আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ৫০তম বিসিএস মৌখিক পরীক্ষা। বিসিএস ভাইভা কেবল সাধারণ জ্ঞানের পরীক্ষা নয়, বরং এটি একজন প্রার্থীর বুদ্ধিমত্তা, উপস্থাপনা শৈলী এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার দক্ষতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভাইভার প্রশ্নের ধরনে প্রতিনিয়ত আধুনিকায়ন আনছে। বিশেষ করে বিগত কয়েক বছরের ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেবল মুখস্থ তথ্যের চেয়ে প্রার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী, পরিস্থিতিগত (Situational) এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার হার অনেক বেশি।
প্রস্তুতির শুরুতেই গত কয়েকটি বিসিএসের ভাইভা অভিজ্ঞতার আলোকে গ্রুপ স্টাডি করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ৪৭তম বিসিএসসহ সাম্প্রতিক ভাইভাগুলোতে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছে, সেগুলোর একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে সহপাঠীদের সাথে চর্চা করা কার্যকর। নিজের পরিচয়, জেলার ইতিহাস, নামের অর্থ এবং অনার্স বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান নিয়ে নিজস্ব নোট তৈরি করতে হবে। গাইডের গৎবাঁধা উত্তরের চেয়ে স্বকীয়তা বজায় রাখা ভাইভা বোর্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া ‘সততার প্রমাণ’, ‘একজন বিনিয়োগকারীকে কীভাবে প্রভাবিত করবেন’ বা ‘গাণিতিক ধাঁধা’র মতো প্রশ্নগুলোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ঘটনাপ্রবাহ যেমন—জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে স্বচ্ছ ধারণা রাখা জরুরি। এছাড়া ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব যেমন মওলানা ভাসানী, জেনারেল ওসমানী বা সমসাময়িক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে। প্রার্থীরা তাদের প্রথম পছন্দের ক্যাডার অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কাজ এবং আইনকানুন সম্পর্কে গভীর পড়াশোনা করবেন। যেমন—প্রশাসনের জন্য ডিসি অফিসের কার্যক্রম, পুলিশের জন্য পুলিশ সংস্কার কমিশন বা স্বাস্থ্য ক্যাডারের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং জলবায়ু সম্মেলনসহ বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। ভাইভা পরীক্ষার দিনের সকালের সংবাদপত্র পড়া একটি অলিখিত নিয়ম, কারণ বোর্ড অনেক সময় তাৎক্ষণিক খবর থেকেও প্রশ্ন করে থাকে। পরিশেষে, নিজের আত্মবিশ্বাস, মার্জিত বাচনভঙ্গি এবং ধৈর্য বজায় রাখাই হবে চূড়ান্ত সাফল্যের চাবিকাঠি। একজন আগামীর সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দেশের নীতি নির্ধারণ এবং সামগ্রিক উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠলে ভাইভা বোর্ডে সফল হওয়া অনেকটা সহজ হয়ে যায়।
রিপোর্টার নাম: 






















