Hi

১১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সানি দেওলের দুই ছেলের সঙ্গেই জুটি বেঁধে অভিনয়ে নজির গড়লেন উদীয়মান অভিনেত্রী কানিকা কাপুর

বলিউড অভিনেতা সানি দেওলের দুই পুত্র—রাজবীর দেওল এবং কারণ দেওলের বিপরীতে অভিনয় করে বর্তমানে বিনোদন জগতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তরুণ অভিনেত্রী কানিকা কাপুর। এর আগে রাজবীর দেওলের সঙ্গে ‘দোনো’ চলচ্চিত্রে কাজের মাধ্যমে বড় পর্দায় নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। এবার রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনায় এবং প্রখ্যাত অভিনেতা-নির্মাতা আমির খানের প্রযোজনায় নির্মিতব্য ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ছবি ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এ কারণ দেওলের সঙ্গে তাঁকে স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যাবে। এই চলচ্চিত্রে সানি দেওল ছাড়াও প্রীতি জিনতা, শাবানা আজমি এবং আলী ফজলের মতো নামী তারকারা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিটির মুক্তির প্রাক্কালে বলিউড হাঙ্গামাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কানিকা কাপুর তাঁর অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা, কিংবদন্তি সানি দেওল এবং তাঁর দুই পুত্রের সঙ্গে কাজের পেছনের গল্পগুলো অকপটে শেয়ার করেছেন।

চলচ্চিত্র মুক্তির আগে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কানিকা জানান যে তাঁর মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া কাজ করছে। দর্শকের ইতিবাচক সাড়ার কারণে যেমন রোমাঞ্চ ও উত্তেজনা রয়েছে, তেমনি বড় ব্যপ্তির এই প্রজেক্টের অংশ হতে পেরে কিছুটা ভীতি এবং নার্ভাসনেসও কাজ করছে তাঁর মধ্যে। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দোনো’ সিনেমাটি দেখার পরই পরিচালক রাজকুমার সন্তোষী তাঁর কাজের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং পরবর্তীতে এই চরিত্রের জন্য তাঁকে অডিশন দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। কানিকা উল্লেখ করেন যে, যখন কোনো বড় প্রোজেক্টের নাম না জেনে অডিশন দিতে হয়, তখন মানসিক চাপ কিছুটা কম থাকে। কিন্তু যখন তিনি জানতে পারলেন রাজকুমার সন্তোষীর মতো হেভিওয়েট নির্মাতার বিশাল পরিসরের ছবির জন্য তিনি স্ক্রিন টেস্ট দিচ্ছেন, তখন তাঁর ওপর প্রত্যাশার চাপ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। কঠোর পরিশ্রম ও একাধিক অডিশনের মাধ্যমেই তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ চরিত্রটি নিজের আয়ত্তে আনেন।

সানি দেওলের দুই ভাইয়ের সঙ্গেই অভিনয়ের এই সুযোগটিকে কানিকা একটি দারুণ কাকতালীয় ঘটনা বলে মনে করেন। ‘দোনো’ ছবির থাইল্যান্ড শিডিউলের সময় সানি দেওল তাঁর পরিবার নিয়ে শুটিং স্পটে উপস্থিত হলে সেখানেই প্রথম কারণ দেওলের সঙ্গে কানিকার পরিচয় হয়। ফলে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ ছবির প্রস্তুতিপর্বে তাদের মধ্যে পূর্বপরিচিতির কারণে খুব দ্রুতই গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সাধারণত বলিউডে স্টারকিডদের নিয়ে নানা নেতিবাচক গুঞ্জন বা তাদের অতিরিক্ত অহংকার নিয়ে মানুষের মনে যে পূর্বধারণা থাকে, কারণ ও রাজবীরের সঙ্গে কাজ করার পর কানিকার সেই ধারণার সম্পূর্ণ অবসান ঘটেছে। তিনি বলেন, এই দুই ভাই অত্যন্ত বিনয়ী, মাটির মানুষ এবং তাঁদের পারিবারিক মূল্যবোধ ও শিষ্টাচার অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে তিনি কিংবদন্তি অভিনেতা সানি দেওলের ব্যক্তিত্বেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানান যে সানি স্যারের সহজ-সরল ও বিনম্র আচরণ থেকেই তাঁর সন্তানরা এই গুণগুলো অর্জন করেছে।

