Hi

০৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় অনিশ্চিত

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনিবার দুপুরের দিকে চালানো এই ভয়াবহ হামলায় মোট ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও তিন শতাধিক মানুষ। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এ বিষয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের কোন জেলায় এবং পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত হয়েছে যে, হামলায় নিহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এছাড়া আহত অবস্থায় চার বাংলাদেশিকে কিং খালিদ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় ও তাদের নিজ জেলার তথ্য সংগ্রহের জন্য মিশন কাজ করে যাচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় দ্রুততম সময়ে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার সব উদ্যোগ নেয়া হবে। সরকার বিদেশমৃত কোনো বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনাসহ সব ব্যয় বহনের প্রথা মেনে চলবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয়ে শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, সৌদি আরবে এর আগে হুতিদের আরেক দফা হামলায় এক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছিলেন। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে এই যুদ্ধে মোট ১৪ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। প্রবাসে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে এমন অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। রিয়াদ ও জেদ্দায় থাকা বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। মিশনের পক্ষ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে শামা ওবায়েদ বলেন, জীবিকার তাগিদে বাংলাদেশের মানুষ বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নিহতদের নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে হতে পারে। সরকার শুরু থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।

ফ্লাইট চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, হামলার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো উড়োজাহাজ বা ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য সরকারের কাছে আসেনি। হামলার সময় বিমানবন্দর এলাকায় বাংলাদেশের কোনো এয়ারক্রাফট ছিল কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে। বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় কোনো নাগরিক বা দেশের আকাশযান যাতে ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ওমরাহযাত্রীসহ সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিক সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সাথে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব মৃতদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয়

ক্ষমতায় গেলে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় অনিশ্চিত

আপডেট : ০৬:০১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনিবার দুপুরের দিকে চালানো এই ভয়াবহ হামলায় মোট ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও তিন শতাধিক মানুষ। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এ বিষয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের কোন জেলায় এবং পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত হয়েছে যে, হামলায় নিহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এছাড়া আহত অবস্থায় চার বাংলাদেশিকে কিং খালিদ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় ও তাদের নিজ জেলার তথ্য সংগ্রহের জন্য মিশন কাজ করে যাচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় দ্রুততম সময়ে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার সব উদ্যোগ নেয়া হবে। সরকার বিদেশমৃত কোনো বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনাসহ সব ব্যয় বহনের প্রথা মেনে চলবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয়ে শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, সৌদি আরবে এর আগে হুতিদের আরেক দফা হামলায় এক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছিলেন। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে এই যুদ্ধে মোট ১৪ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। প্রবাসে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে এমন অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। রিয়াদ ও জেদ্দায় থাকা বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। মিশনের পক্ষ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে শামা ওবায়েদ বলেন, জীবিকার তাগিদে বাংলাদেশের মানুষ বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নিহতদের নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে হতে পারে। সরকার শুরু থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।

ফ্লাইট চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, হামলার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো উড়োজাহাজ বা ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য সরকারের কাছে আসেনি। হামলার সময় বিমানবন্দর এলাকায় বাংলাদেশের কোনো এয়ারক্রাফট ছিল কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে। বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় কোনো নাগরিক বা দেশের আকাশযান যাতে ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ওমরাহযাত্রীসহ সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিক সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সাথে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব মৃতদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।