শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। পূজা শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে বিসর্জন ও পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকবে। পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সভায় এই তথ্য জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম। রোববার ১১ অক্টোবর আয়োজিত এই সভায় দেশের প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন। ইতোমধ্যে পুলিশের পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা: প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং বিসর্জন পরবর্তী সময়ের জন্য তিন স্তরের বিশেষ সুরক্ষা পরিকল্পনা।
- বিশেষায়িত ইউনিট: অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
- মনিটরিং: পুলিশ সদর দপ্তরসহ প্রতিটি ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল কাজ করবে।
- সিসিটিভি ও আলো: প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা এবং পর্যাপ্ত আলোর পাশাপাশি স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির সভায় গুরুত্বারোপ করে বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল যাতে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার কিংবা বিভ্রান্তিমূলক পোস্টের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সভায় অংশগ্রহণকারী পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আইজিপি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও দুর্গাপূজা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউর অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিমসহ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি এই সভায় যুক্ত হয়ে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ এবং এসবি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ। চন্দ্র দাস, ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক দল পূজা ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক অলোক বসু, রমনা কালী মন্দিরের সদস্য সচিব শ্রী মিঠুন কুমার দাস, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের ম্যানেজার স্বামী দেবধ্যানানন্দ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ ও সাধারণ।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন চালানোর জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে পূজা আয়োজকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 