সানি দেওলের বিখ্যাত রূক্ষ মেজাজ বা শুটিং সেটে তাঁর উচ্চস্বরে চিৎকারের বিষয়েও কথা বলেছেন কানিকা। এর আগে অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা জানিয়েছিলেন যে সানির চিৎকারে তিনি ভয় পেয়ে কেঁপে উঠেছিলেন। কানিকা জানান, ছবির সেটে কারণের সঙ্গে শুটিংয়ের ফাঁকে দূর থেকেই তিনি সানি দেওলের অভিনয় ও প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেতেন। বিশেষ করে যেখানে সানিকে ক্ষিপ্ত বা উচ্চস্বরে সংলাপ বলতে হতো, সেই দৃশ্যগুলোর তীব্রতা দূর থেকেও তাঁকে বেশ শিহরিত করত। তা ছাড়া, পরিচালক রাজকুমার সন্তোষীর কাজের শৈলী প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কানিকা জানান যে স্ক্রিপ্ট রিডিং এবং মহড়ার সময় পরিচালক নিজে চরিত্রগুলোর আবেগ ও অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলে অভিনেতাদের নিখুঁতভাবে গাইড করতেন, যা তাঁর অভিনয় দক্ষতাকে আরও পরিপক্ব করে তুলতে সাহায্য করেছে।

দিল্লির মেয়ে কানিকা কাপুরের অভিনয় যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৩ বছর বয়সে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। পরবর্তীতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি তিনি মডেলিং ও ফ্যাশন দুনিয়ায় নিজের পদচারণা বাড়ান। ২০১৫ সালে তেলেগু ছবি ‘তিপ্পু’-র মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটার পর তিনি টেলিভিশন ধারাবাহিক, বিজ্ঞাপন এবং জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষ করে হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘এক দুজে কে ভাস্তে ২’-এ সুমন তিওয়ারির চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিতি লাভ করেন। সম্প্রতি ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ ছবির পোস্টারে তাঁর লুক প্রকাশের পর অনেকেই তাঁকে কিয়ারা আদভানির সঙ্গে গুলিয়ে ফেললেও, এই তরুণ অভিনেত্রী তাঁর নিজস্ব অভিনয় মেধা ও পরিশ্রমের বলে আজ বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের একটি স্থায়ী ও শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন।

জনপ্রিয়

এসএসসি পাসের আনন্দ নিমিষেই বিষাদে: ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল মেধাবী সোনালীর

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সানি দেওলের দুই ছেলের সঙ্গেই জুটি বেঁধে অভিনয়ে নজির গড়লেন উদীয়মান অভিনেত্রী কানিকা কাপুর

আপডেট : ০৮:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

বলিউড অভিনেতা সানি দেওলের দুই পুত্র—রাজবীর দেওল এবং কারণ দেওলের বিপরীতে অভিনয় করে বর্তমানে বিনোদন জগতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তরুণ অভিনেত্রী কানিকা কাপুর। এর আগে রাজবীর দেওলের সঙ্গে ‘দোনো’ চলচ্চিত্রে কাজের মাধ্যমে বড় পর্দায় নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। এবার রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনায় এবং প্রখ্যাত অভিনেতা-নির্মাতা আমির খানের প্রযোজনায় নির্মিতব্য ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ছবি ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এ কারণ দেওলের সঙ্গে তাঁকে স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যাবে। এই চলচ্চিত্রে সানি দেওল ছাড়াও প্রীতি জিনতা, শাবানা আজমি এবং আলী ফজলের মতো নামী তারকারা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিটির মুক্তির প্রাক্কালে বলিউড হাঙ্গামাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কানিকা কাপুর তাঁর অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা, কিংবদন্তি সানি দেওল এবং তাঁর দুই পুত্রের সঙ্গে কাজের পেছনের গল্পগুলো অকপটে শেয়ার করেছেন।

চলচ্চিত্র মুক্তির আগে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কানিকা জানান যে তাঁর মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া কাজ করছে। দর্শকের ইতিবাচক সাড়ার কারণে যেমন রোমাঞ্চ ও উত্তেজনা রয়েছে, তেমনি বড় ব্যপ্তির এই প্রজেক্টের অংশ হতে পেরে কিছুটা ভীতি এবং নার্ভাসনেসও কাজ করছে তাঁর মধ্যে। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দোনো’ সিনেমাটি দেখার পরই পরিচালক রাজকুমার সন্তোষী তাঁর কাজের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং পরবর্তীতে এই চরিত্রের জন্য তাঁকে অডিশন দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। কানিকা উল্লেখ করেন যে, যখন কোনো বড় প্রোজেক্টের নাম না জেনে অডিশন দিতে হয়, তখন মানসিক চাপ কিছুটা কম থাকে। কিন্তু যখন তিনি জানতে পারলেন রাজকুমার সন্তোষীর মতো হেভিওয়েট নির্মাতার বিশাল পরিসরের ছবির জন্য তিনি স্ক্রিন টেস্ট দিচ্ছেন, তখন তাঁর ওপর প্রত্যাশার চাপ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। কঠোর পরিশ্রম ও একাধিক অডিশনের মাধ্যমেই তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ চরিত্রটি নিজের আয়ত্তে আনেন।

