Hi

০৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলা: নিন্দা ও উদ্বেগে বিশ্ব

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চালানো ভয়াবহ হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১২ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, এই হামলার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এছাড়া জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের একজন করে নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘ। সাম্প্রতিক হামলার খবর আমরা মাত্রই পেয়েছি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, চলতি সপ্তাহে রিয়াদের এই বিমানবন্দরে হুতিদের এটি ছিল তৃতীয় হামলা। গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের সাথে হুতিদের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এমন হামলার ঘটনা ঘটল। একদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের পাশে লড়াই করছে সৌদি জোট, অন্যদিকে হুতিরা ইরানের সমর্থন নিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর স্থলযুদ্ধে সহায়তা করতে সৌদি আরবও বিমান হামলা চালাচ্ছে।

এই হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও ওয়াশিংটন বিবেচনা করছে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলায় একজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে সৌদি আরবের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যোগ দেওয়া উচিত কি না, তা বিবেচনা করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। হুথিদের হামলা সহ্য করা যায় না: জাপান।

জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ এই হামলাকে সংঘাতের এক গুরুতর বিস্তার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেন, বেসামরিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি এবং ইয়েমেনে চলমান শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে। পাশাপাশি সহিংসতার চক্রকে দীর্ঘায়িত করে এবং ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে।

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিসর ও কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মিসরের বিবৃতিতে একে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। দোহা জানিয়েছে, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সুরক্ষা নিশ্চিতে দেশটি যেসব বৈধ পদক্ষেপ নেবে, তাতে কাতারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দেশটির নাগরিকদের সুরক্ষায় নেওয়া সব পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন দিয়েছে।

জাপানও এ ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, কোনো পরিস্থিতির অজুহাতেই বেসামরিক মানুষের ওপর এমন হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৌদি আরবের প্রতি বিশ্বব্যাপী সমর্থন স্পষ্ট করছে। তবে একই সঙ্গে এই সংঘাতের বিস্তার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ পাচ্ছে বিভিন্ন দেশের বক্তব্যে। নিহত ব্যক্তিদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’।

জনপ্রিয়

বরিশালের চৌমাথায় বিসিসির ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলা: নিন্দা ও উদ্বেগে বিশ্ব

আপডেট : ০৫:১১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চালানো ভয়াবহ হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১২ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, এই হামলার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এছাড়া জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের একজন করে নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘ। সাম্প্রতিক হামলার খবর আমরা মাত্রই পেয়েছি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, চলতি সপ্তাহে রিয়াদের এই বিমানবন্দরে হুতিদের এটি ছিল তৃতীয় হামলা। গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের সাথে হুতিদের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এমন হামলার ঘটনা ঘটল। একদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের পাশে লড়াই করছে সৌদি জোট, অন্যদিকে হুতিরা ইরানের সমর্থন নিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর স্থলযুদ্ধে সহায়তা করতে সৌদি আরবও বিমান হামলা চালাচ্ছে।

এই হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও ওয়াশিংটন বিবেচনা করছে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলায় একজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে সৌদি আরবের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যোগ দেওয়া উচিত কি না, তা বিবেচনা করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। হুথিদের হামলা সহ্য করা যায় না: জাপান।

জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ এই হামলাকে সংঘাতের এক গুরুতর বিস্তার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেন, বেসামরিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি এবং ইয়েমেনে চলমান শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে। পাশাপাশি সহিংসতার চক্রকে দীর্ঘায়িত করে এবং ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে।

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিসর ও কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মিসরের বিবৃতিতে একে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। দোহা জানিয়েছে, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সুরক্ষা নিশ্চিতে দেশটি যেসব বৈধ পদক্ষেপ নেবে, তাতে কাতারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দেশটির নাগরিকদের সুরক্ষায় নেওয়া সব পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন দিয়েছে।

জাপানও এ ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, কোনো পরিস্থিতির অজুহাতেই বেসামরিক মানুষের ওপর এমন হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৌদি আরবের প্রতি বিশ্বব্যাপী সমর্থন স্পষ্ট করছে। তবে একই সঙ্গে এই সংঘাতের বিস্তার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ পাচ্ছে বিভিন্ন দেশের বক্তব্যে। নিহত ব্যক্তিদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’।