Hi

০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষা সংকটে রাজপথে লাখো বিক্ষোভকারী

জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ফ্রান্সের রাজপথে আবারও নেমেছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি উদ্যোগের প্রতি চরম অনাস্থা জানিয়ে শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন কয়েক লাখ নাগরিক। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই জমায়েতে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষের উপস্থিতির কথা জানালেও, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। বিক্ষোভের কারণে প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘর, মুসে দর্সে এবং প্যারিস অপেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে এ দিন ফ্রান্সজুড়ে রাজপথে নামেন লাখো মানুষ।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী এমিলি গ্রঁদ্রি নামের এক মা রয়টার্সকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, সংকট মোকাবিলায় হাল ছেড়ে না দিয়ে রাজপথে ফেরা ছাড়া তাদের কোনো উপায় ছিল না। গত সপ্তাহে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি তার সন্তানকে আগলে রাখতে আবারও মিছিলে শামিল হয়েছেন। একই সুর শোনা গেছে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অ্যারনের কণ্ঠে। সে জানায়, তাদের স্কুল ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অথচ সরকার এসব বিষয়ে উদাসীন। পুলিশের বাধা প্রদানকে সে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছে। এমিলির ১৫ বছর বয়সী ছেলে অ্যারন বলেন, ‘আমাদের স্কুল ভবন জরাজীর্ণ। ‘এভাবে হাল ছেড়ে দেওয়া যায় না, আমাদেরকে রাজপথে ফিরতেই হতো।

বিক্ষোভের উত্তাপ ছড়িয়েছে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের মধ্যেও। ক্লারা লেব্বাদি নামের ২২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী দোকানপাটের ভাঙচুরের চেয়েও মানুষের ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আরেক শিক্ষার্থী লাওয়ের মতে, ভয় পেয়ে আন্দোলন থামিয়ে দিলে দাবি আদায় সম্ভব নয়। এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিক্ষক বেনেদিক্ত পিত্তিওঁ জানান, নিজের ১৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে তিনি মিছিলে দাঁড়িয়েছেন কারণ সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া মিলছে না। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকিং পরামর্শক পিয়ের তার আট বছর বয়সী নাতনির ভবিষ্যতের কথা ভেবে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শনিবার দিনগত রাতে প্যারিস ও মার্সেই শহরে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে যোগাযোগকর্মী নাদেজ জানান, জনমনে ভয় থাকলেও নিজেদের মৌলিক অধিকার রক্ষার তাগিদেই তারা রাজপথ ছাড়ছেন না। এ ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করাই এখন বিক্ষোভকারীদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ: ৪ সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষা সংকটে রাজপথে লাখো বিক্ষোভকারী

আপডেট : ০৬:৫০:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ফ্রান্সের রাজপথে আবারও নেমেছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি উদ্যোগের প্রতি চরম অনাস্থা জানিয়ে শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন কয়েক লাখ নাগরিক। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই জমায়েতে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষের উপস্থিতির কথা জানালেও, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। বিক্ষোভের কারণে প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘর, মুসে দর্সে এবং প্যারিস অপেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে এ দিন ফ্রান্সজুড়ে রাজপথে নামেন লাখো মানুষ।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী এমিলি গ্রঁদ্রি নামের এক মা রয়টার্সকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, সংকট মোকাবিলায় হাল ছেড়ে না দিয়ে রাজপথে ফেরা ছাড়া তাদের কোনো উপায় ছিল না। গত সপ্তাহে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি তার সন্তানকে আগলে রাখতে আবারও মিছিলে শামিল হয়েছেন। একই সুর শোনা গেছে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অ্যারনের কণ্ঠে। সে জানায়, তাদের স্কুল ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অথচ সরকার এসব বিষয়ে উদাসীন। পুলিশের বাধা প্রদানকে সে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছে। এমিলির ১৫ বছর বয়সী ছেলে অ্যারন বলেন, ‘আমাদের স্কুল ভবন জরাজীর্ণ। ‘এভাবে হাল ছেড়ে দেওয়া যায় না, আমাদেরকে রাজপথে ফিরতেই হতো।

বিক্ষোভের উত্তাপ ছড়িয়েছে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের মধ্যেও। ক্লারা লেব্বাদি নামের ২২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী দোকানপাটের ভাঙচুরের চেয়েও মানুষের ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আরেক শিক্ষার্থী লাওয়ের মতে, ভয় পেয়ে আন্দোলন থামিয়ে দিলে দাবি আদায় সম্ভব নয়। এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিক্ষক বেনেদিক্ত পিত্তিওঁ জানান, নিজের ১৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে তিনি মিছিলে দাঁড়িয়েছেন কারণ সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া মিলছে না। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকিং পরামর্শক পিয়ের তার আট বছর বয়সী নাতনির ভবিষ্যতের কথা ভেবে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শনিবার দিনগত রাতে প্যারিস ও মার্সেই শহরে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে যোগাযোগকর্মী নাদেজ জানান, জনমনে ভয় থাকলেও নিজেদের মৌলিক অধিকার রক্ষার তাগিদেই তারা রাজপথ ছাড়ছেন না। এ ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করাই এখন বিক্ষোভকারীদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।