সানি দেওলের দুই ভাইয়ের সঙ্গেই অভিনয়ের এই সুযোগটিকে কানিকা একটি দারুণ কাকতালীয় ঘটনা বলে মনে করেন। ‘দোনো’ ছবির থাইল্যান্ড শিডিউলের সময় সানি দেওল তাঁর পরিবার নিয়ে শুটিং স্পটে উপস্থিত হলে সেখানেই প্রথম কারণ দেওলের সঙ্গে কানিকার পরিচয় হয়। ফলে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ ছবির প্রস্তুতিপর্বে তাদের মধ্যে পূর্বপরিচিতির কারণে খুব দ্রুতই গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সাধারণত বলিউডে স্টারকিডদের নিয়ে নানা নেতিবাচক গুঞ্জন বা তাদের অতিরিক্ত অহংকার নিয়ে মানুষের মনে যে পূর্বধারণা থাকে, কারণ ও রাজবীরের সঙ্গে কাজ করার পর কানিকার সেই ধারণার সম্পূর্ণ অবসান ঘটেছে। তিনি বলেন, এই দুই ভাই অত্যন্ত বিনয়ী, মাটির মানুষ এবং তাঁদের পারিবারিক মূল্যবোধ ও শিষ্টাচার অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে তিনি কিংবদন্তি অভিনেতা সানি দেওলের ব্যক্তিত্বেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানান যে সানি স্যারের সহজ-সরল ও বিনম্র আচরণ থেকেই তাঁর সন্তানরা এই গুণগুলো অর্জন করেছে।

সানি দেওলের বিখ্যাত রূক্ষ মেজাজ বা শুটিং সেটে তাঁর উচ্চস্বরে চিৎকারের বিষয়েও কথা বলেছেন কানিকা। এর আগে অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা জানিয়েছিলেন যে সানির চিৎকারে তিনি ভয় পেয়ে কেঁপে উঠেছিলেন। কানিকা জানান, ছবির সেটে কারণের সঙ্গে শুটিংয়ের ফাঁকে দূর থেকেই তিনি সানি দেওলের অভিনয় ও প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেতেন। বিশেষ করে যেখানে সানিকে ক্ষিপ্ত বা উচ্চস্বরে সংলাপ বলতে হতো, সেই দৃশ্যগুলোর তীব্রতা দূর থেকেও তাঁকে বেশ শিহরিত করত। তা ছাড়া, পরিচালক রাজকুমার সন্তোষীর কাজের শৈলী প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কানিকা জানান যে স্ক্রিপ্ট রিডিং এবং মহড়ার সময় পরিচালক নিজে চরিত্রগুলোর আবেগ ও অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলে অভিনেতাদের নিখুঁতভাবে গাইড করতেন, যা তাঁর অভিনয় দক্ষতাকে আরও পরিপক্ব করে তুলতে সাহায্য করেছে।

দিল্লির মেয়ে কানিকা কাপুরের অভিনয় যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৩ বছর বয়সে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। পরবর্তীতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি তিনি মডেলিং ও ফ্যাশন দুনিয়ায় নিজের পদচারণা বাড়ান। ২০১৫ সালে তেলেগু ছবি ‘তিপ্পু’-র মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটার পর তিনি টেলিভিশন ধারাবাহিক, বিজ্ঞাপন এবং জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষ করে হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘এক দুজে কে ভাস্তে ২’-এ সুমন তিওয়ারির চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিতি লাভ করেন। সম্প্রতি ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ ছবির পোস্টারে তাঁর লুক প্রকাশের পর অনেকেই তাঁকে কিয়ারা আদভানির সঙ্গে গুলিয়ে ফেললেও, এই তরুণ অভিনেত্রী তাঁর নিজস্ব অভিনয় মেধা ও পরিশ্রমের বলে আজ বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের একটি স্থায়ী ও শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন।