দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩ আগস্ট দেশে ফিরেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তার ফিরে আসার খবরে বিনোদন অঙ্গনসহ সারা দেশের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মেঘ কাটছে না। দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার ফলে প্রবীণ এই অভিনেতার শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিনেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর সহ-সভাপতি লিটন এরশাদ জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির ধকল সহ্য করার কারণে ইলিয়াস কাঞ্চনের স্বাভাবিক চলাফেরা ও স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব পড়েছে। তিনি অনেক পরিচিত মানুষকেই বর্তমানে চিনতে পারছেন না এবং অনেক সাধারণ তথ্য মনে রাখতেও হিমশিম খাচ্ছেন। লিটন এরশাদ একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, সম্প্রতি জুমার নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় অভিনেতা হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন, যা তার শারীরিক ভঙ্গুরতারই বহিঃপ্রকাশ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসায় ইলিয়াস কাঞ্চনকে প্রায় ১০০টির মতো রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপির দীর্ঘ সেশন সম্পন্ন করতে হয়েছে। এই ধরনের নিবিড় চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেই স্নায়বিক দুর্বলতা ও স্মৃতিভ্রমের মতো সমস্যা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, চিকিৎসা শেষে টিউমারের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, যা তার সেরে ওঠার পথে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামীতে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা তার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।
গত বছরের শুরুতে মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ার পর ২৬ এপ্রিল চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে পাড়ি জমান এই নন্দিত অভিনেতা। লন্ডনের হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে প্রাথমিক ধাপ শেষ করে পরবর্তীতে উইলিংটন হাসপাতালে অধ্যাপক ডিমিট্রিয়াসের তত্ত্বাবধানে তার মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে আবারও ফলোআপ চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যেতে হতে পারে বলে জানা গেছে।
দেশবরেণ্য এই অভিনেতার শারীরিক অবস্থার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর চলচ্চিত্রাঙ্গনের সহকর্মী ও ভক্তরা নিয়মিত তার খোঁজখবর নিচ্ছেন। এরই মধ্যে চিত্রনায়ক আলমগীর, অভিনেত্রী রোজিনা ও শবনমসহ অনেকে তার বাসভবনে গিয়ে দেখা করেছেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেশজুড়ে অগণিত ভক্ত তার সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। দেশের চলচ্চিত্র ও সামাজিক আন্দোলনের অবিসংবাদিত এই নেতা যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, এখন সেটাই সবার কাম্য।
রিপোর্টার নাম: 























