অংশগ্রহণকে ঘিরে কেবল পিটিশন নয়, বরং কঠোর প্রতিবাদ কর্মসূচিও গড়ে ওঠে। জার্মান আওয়ামী লীগ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা সম্মেলন স্থলের বাইরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, যার জন্য বার্লিন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৪০০ জনের অংশগ্রহণের অনুমতিও নেওয়া হয়। শনিবার পুলিশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক মিজানুর হক খানকে জানানো হয় যে ড. ইউনূস সম্মেলনে থাকছেন না। মূলত বিভিন্ন মহলের চাপ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণেই তিনি এই আয়োজন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।