ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলতি মাসের ৮ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞা মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য এক চরম সংকটের বার্তা নিয়ে এসেছে। জাল ও নৌকানির্ভর জীবনযাপন করা এই মানুষগুলোর একমাত্র উপজীব্য মাছ ধরা। নদীতে মাছ ধরা বন্ধ হওয়া মানেই তাদের ঘরে খাবার ফুরিয়ে যাওয়া। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি জেলায় নদীতীরে বসবাসকারী এই মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষগুলো প্রতি বছরই নিষেধাজ্ঞার সময় চরম কষ্টে দিন কাটান। প্রতিবছর ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেই তাদের কপালে আর খাবার জোটে না।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয়ের তথ্যানুসারে, এই চারটি জেলায় মোট এক হাজার ৯০৫ জন মান্তা জেলে রয়েছেন। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সীমাবদ্ধতা এবং নিবন্ধনের জটিলতার কারণে সবাই জেলে কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন না। কার্যালয়টি জানায়, নিবন্ধিত জেলেদের অনেকেই এখনো কার্ড হাতে পাননি, তবে তাদের উপজেলা কমিটি থেকে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকৃত মান্তা জেলের সংখ্যার তুলনায় জেলে কার্ডধারীর সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশেরও কম। ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা / ‘সবাই জেলে কার্ড পান না, চালও পান না, আমরা কীভাবে বাঁচব?’। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ঝুঁকিতে সবজি রপ্তানি। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় সবাইকে জেলে কার্ডের আওতায় আনা যায়নি। এদের অনেককে চাল নেওয়ার জন্য টোকেন দেওয়া হলেও এখনো পাননি।
বরিশাল সদর উপজেলার লাহারহাটের চিত্রটি আরও করুণ। এখানে ১৭৮টি নৌকায় প্রায় এক হাজার মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন, অথচ তাদের মধ্যে মাত্র ৩৬ জন জেলে কার্ড পেয়েছেন। কার্ড পাওয়াদের মধ্যে আবার মাত্র নয়জন বরাদ্দকৃত চাল পেয়েছেন। বাকিরা টোকেন নিয়েও চালের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। লাহারহাটের মান্তা সর্দার জসিম সর্দার জানান, ১২৫ জনের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কার্ড পাননি অনেকেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নদীতে মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ জানা নেই তাদের। নিষেধাজ্ঞার সময় চাল না পাওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
কার্ড না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেল-জরিমানার মুখোমুখি হচ্ছেন। সর্দার জসিম জানান, সম্প্রতি মেহেন্দিগঞ্জে বসার ও রাজু নামে দুই জেলেকে মৎস্য বিভাগ কারাদণ্ড দিয়েছে এবং তাদের জাল জব্দ করেছে। একই চিত্র দেখা যায় চরবাড়িয়ায়, যেখানে ৪৪টি পরিবারের মধ্যে মাত্র নয়জন কার্ড পেয়েছেন। সেখানে শতাধিক শিশু রয়েছে জানিয়ে রানা সর্দার বলেন, শিশুরা ক্ষুধার যন্ত্রণা বোঝে না। তাদের মুখে খাবার তুলে দিতেই অভিভাবকরা ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নামেন এবং শাস্তি ভোগ করেন। শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিতে তাই আমাদের নৌকা নিয়ে নদীতে নামতে হয়।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিতের মতে, বরিশাল বিভাগে প্রায় ২ হাজার মান্তা পরিবারের মধ্যে ৫০০ জনের কম কার্ডধারী রয়েছেন। জীবনধারণের একমাত্র পথ মাছ ধরা হওয়ায় কার্ড না পেলে আইন ভঙ্গের ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক। ইয়ুথনেটের আরিফুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, জেলাটির চারটি স্থানে থাকা ২৯৫টি মান্তা পরিবারের মাত্র ৮৭ জন কার্ডের আওতায় এসেছেন।
বরিশাল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জামাল হোসেন জানান, সেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ জন মান্তা জেলে থাকলেও এ বছর ১৪২ জনসহ মোট ২০০ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। এরা আগামী বছর কার্ড পাবেন এবং চলতি বছর তাদের চাল পাওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে তিন লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জন নিবন্ধিত জেলের জন্য আট হাজার ৯৬২ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল জেলার ৭৯ হাজার ৮৯০ জন জেলের জন্য বরাদ্দ এক হাজার ৯৯৭ মেট্রিকটন চাল। বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে তিন লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জন নিবন্ধিত জেলের জন্য ২৫ কেজি করে মোট আট হাজার ৯৬২ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন বাবুগঞ্জ উপজেলায়।
সেখানে ২৩০টি মান্তা পরিবারের মধ্যে ১৯০টিকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে।
স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা এ এফ এম নাজমুল সালেহ জানান, এখনো ৪০টি পরিবার কার্ডের বাইরে থাকলেও তারা সরকারি চাল পাওয়ার যোগ্য। এছাড়া অন্যান্য খবরের মধ্যে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শনিবার ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না। এছাড়া স্কুলের ডিজিটাল রূপান্তরে ২১৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব ও ফর্টিসের জয়ের পাশাপাশি রূপপুরের প্রথম ইউনিটের ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে ঢাকার রমনার কাছে ককটেল বিস্ফোরণ ও মোটরসাইকেল বিক্রির মন্দা পরিস্থিতির কথাও জানা গেছে। তেলের দাম বাড়ার পর কমেছে মোটরসাইকেল বিক্রি। ৩ গোলে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিয়ে বিদায় ফর্টিসের। ঢাকায় পুরোনো রমনা থানার কাছে ককটেল বিস্ফোরণ।
রিপোর্টার নাম: 

























